শিরোনাম

তারেকের ক্ষুদে বার্তায় বিপাকে বিএনপি

প্রিন্ট সংস্করণ॥আবদুর রহিম  |  ১১:০৬, আগস্ট ০৭, ২০১৮

শিক্ষার্থীদের ৯ দফা আন্দোলনের ওপর ভর করে এই আন্দোলনকে একদফায় রূপ দিতে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্যসহ শীর্ষ নেতাদের লন্ডন থেকে একের পর এক ক্ষুদে বার্তা পাঠিয়ে চাপ দিচ্ছেন তারেক রহমান! বিএনপিনেতারাও মনে করছেন, এ আন্দোলন এখন আর শিক্ষার্থীদের আন্দোলন নেই। ইতোমধ্যে তা সরকারবিরোধী আন্দোলনে রূপ নিয়েছে। দলের কিছু নেতা সক্রিয় হয়ে এ আন্দোলনে মদদ দিচ্ছে। আন্দোলনকে উসকে দিচ্ছে। তারেকের নির্দেশেই বাধ্য হয়ে বিভিন্ন পন্থা অবলম্বন করতে হচ্ছে তাদের। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ফাঁস হওয়া বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরীর ফোনালাপের বিষয়টি আরও স্পষ্ট হয়েছে। তবে দলের অভিজ্ঞ নেতারা তারেকের এ সিদ্ধান্তকে সাংঘর্ষিক বলেও মনে করছেন। ইতোমধ্যে নৌমন্ত্রীর পদত্যাগ ছাড়া প্রধানমন্ত্রী শিক্ষার্থীদের সকল দাবি মেনে নিলেও এখন শিশুদের আন্দোলনে হঠাৎ করেই সম্পৃক্ত হয়েছেন বড়রা। গতকাল সোমবারও রাজধানীর বসুন্ধরা আবাসিক এলাকায় নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটির সামনে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। রণক্ষেত্র তৈরি হয়েছে শাহবাগে। হামলার শিকার হচ্ছে সাংবাদিকরা। দেশের এ পরিস্থিতির দিকে চোখ রাখছেন আন্তর্জাতিক মহল। বিএনপির আদর্শবাদী নেতারা মনে করছেন সাম্প্রতিক ইস্যুগুলোর পেছনে লন্ডন নেতার হাত রয়েছে। অর্থের বড় জোগান রয়েছে। জামায়াত-শিবিরকে মাঠে নামিয়ে ফের রাজনৈতিক মাঠ উত্তপ্ত করছেন তারেক। বিশ্বস্ত সূত্রে জানা যায়, শিশুদের এ আন্দোলনকে অর্থের বিনিময়ে জিইয়ে রেখে বিএনপি এক দফা আন্দোলনের ছক এঁকেছে। নির্বাচনের আগে সরকার পতনের নীল নকশা তৈরি করেই কোটি কোটি টাকা খরচ করছে এ আন্দোলনের পেছনে। চলমান আন্দোলনকে আরেকটু আক্রমণাত্মক ও সাংঘর্ষিক রুপ দিয়ে যেকোনো মুহূর্তে তারেকের নির্দেশে বিএনপির পক্ষ থেকে এক দফা আন্দোলনের ঘোষণা দেবেন। এরি মধ্যে প্রধানমন্ত্রীর পদত্যাগের দাবিসংক্রান্ত ঘোষণাপত্রও প্রস্তুত রেখেছেন বলে দলের একটি সূত্রের মত। সূত্রের দাবি, প্রধানমন্ত্রী পদত্যাগ না করলে তার কার্যালয় ঘেরাও কর্মসূচির নীল পরিকল্পনা আঁকা আছে। এর জন্য অর্থের বড় হাতিয়ার হিসেবে বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান আবদুল আউয়াল মিন্টুকে ব্যবহার করা হচ্ছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বিএনপির মাঠপর্যায়ের এক নেতা আমার সংবাদকে বলেন, চলমান শিক্ষার্থীদের আন্দোলনে বিএনপি কর্মীদের অনুপ্রবেশ করাতে, খাবার দিয়ে সহযোগিতা করাতে নানা নির্দেশ দিয়ে যাচ্ছেন তারেক। এছাড়াও জামায়াত-বিএনপির কর্মীদের মাঠের অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করছেন। দেশের বাইরে বসে প্রযুক্তির পেছনে লাখ লাখ টাকা ব্যয় করছেন। খুন, গুম, ধর্ষণসহ গুজব তৈরি করে দেশের সকল মানুষকে সরকারবিরোধী আচরণে বাধ্য হওয়ার নগ্ন চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। অন্যদিকে সরকারবিরোধী নেতা ড. কামাল, বি.চৌধুরী এবং মান্নাসহ কিছু সুশীলেরও বিএনপির সুরে কথা বলিয়ে মাঠে নামানোর চেষ্টা চালাচ্ছেন। ফলস্বরূপ আগামীতে বিএনপি ক্ষমতায় এলে তাদের প্রত্যককে মন্ত্রিত্ব দেয়া হবে এমন আশ্বাস আগ থেকেই দেয়া হয়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রে আরও জানা যায়, এই নীলনকশা বাস্তবায়নের দায়িত্বে রয়েছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী ও ভাইস চেয়ারম্যান আবদুল আউয়াল মিন্টু। এছাড়াও যৌথভাবে কাজ করছে জামায়াতও। এরই মধ্যে জামায়াত-শিবিরের হাজার হাজার নেতাকর্মী মাঠে সক্রিয় থেকে বিএনপিকে বার্তা দিয়ে যাচ্ছেন। যাতে করে কারো চাপে বিএনপি থেকে তাদের বের করে দেয়া না হয়। এ পর্যন্ত গুজবের পেছনে বিএনপির সাথে জামায়াতের যে হাত রয়েছে তার প্রমাণ দেশের গোয়েন্দা সংস্থাও পেয়েছেন। গোয়েন্দা সূত্রে জানা যায়, আন্দোলনকে উসকে দেওয়ার বিষয়টি মাথায় রেখে বিএনপির শীর্ষ নেতাদের নজরদারিতে রাখছে সরকার। নজরদারিতে রাখা এসব নেতার মধ্যে রয়েছেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, মির্জা আব্বাস, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, আব্দুল মঈন খানসহ সিনিয়র নেতারা। তাদের মত, যে আন্দোলন চলছে তাতে প্রত্যক্ষ এবং পরোক্ষ ভূমিকা পালন করছে এসব নেতা। এরা ছাত্রদল এবং অপরিচিত কর্মী-সমর্থকদের মাঠে নামানোর ব্যবস্থা করছে। ফেসবুকসহ বিভিন্ন আনলাইনে ভুয়া ছবি ও ভিডিও ছড়ানোয় মদদ দেওয়া হচ্ছে। একারণে এদের নজরদারিতে রাখা হয়েছে। বিএনপির এসব সিনিয়র নেতার বিরুদ্ধে বেশকিছু পুরনো মামলা রয়েছে। নজরদারিতে রাখার পাশাপাশি পুরনো মামলাগুলো দ্রুত সচলে উদ্যোগ গ্রহণ করা হচ্ছে বলেও জানা গেছে। গোয়েন্দা সূত্রের দাবি দেশের বাইরে থেকে পুরান বিভিন্ন ছবি এবং ভিডিও নিখুঁতভাবে এডিট করে ফেসবুকে এবং অনলাইনে ছাড়া হচ্ছে। নীলনকশা অনুযায়ী, ঝিগাতলায় শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা করে গুজব ছড়ানোর পরিকল্পনা বড় প্রভাব পড়েছে। সেদিন ছাত্রদলের অপরিচিত এবং প্রশিক্ষিত ক্যাডাররা সিটি কলেজের কাছে অবস্থানরত শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা করে। এ হামলার ঘটনায় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে পূর্বের বানানো ভিডিওগুলো আপলোড করা হয়। বিএনপি এবং জামাতের কিছু কর্মী দ্রুত এগুলো ছড়িয়ে দেয়। এসবকে বিশ্বাসযোগ্য করার জন্য কয়েকজন সেলিব্রেটিকেও উস্কে দেওয়া হয়। পরিকল্পনা ছিল, এই ভিডিও দেখে সাধারণ মানুষ এবং সারাদেশের জনগণ উত্তেজিত হবে। তাৎক্ষণিকভাবে তারা রাস্তায় নেমে আসবে। আওয়ামী লীগের কার্যালয়গুলোতে আগুন ধরিয়ে দেবে। নীল নকশা অনুযায়ী এর পরপরই শাহবাগ থেকে সরকারের পতনের লক্ষ্যে একদফা আন্দোলনের ঘোষণা দেওয়ার কথাছিল। সেদিনই তাৎক্ষণিক অভিনেত্রী নওশাবার ভাইরাল হওয়া ভিডিওতে অস্থিরতা তৈরি হয় দেশজুড়ে। এই নওশাবা ভয়ঙ্কর দেশদ্রোহীর আত্মীয়। জানা যায়, নওশাবার চাচাতো বোন কর্নেল শফির মেয়ে সাবা সালাউদ্দীন কাদের চৌধুরির ছোট ভাই জামালউদ্দিন কাদের চৌধুরীর ছেলের বউ। পারিবারিকভাবে তারা খুবই ঘনিষ্ঠ। একাত্তরের কুখ্যাত রাজাকার সালাহউদ্দিন কাদের চৌধুরীর ফাঁসি তারা কোনোভাবেই মেনে নিতে পারেনি। সাকা তাদের পারিবারিক অভিভাবক ছিলেন। এ সম্পর্কের খাতিরে এমন গুজব ছড়ান সেই অভিনেত্রী। বর্তমানে নওশাবা তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি আইনের মামলায় চারদিন রিমান্ডের রয়েছেন।এছাড়াও দেশের চলমান পরিস্থিতিতে মার্কিন রাষ্ট্রদূত, সুশীলসমাজ ও কিছু সাংবাদিক গভীর রাতে অরক্ষিত অবস্থায় একটি এলাকায় কেন জড়ো হয়েছিলেন এ নিয়ে সচেতন মহল থেকে প্রশ্ন উঠেছে। নিরাপদ সড়কের দাবিতে শিক্ষার্থীদের আন্দোলনে যখন উত্তাল দেশ। ঠিক তখনি গত শনিবার নৈশভোজের নামে কেন এদের মিলন? তারা কী দেশের কল্যাণে কোনো সিদ্ধান্ত নিতে চাচ্ছে নাকি সরকার পতনের ষড়যন্ত্র করছেন রাজনীতিপাড়ায় এ নিয়ে আলোচনা-সমালোচনার ঝড় বইছে। মার্কিন রাষ্ট্রদূতের গাড়িতে হামলার ঘটনায় সমালোচনা করছে দেশের বিভিন্ন মহল। কিন্তু একটি প্রশ্ন কেউ করছে না। মার্শা বার্নিকাট অরক্ষিত অবস্থায় ওই এলাকায় তখন কী করছিলেন? কেন গিয়েছিলেন? তার রাষ্ট্রীয় নীতি এ নিয়ে কী বলে? সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, গত শনিবার সুজন সম্পাদক ড. বদিউল আলম মজুমদারের মোহাম্মদপুরের বাড়িতে রাত ৯টা থেকে সাড়ে ১১টা পর্যন্ত অন্তত ১২ জন সুশীলসমাজের প্রতিনিধি ওই বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন। তাদের মধ্যে ড. কামাল হোসেন, হাফিজউদ্দিন, ডা. জাফর উল্লাহ চৌধুরী, ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য, ড. আসিফ নজরুল ও দুজন পত্রিকার সম্পাদকসহ আরও কয়েকজন। সেই বৈঠকে প্রটোকল ভেঙে উপস্থিত হন মার্কিন রাষ্ট্রদূত মার্শিয়া বার্নিকাট। জানা যায়, ইউএস ডিপার্টমেন্ট অব স্টেটের ওয়েবসাইটে গত ৩ জুলাই বাংলাদেশে বসবাসরত মার্কিন নাগরিকদের নিরাপত্তাজনিত কারণে কিছু বিধিবিধান মেনে চলার নির্দেশনা দেওয়া হয়। সেখানে নাগরিকরা কোথায় যেতে পারবে বা পারবে না সে সংক্রান্ত নির্দেশনাও আছে। কোনো মার্কিন অফিসিয়াল নির্ধারিত এলাকাও নির্ধারিত সময়ের বাইরে কোথাও যেতে পারবে না এই নির্দেশও দেওয়া হয়েছে ওয়েবসাইটে। এই নিয়মানুসারে মার্কিন রাষ্ট্রদূত মোহাম্মদপুরে সুজন সম্পাদকের বাসায় যেতে পারেন না বলেই মত সংশ্লিষ্টদের। কোনো ধরনের প্রটোকল ছাড়া কূটনীতিকপাড়ার বাইরে ব্যক্তিগত আমন্ত্রণ রক্ষার্থে সুজন সম্পাদকের বাসায় গিয়ে মার্শা বার্নিকাট নিজ রাষ্ট্রের নিয়ম ভঙ্গ করেছেন বলেও নিরাপত্তা বিশ্লেষকের এক ব্যক্তি আমার সংবাদকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। চলমান সূত্রের মত, শিক্ষার্থী আন্দোলনকে কেন্দ্র করে বিএনপি-জামায়াতের সঙ্গে দেশের সুশীলসমাজও সরকারকে বেকায়দায় ফেলার চেষ্টা করছে। এমন সময় বদিউল আলম মজুমদারের বাসায় মার্শা বার্নিকাটের আতিথ্য গ্রহণ ও তার গাড়িতে হামলার ঘটনা পুরো বিষয়টিকে ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করতে পারে। এ নিয়ে গত রোববার রাজনীতি কূটনৈতিকপাড়ায় নানা গুঞ্জন চলছে। একাধিক সূত্র বলছে, চলমান শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের গতি প্রকৃতি নিয়ে ওই নৈশভোজের আড়ালে বৈঠকে দীর্ঘ আলোচনা হয়। বৈঠকে একজন সম্পাদক দেশের পুরো পরিস্থিতি ব্যাখ্যা করেন। যেখানে সুশীলদের করণীয় নিয়েও কথাবার্তা হয়। মার্কিন রাষ্ট্রদূতের কাছে এই আন্দোলনের সমর্থনে বিবৃতি চান বৈঠকে উপস্থিত সুশীলরা। শিক্ষার্থীদের আন্দোলনে বল প্রয়োগ হতে পারে এমন মন্তব্য করেন দুই সম্পাদক। মার্কিন রাষ্ট্রদূত এরকম বলপ্রয়োগের ঘটনা ঘটলে এ ব্যাপারে বিবৃতি দেবেন বলেও আশ্বস্ত করেন। এর পেছনে উস্কানিদাতা হিসেবে তারেকের হাত রয়েছে বলেও মত সংশ্লিষ্টদের। তারেকের নির্দেশে একের পর এক এসব ঘটনায় বিএপির স্থায়ী কমিটির সদস্য লে. জে. (অ.) মাহবুবুর রহমান, বুদ্ধিজীবী এবং সংস্কারবাদী অনেক নেতাই মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছেন বলে দাবি দলের একাংশের।
এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ
সর্বশেষ
সর্বাধিক পঠিত