শিরোনাম
ভুয়া মেডিকেল সার্টিফিকেটে মিথ্যা মামলা

গণপূর্ত স্টাফ কোয়ার্টারের ছাদে তালা দেয়ার সিদ্ধান্ত

প্রিন্ট সংস্করণ॥নিজস্ব প্রতিবেদক  |  ০১:১০, আগস্ট ১০, ২০১৮

‘ভুয়া মেডিকেল সার্টিফিকেটে মিথ্যা মামলা’ “সরকারি হাসপতালে দুর্নীতিবাজ ডাক্তার-দালাল একাকার” তদন্তে নেমেছে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী’ শিরোনামে প্রতিবেদন প্রকাশের পর এবার ঝিগাতলাস্থ গণপূর্ত বিভাগীয় স্টাফ কোয়ার্টার কল্যাণ সমিতি এক জরুরি বৈঠক করেছে। ওই বৈঠকে ভুয়া মেডিকেল সার্টিফিকেটে মামলা দায়েরকারী আব্দুর রাজ্জাকের ছেলে আমির হাসান কলোনীর অভ্যন্তরে পুলিশ কর্তৃক গ্রেপ্তার ও জামিনে বের হওয়ার বিষয়ে আব্দুর রাজ্জাককে আইনিভাবে ব্যবস্থা নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে। আর ১সি ও ২সি ব্লিডিংয়ের ছাদে তালা লাগানোর ব্যবস্থা ও তালার চাবিগুলো সমিতির সভাপতির নিকট জমা রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। উক্ত সভায় সমিতির সভাপতি বলেছেন, বর্তমান জঙ্গি, সন্ত্রাস ও মাদকবিরোধী অভিযান সরকারের একটি বড় চ্যালেঞ্জ। কোয়ার্টারের সকল এলোটিগণকে সতর্ক থাকা এবং সরকারকে সহযোগিতা করার জন্য অনুরোধ করা হয়। আর প্রত্যেক সদস্যের সন্তানদের প্রতি লক্ষ্য রাখার জন্য অনুরোধ করা হয়েছে। যাতে কেউ কোনো প্রকার খারাপ কাজে জড়িত না হন। আর সরকারি কাজ ব্যতিত কোয়ার্টারের ছাদে সব ধরনের গমনাগমন সম্পূর্ণ নিষেধ করা হয়। অপরদিকে গত ২৬ জুলাই দৈনিক আমার সংবাদে ‘ভুয়া মেডিকেল সার্টিফিকেটে মিথ্যা মামলা তদন্তে নেমেছে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী’ শিরোনামে প্রকাশিত সংবাদের প্রতিবাদ করেছেন গণপূর্ত ইএম বিভাগ-৮, মিরপুরের ক্যাশ সরকার আব্দুর রাজ্জাক। প্রতিবাদে তিনি বলেছেন, তার প্রতিবেশী নুরুল হক গত ৪ ফেব্রুয়ারি আমার অফিসে গিয়ে টাকা দাবি করেন। এরপর সহযোগীদের নিয়ে আমাকে মারধর করা হয়। এতে গুরুতর আহত হলে ঢামেক হাসপাতালে গিয়ে ভর্তি হই। এ ঘটনায় মামলা করা হয়। এছাড়া গত ১৬ জুলাই আমার ছেলে মো. আমির হাসানকে পুলিশ বাসা থেকে ধরে নিয়ে যায়। তার বিরুদ্ধে নিউমার্কেট থানায় মাদকসেবী হিসেবে মামলা দায়ের করে। মামলায় কাঁটাবন থেকে ২০০ গ্রাম গাঁজাসহ গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। যা পুরোপুরি মিথ্যা ও বানোয়াট বলে প্রতিবাদে দাবি করেছেন।  প্রতিবেদকের বক্তব্য, সুনির্দিষ্ট তথ্য প্রমাণ ও সরেজমিন খোঁজ নিয়ে সংবাদটি পরিবেশন করা হয়েছে। আর একাধিক গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যসহ তদন্তসংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের তথ্যের ভিত্তিতেই প্রতিবেদন করা হয়। আর প্রতিবেদনটি প্রকাশের পর আব্দুর রাজ্জাক জানান, ঢামেক হাসপাতালের আইসিইউতে ভর্তি হয়ে আধা ঘণ্টা পরই ইনজুরির সার্টিফিকেট নেই। পরে সেখান থেকে চলে এসে ওই সার্টিফিকেট দিয়েই মামলা দায়ের করা হয়েছে। মামলাটি বিচারাধীন রয়েছে। কিন্তু যে চিকিৎসকের কাছ থেকে সার্টিফিকেট নিয়েছেন, তার সন্ধান তিনি দিতে পারেননি। উল্লেখ্য, গত ২৯ জুন প্রথম প্রতিবেদনটি প্রকাশের পর বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থাসহ আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা ঢামেক হাসপাতালে সার্টিফিকেট ব্যবসায়ী, কথিত ডাক্তার ও দালালদের ওপর নজরদারি শুরু করে। আর এজন্য হাসপাতালের দালালদের আনাগোনা আগের চেয়ে অনেকটাই কমে যায়। গত ১৫ জুলাই বিকাল ৫টার সময় উল্লিখিত মামলার বাদি আব্দুর রাজ্জাককে ঢাকা মহানগর পুলিশের ধানমন্ডি জোনের সহকারি পুলিশ কমিশনার (এসি) আহসান খান তার কার্যালয়ে নোটিসের মাধ্যমে ডেকে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করেন।

 

আরও পড়ুন:
*সরকারি হাসপাতালে দুর্নীতিবাজ ডাক্তার-দালাল একাকার
*ভুয়া মেডিকেল সার্টিফিকেটে মিথ্যা মামলা: তদন্তে নেমেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী

 

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ
সর্বশেষ
সর্বাধিক পঠিত