শিরোনাম

শিক্ষা খাতে এখনো অসন্তোষ

প্রিন্ট সংস্করণ॥রাসেল মাহমুদ  |  ০০:২০, সেপ্টেম্বর ১২, ২০১৮

দশম জাতীয় সংসদের শেষ অধিবেশন শুরু হয়েছে। এ মাসের ২০ তারিখেই শেষ হবে এ অধিবেশন। আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন সরকারের মেয়াদ শেষ হতে আর বেশি দেরি নেই। আগামী ডিসেম্বরে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের কথা রয়েছে। দেশের প্রধান রাজনৈতিক দল আওয়ামী লীগ টানা দুই মেয়াদে সরকার গঠন করলেও দ্বিতীয় মেয়াদের শেষ সময়ে এসেও দেশের শিক্ষা খাতের অস্থিরতা কাটেনি। বরং সরকারের শেষ সময়ে এসেও এ খাতে রয়েছে চরম অসন্তোষ। কোটা আন্দোলন, সরকারি চাকরিতে প্রবেশের বয়সবৃদ্ধি, বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় জাতীয়করণ, এমপিওভুক্তি, বেসরকারি শিক্ষক-কর্মচারীদের চাকরি জাতীয়করণসহ বেশকিছু দাবিতে এখনো মাঠে রয়েছেন শিক্ষার্থী ও শিক্ষক-কর্মচারীরা। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, আওয়ামী লীগ শিক্ষাবান্ধব সরকার। তাই এ সরকারের আমলে বিষয়গুলোর যৌক্তিক সমাধান না হলে পরবর্তীতে তা হওয়া নিয়ে অনিশ্চয়তা দেখা দেবে। খোঁজ নিয়ে জানা যায়, চলতি বছরের শুরু থেকেই কোটা আন্দোলন, সরকারি চাকরিতে প্রবেশের বয়সবৃদ্ধি, বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় জাতীয়করণ, এমপিওভুক্তি, বেসরকারি শিক্ষক-কর্মচারীদের চাকরি জাতীয়করণসহ বিভিন্ন দাবিতে আন্দোলন করছেন শিক্ষার্থী-শিক্ষকরা। সরকারের সংশ্লিষ্ট দায়িত্বশীল ব্যক্তিদের আশ্বাসে একাধিকবার এসব আন্দোলন স্থগিত হয়। কিন্তু শেষ পর্যন্ত সেসব আশ্বাস বাস্তবে রূপ না নেওয়ায় আবারও আন্দোলন শুরু হয়। ফলে অসন্তোষ নিয়েই চলতে থাকেন শিক্ষার্থী-শিক্ষকরা।এদিকে সরকারের মেয়াদ শেষ হতে বেশি দেরি নেই বলেই আবারো মাঠে নামার ঘোষণা দিয়েছে একাধিক সংগঠন। এসব সংগঠনের নেতারা বলছেন, দাবি আদায় না করা পর্যন্ত ঘরে ফিরবেন না।কোটা সংস্কার আন্দোলন : সরকারের দ্বিতীয় মেয়াদের শেষ বছর অর্থাৎ ২০১৮ সালের শুরু থেকেই কোটা সংস্কারের দাবিতে আন্দোলন শুরু হয়। জানুয়ারি থেকে মার্চ পর্যন্ত থেমে থেমে কর্মসূচি চললেও এপ্রিলে এসে তা চরম আকার ধারণ করে। কোটা আন্দোলনের প্লাটফর্ম বাংলাদেশ সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদের ব্যানারে প্রথমে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে আন্দোলন শুরু হয়। কিন্তু পরে তা সারাদেশে ছড়িয়ে পড়ে। শিক্ষার্থীদের দাবির মুখে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গত ১১ এপ্রিল জাতীয় সংসদে দাঁড়িয়ে কোটা বাতিলের ঘোষণা দেন। পরে আন্দোলন স্থগিত করে শিক্ষার্থীরা। কিন্তু মুক্তিযোদ্ধা কোটা বাতিল হবে না মর্মে সরকারের পক্ষ থেকে ঘোষণা এলে আবার আন্দোলনে নামে শিক্ষার্থীরা। পরে আন্দোলনের মুখে মন্ত্রিপরিষদ সচিব মোহাম্মদ শফিউল আলমকে প্রধান করে কোটা পর্যালোচনা, সংস্কার বা সংরক্ষণের জন্য গত ২ জুলাই ৭ সদস্যের একটি কমিটি করে সরকার। সে কমিটিকে ১৫ দিনের মধ্যে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়। কিন্তু গত ১৯ জুলাই কমিটির মেয়াদ আরও ৯০ দিন বাড়ানো হয়। এদিকে কোটা সংস্কার আন্দোলনকে কেন্দ্র করে আন্দোলনের সঙ্গে জড়িত কয়েকজন নেতাকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। বর্তমানে তারা জামিনে থাকলেও একাধিক নেতার বিরুদ্ধে মামলা চলমান। আর এই মামলা প্রত্যাহার এবং প্রজ্ঞাপনের দাবিতে এ মাসেই আবার আন্দোলনে যেতে চায় বাংলাদেশ সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদের নেতারা। সংগঠনটির কেন্দ্রীয় কমিটির আহ্বায়ক হাসান আল মামুন আমার সংবাদকে বলেন, ‘কোটা সংস্কারের দাবি আমাদের প্রাণের দাবি। আমরা সরকারকে যে ৫ দফা দাবি জানিয়েছি তার আলোকে প্রজ্ঞাপন জারি এবং আন্দোলনে সম্পৃক্ত নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে হওয়া মামলা প্রত্যাহারের দাবিতে এ মাসেই আমরা নতুন কর্মসূচির ঘোষণা দেবো।’

বেসরকারি শিক্ষক-কর্মচারীদের চাকরি জাতীয়করণ
চাকরি জাতীয়করণের দাবিতে অনেকদিন ধরেই আন্দোলন করে আসছেন বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-কর্মচারীরা। তাদের দাবি সরকার ২০১৫ সালের জুলাই থেকে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ৫ শতাংশ বৈশাখী ভাতা দিচ্ছে। যা সরকারি স্কুল, কলেজ ও মাদ্রাসা শিক্ষক-কর্মচারীরা পেয়ে থাকেন। তবে বেসরকারি স্কুল, কলেজ ও মাদ্রাসার কেউ তা পান না। জাতীয়করণ না হওয়ায় তারা এসব সুবিধা থেকে বঞ্চিত। তাই চাকরি জাতীয়করণের জন্য এবার আল্টিমেটাম দিয়েছেন তারা। আগামী ৩০ সেপ্টেম্বরের মধ্যে জাতীয়করণের ঘোষণা না দিলে আগামী ৫ অক্টোবর বিশ্ব শিক্ষক দিবসে রাজধানীতে মহাঅবস্থান কর্মসূচি পালন করবে তারা। এছাড়া ১৮টি সংগঠনের সমন্বয়ে গঠিত বৃহত্তম মোর্চা বেসরকারি শিক্ষক-কর্মচারী চাকরি জাতীয়করণ বাস্তবায়ন কমিটির মাধ্যমে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে তালা ঝোলানোর কর্মসূচি দেওয়ার চিন্তাও রয়েছে শিক্ষক-কর্মচারীদের।‘চাকরি জাতীয়করণ বাস্তবায়ন কমিটি’র চেয়ারম্যান অধ্যক্ষ সেলিম ভূঁইয়া বলেন, ‘চাকরি জাতীয়করণের দাবিতে আমরা অনেকবার আলটিমেটাম দিয়েছি। কিন্তু সরকার সহানুভূতিশীল হয়নি। এমনকি শিক্ষকদের সঙ্গে আলোচনার প্রয়োজনীয়তাও অনুভব করেনি। তাই ৩০ সেপ্টেম্বরের মধ্যে চাকরি জাতীয়করণের ঘোষণা দেওয়া না হলে আগামী ৫ অক্টোবর ঢাকায় মহাঅবস্থান কর্মসূচি পালন করা হবে।’এদিকে একই দাবিতে আগামী ১২ সেপ্টেম্বর জাতীয় প্রেস ক্লাবে সংবাদ সম্মেলন ও মানববন্ধন কর্মসূচির ঘোষণা দিয়েছে বাংলাদেশ বেসরকারি শিক্ষক-কর্মচারী ফোরাম নামের একটি সংগঠন। সরকারের পক্ষ থেকে জাতীয়করণের আশ্বাস দেওয়ার পরও তা বাস্তবায়ন না হওয়ায় এ কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়েছে।সংগঠনটির সহ-সভাপতি মো. জালাল উদ্দিন আমার সংবাদকে বলেন, ‘জাতীয়করণের দাবিতে আমরা দীর্ঘদিন ধরে আন্দোলন করে আসছি। বিভিন্ন সময় আশ্বাসও পেয়েছি। কিন্তু শেষ পর্যন্ত তা বাস্তবায়ন হয়নি। তাই জাতীয়করণের দাবিতে ১২ সেপ্টেম্বর জাতীয় প্রেস ক্লাবে সংবাদ সম্মেলন ও মানববন্ধন করা হবে।’

বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় জাতীয়করণ
সরকারের শেষ সময়ে জাতীয়করণ থেকে বঞ্চিত সারাদেশের ৪ হাজার ১৫৯টি বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা জাতীয়করণের দাবিতে চলতি বছরের শুরু থেকে আন্দোলন করে আসছেন। চলতি বছরের ২১ জানুয়ারি থেকে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে অবস্থান কর্মসূচির মাধ্যমে দাবি জানায় তারা। পরে ২৬ জানুয়ারি থেকে আমরণ অনশন শুরু করে। তখন সরকারের সংশ্লিষ্ট ৩ জন সচিবের আশ্বাসে ১৮ দিন অনশন কর্মসূচি পালন শেষে ৭ ফেব্রুয়ারি তা স্থগিত ঘোষণা করা হয়।বাংলাদেশে বেসরকারি প্রাথমিক শিক্ষক সমিতির ব্যানারে এ কর্মসূচি পালিত হয়। সে আশ্বাসের পর কেটে গেছে প্রায় ৭ মাস। কিন্তু দাবি আদায় হয়নি। সর্বশেষ চলতি মাসের ৬ তারিখে জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে অবস্থান নেয় শিক্ষকরা। কিন্তু জাতীয়করণের দৃশ্যমান কোনো অগ্রগতি না দেখে চলতি মাসের ৬ তারিখে ফের আন্দোলনে নামে শিক্ষকরা। জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে শান্তিপূর্ণ অবস্থান কর্মসূচির মাধ্যমে দাবির কথা জানায় তারা। কিন্তু সেখানে বাধা দেয় পুলিশ।এদিকে পুলিশি বাধার প্রতিবাদ এবং জাতীয়করণের দাবিতে চলতি মাসেই ৪ দিনের কর্মসূচি রেখেছে বাংলাদেশ বেসরকারি প্রাথমিক শিক্ষক সমিতি। সংগঠনটির নেতারা মনে করছেন, এ সরকারের সময়ে বঞ্চিত স্কুলগুলো জাতীয়করণ না হলে পরবর্তীতে হবে কিনা তা অনিশ্চিত।বাংলাদেশে বেসরকারি প্রাথমিক শিক্ষক সমিতির সভাপতি মামুনুর রশিদ খোকন বলেন, ‘আমরা বিভিন্নভাবে আমাদের দাবির বিষয়টি জানিয়ে আসছি। এখনো আমরা আশা ছাড়িনি। এ মাসে আমাদের আরও ৩টি কর্মসূচি রয়েছে। দাবি আদায়ের জন্য প্রয়োজনে নতুন কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।’ তবে এ সরকারের সময়ে নতুন করে কোনো বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় জাতীয়করণ করা হবেনা বলে জানিয়েছেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষামন্ত্রী মুস্তাফিজুর রহমান। তিনি আমার সংবাদকে বলেন, ‘সরকারের এ সময়ের মধ্যে নতুন করে কোনো প্রাথমিক বিদ্যালয় জাতীয়করণ করা হবেনা।’

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ
সর্বশেষ
সর্বাধিক পঠিত