শিরোনাম

জোটের আকার বাড়াতে আ.লীগের তাগিদ

প্রিন্ট সংস্করণ॥আসাদুজ্জামান আজম  |  ০০:৪১, জুলাই ১৭, ২০১৮

জোটভুক্ত দলগুলোর সাথে সর্ম্পক জোরদারের পাশাপাশি জোটের আকার সম্প্রসারণে উদ্যোগ নিচ্ছে আওয়ামী লীগ। আগামী নির্বাচনে বিএনপি নেতৃত্বাধীন জোটের তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দাবিসহ বহুমুখী চাপ মোকাবেলায় সমমনা দলগুলোকে জোটে তৎপরতা চালাচ্ছে আওয়ামী লীগ। আওয়ামী লীগে প্রকাশ্যে কিছু না দেখা গেলেও আগামী নির্বাচনে ১৪ দলীয় জোটের আকার বাড়বে এটা নিশ্চিত। ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে আবারও গঠিত হতে পারে মহাজোট। তবে এটা হবে নির্বাচনি জোট। মূল ১৪ দলীয় জোটে কোনো পরিবর্তন আসবে না। আওয়ামী লীগ সূত্র মতে, চলমান সিটি নির্বাচন ও আগামী একাদশ জাতীয় নির্বাচন জোটগতভাবে করার নীতিগত সিদ্ধান্ত রয়েছে। এ জন্য ১৪ দলীয় জোটের শরিকদের মধ্যে দূরত্ব নিরসনসহ কিভাবে জোট আরও সম্প্রসারণ করা যায়, সে বিষয়ে ভাবছে আওয়ামী লীগ। জাতীয় নির্বাচনকে সামনে রেখে জোটের মধ্যে যাতে কোনো ধরনের বিভেদ সৃষ্টি না হয়, সে জন্য তৎপর দলটি। জোটের শরিক জাসদ, তরিকত ফেডারেশন থেকে বের হয়ে নতুন যে বলয় বা দল সৃষ্টি হয়েছে, তাদেরও জোটে সমান সুবিধা দেওয়া হবে। এ ছাড়াও মুক্তিযুদ্ধের চেতনাধারী বাকি রাজনৈতিক দলগুলোকেও জোটে আনা হতে পারে। এর মধ্যে রয়েছে- ইসলামিক ফ্রন্ট, প্রয়াত শেখ শওকত হোসেন নিলুর এনপিপি, নাজমুল হুদার তৃনমূল বিএনএফ, আবুল কালাম আজাদ এমপির বিএনএ, তরিকত ফেডারেশন (আউয়াল)। চলমান সিটি নির্বাচনকে কেন্দ্র করে কয়েক দফা বৈঠক করেছে ১৪ দলীয় জোট। বৈঠক শেষে আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থীকে জোটের প্রার্থী হিসেবে সমর্থন দিয়েছেন ১৪ দলের নেতারা। একই সঙ্গে আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থীর বিজয় নিশ্চিত করতে ঐক্যবদ্ধভাবে মাঠে থাকার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন তারা। আগামী নির্বাচনকে সামনে রেখে আওয়ামী লীগসহ ১৪ দলের নেতারা প্রস্তুতি নিতে শুরু করেছে। আওয়ামী লীগে চলছে সংসদীয় আসন ঘিরে মাঠ গোছানোর কাছ। সংসদীয় আসনগুলোতে দলের সম্ভাব্য প্রার্থীদের খোঁজখবর নেওয়া শুরু হচ্ছে। জোটের অন্য শরিকরাও নির্বাচন কেন্দ্রিক তৎপর হয়ে উঠেছেন। সম্ভাব্য আসনগুলো নিয়ে কাজ করছেন জোট নেতারা। তবে জোটগতভাবে আসন বণ্টন নিয়ে কোনো সিদ্ধান্ত বা আলোচনা হয়নি। আসন বণ্টনের চূড়ান্ত সিদ্বান্ত নির্ভর করছে জোটের আকারের ওপর। এদিকে, আজ মঙ্গলবার আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা এমপির ধানম-িস্থ রাজনৈতিক কার্যালয়ে কেন্দ্রীয় ১৪ দলের এক সভা অনুষ্ঠিত হবে। বৈঠকে চলমান সিটি নির্বাচনে ঐক্যবদ্ধভাবে নৌকার জয় কাজ করা, বিএনপি জোটের মিথ্যা তথ্যের রাজনীতি মোকাবেলায় জোটগতভাবে সরকারের উন্নয়ন চিত্র প্রচারের পাশাপাশি আগুন সন্ত্রাসের চিত্র তুলে ধরার সিদ্ধান্ত আসতে পারে একাধিক নেতা নিশ্চিত করেছেন। এ ছাড়া বৈঠকে জোটের আকার ও একাদশ নির্বাচনের অংশগ্রহণের কৌশল নিয়েও আলোচনা হতে পারে। বাংলাদেশ গণআজাদি লীগের সাধারণ সম্পাদক মুহাম্মদ আতাউল্লাহ খান বলেন, অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশের পথচলা সুদীর্ঘ করতে মুক্তিযুদ্ধের চেতনার কোনো দল জোটে আসতে পারে। এটা হবে নির্বাচনি জোট। আকার যাই-হোক ১৪ দলীয় জোট বহাল থাকবে। জাসদ নেতা শরিফ নূরুল আম্বিয়া বলেন, নির্বাচনকে সামনে রেখে জোটের আকার বাড়তে পারে, এখনো আলোচনা হয়নি। পরবর্তী বৈঠকে আলোচনা হতে পারে। ১৪ দলীয় জোট নেতা ও আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আহমদ হোসেন বলেন, জোট বাড়ানো বা কমানো নিয়ে এখনো কোনো আলোচনা হয়নি। তবে মুক্তিযুদ্ধের স্বপক্ষের যেকোনো দলের সঙ্গে আওয়ামী লীগ জোট করতে পারে।

 

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ
সর্বশেষ
সর্বাধিক পঠিত