শিরোনাম

নির্বাচনের আগেই চাকরিতে প্রবেশের বয়সসীমা বাড়ছে

প্রিন্ট সংস্করণ॥বেলাল হোসেন  |  ০০:৪০, আগস্ট ১৮, ২০১৮

দেশে বেকারের সংখ্যা দিন দিন বেড়েই চলছে। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) সর্বশেষ হিসাব অনুযায়ী বাংলাদেশের মানুষের গড় আয়ু ৭২ বছর। তবে গড় আয়ু বৃদ্ধি পেলেও বাড়েনি চাকরিতে প্রবেশ ও অবসরের বয়সসীমা। বিশ্ববিদ্যালয়সহ বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে বড় ধরনের সেশনজট থাকার কারণে অনেকেরই স্নাতকোত্তর ডিগ্রি লাভ করতে বয়স হয়ে যায় প্রায় ২৫-২৬ বছর। এতে করে দেখা যায়, সরকারি চাকরির আবেদনের জন্য হাতে থাকে মাত্র ৪ থেকে ৫ বছর। চাকরিতে ৩০ বছর বয়সসীমা অনেক কমই বলে উল্লেখ করছেন বিশেষজ্ঞরা। এ ছাড়া অনেক চাকরিপ্রার্থী বলছেন, বর্তমানে সেশনজটসহ বিভিন্ন কারণে চাকরির আবেদনের বয়স শেষ হয়ে যায়। একজন প্রার্থী সরকারি চাকরিতে আবেদন করলে নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন হতে প্রায় ১ থেকে ২ বছর সময় লেগে যায় কিন্তু তা গণনা করা হয় না। উচ্চশিক্ষার হার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সেশনজট, গড় আয়ু বৃদ্ধির পরিপ্রেক্ষিতে চাকরিপ্রত্যাশীরা দীর্ঘদিন ধরেই চাকরিতে প্রবেশের বয়সসীমা ৩৫ বছর করার দাবি জানিয়ে আসছিলো। এ নিয়ে বেশ কয়েকবার রাজপথে নেমে আন্দোলন করেছে চাকরিপ্রার্থীরা। অপরদিকে, গড় আয়ু বৃদ্ধির কারণে প্রশাসনের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যেও চাকরি থেকে অবসরের বয়স বাড়ানোর দাবি রয়েছে। ক্রমেই এ দাবি জোরালো হচ্ছে। তারা বলছেন, সরকারের অর্থে কর্মকর্তারা দেশে-বিদেশে প্রশিক্ষণ নিয়ে, লেখাপড়া করে পেশাগতভাবে সমৃদ্ধ হয়ে যখন অবসরে যাচ্ছেন, তখন অনেকেই কর্মক্ষম থাকছেন। ফলে ৫৯ বছরকে চাকরি থেকে অবসরে যাওয়ার বয়স মনে করছেন না। এসব দিক বিবেচনা করে চলতি বছরের জুনে সরকারি চাকরিতে প্রবেশের বয়সসীমা ৩৫ বছর এবং অবসরের বয়সসীমা কমপক্ষে ৬৫ বছর করার পরামর্শ দিয়েছে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় সংক্রান্ত সংসদীয় স্থায়ী কমিটি। জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের বিশেষ সূত্রে জানা গেছে, জাতীয় নির্বাচনের আগেই সরকারি চাকরিতে প্রবেশের বয়সসীমা ও অবসর গ্রহণের সময় বাড়ানোর বিষয়টি ইতিবাচকভাবে দেখছে সরকার। বিশেষ করে, চাকরিতে বয়সসীমা বাড়ানোর বিষয়ে সর্বোচ্চ পর্যায় থেকে সিদ্ধান্ত আসতে পারে বলে জানায় সূত্রটি। তবে বয়সসীমা ৩৫ করা হবে কিনা এ বিষয়ে ধোঁয়াশা রয়ে গেছে। এ বিষয়ে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক কর্মকর্তা আমার সংবাদকে জানান, সংসদীয় স্থায়ী কমিটির একটা সুপারিশ পেয়েছি। এটা ঈদের পর পর্যালোচনা করা হবে। ইতোমধ্যে কাগজপত্র তৈরি করা হয়েছে। নির্বাচনের আগে হয়তো একটা ভালো কিছু আশা করা যেতে পারে বলে জানান এই কর্মকর্তা। প্রসঙ্গত, বর্তমানে সরকারি চাকরিতে প্রবেশের বয়সসীমা ৩০ বছর, মুক্তিযোদ্ধার সন্তানদের ক্ষেত্রে ৩২ বছর। এ ছাড়া ডাক্তারদের আবেদনের বয়স ৩২ বছর। নার্সদের ৩৬ বছর। আর সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের চাকরি থেকে অবসরের বয়স ৫৯ বছর। মুক্তিযোদ্ধাদের অবসরের বয়স ৬০ বছর। তবে পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকরা ৬৫ ও বিচারপতিরা ৬৭ বছর বয়সে অবসরের সুবিধা পাচ্ছেন। এশিয়ার বিভিন্ন দেশে বিশিষ ক্ষেত্রে সরকারি প্রবেশের বয়সসীমা ৪০ রয়েছে। ভারতের পশ্চিমবঙ্গে ৪০ বছর, শ্রীলঙ্কায় ৪৫ বছর, ইন্দোনেশিয়ায় ৪৫ বছর, ইতালিতে ৩৫ বছর, ফ্রান্সে ৪০ বছর, যুক্তরাষ্ট্রে ৫৯ বছর, কানাডা ও সুইডেনে ৪৭ বছর, কাতার ও নরওয়েতে ৩৫ বছর, এঙ্গোলায় ৪৫ বছর এবং তাইওয়ানে ৩৫ বছর।

 

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ
সর্বশেষ
সর্বাধিক পঠিত