শিরোনাম

খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ দেশ

প্রিন্ট সংস্করণ॥হাসান-উজ-জামান ও আহমেদ ফেরদাউস খান  |  ০০:৪৫, জুলাই ১২, ২০১৮

খাদ্যে এখন বাংলাদেশ স্বয়ংসম্পূর্ণ। বর্তমান সরকারের দেশ পরিচালনার টানা ৮ বছরে দেশে খাদ্যশস্যের উৎপাদন বেড়েছে ৩০.৪৮ শতাংশ। স্বাধীনতা-পরবর্তী সময়ে সবজির উৎপাদন বেড়েছে ৫ গুণ। যে কারণে সবজি উৎপাদন বৃদ্ধিতে বাংলাদেশ এখন বিশ্বের তৃতীয়।  জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থার (এফএও) তথ্য অনুযায়ী সবজির উৎপাদন বৃদ্ধিতে বাংলাদেশ এখন বিশ্বে তৃতীয়। স্বাধীনতার পর থেকে এ পর্যন্ত দেশে সবজির উৎপাদন বেড়েছে ৫ গুণ। কৃষিবিদ ড. আবুল কালাম আযাদ বলেন, সরকারের নেওয়া দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা বাস্তবায়নের ফলে গত আট বছরে খাদ্যশস্যের উৎপাদন বেড়েছে ৩০.৪৮ শতাংশ। এ সময়ে চালের উৎপাদন বেড়েছে ৩ দশমিক ১৬ গুণ, গমে বেড়েছে ১২ দশমিক ২৫ গুণ,  ভুট্টায় বেড়েছে ৭৫৭ গুণ ও আলুতে বেড়েছে ১০ দশমিক ১১ গুণ। জাতিসংঘের  খাদ্য ও কৃষি সংস্থার (এফএও) তথ্য অনুযায়ী সবজির উৎপাদন বৃদ্ধিতে বাংলাদেশ এখন বিশ্বে  তৃতীয়। গত এক দশকে রীতিমতো সবজির বিপ্লব ঘটেছে বলে তিনি দাবি করেন।  বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন কর্পোরেশনের (বিএডিসি) ম্যানেজার (বীজ) ফারুক জাহিদুল হক আমার সংবাদকে বলেন, ভালো বীজ মানেই ভালো ফসল। বর্তমানে বীজের উৎপাদন বেড়েছে। চলতি বছর আমরা ১ লাখ ৪২ হাজার মেট্রিকটন বীজ উৎপাদন ও সরবরাহ করতে সক্ষম হয়েছি। আগামী বছর আমাদের টার্গেট রয়েছে এটাকে দেড় লাখ টনে উন্নীত করা। ৯-১০ বছর আগেও চাহিদার বিপরীতে বীজের উৎপাদন ছিলো মাত্র ৩৫ হাজার মেট্রিকটন। সরকারি হিসেবে উন্নতমানের বীজের উৎপাদন বর্তমানে ৫ গুণ বৃদ্ধি পেয়েছে। এক সময় নেদারল্যান্ড থেকে আমাদের আলু বীজ আমদানি করতে হতো। কিন্তু এখন আমদানির হার শূন্যের কোঠায়। বরং তাদের চেয়েও আমাদের আলুর বীজের মান অনেক ভালো। আলু উৎপাদনে বিশ্বে  বাংলাদেশ সপ্তম। ফারুক জাহিদুল হক বলেন, কৃষকদের বাঁচাতে এবং কৃষি উৎপাদন বাড়াতে সরকার সারের ওপর ভর্তুকি দিচ্ছে। ওয়ান-ইলেভেনের পর বর্তমান সরকার ক্ষমতায় এসেই সারের দাম ৪ ভাগ কমিয়ে দিয়েছে। সামগ্রিকভাবেই সরকারের কৃষিবান্ধব নীতিতে দেশ খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ। এখন আমরা মাছ উৎপাদনে বিশ্বে  চতুর্থ, পাট উৎপাদনে দ্বিতীয়, আম উৎপাদনে অষ্টম, মাংস উৎপাদনে পঞ্চম, চাল উৎপাদনে চতুর্থ। আমাদের মতো ছোট দেশে এ সূচকগুলো সম্ভব হয়েছে শুধু সরকারের কৃষিবান্ধব নীতি, কৃষিবিদ এবং কৃষকের কঠোর পরিশ্রমের মাধ্যমে। অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের সাথে সমন্বয় রেখে বিএডিসির নেওয়া পদক্ষেপগুলোর মধ্যে রয়েছে বীজ উৎপাদন ও সরবরাহ, বোরো ধানের বীজ সরবরাহ এবং বৃদ্ধিকরণ, গমের বীজ উৎপাদন ও সরবরাহ, ডাল-তেলের বীজ উৎপাদন এবং সরবরাহ, আলুর বীজ উৎপাদন ও সরবরাহ, আলুর বীজ হিমাগারে সংরক্ষণের ক্ষমতা বৃদ্ধি, খাল পুনঃখনন, জলাবদ্ধতা দূরীকরণ, রাবার ড্যাম নির্মাণ, ভূপরিস্থ সেচনালা নির্মাণ, ভূগর্ভস্থ সেচনালা নির্মাণ, সৌরবিদ্যুতের সাহায্যে সেচ পাম্প স্থাপন, বেড়িবাঁধ নির্মাণ, সেচ অবকাঠামো, শক্তিচালিত পাম্প স্থাপন, গভীর নলকূপ স্থাপন, পাহাড়ি এলাকা ঝিঁরিবাঁধ নির্মাণ, পানির স্তর পরিমাপ, স্মার্ট কার্ড/প্রি-পেইড মিটার স্থাপন, আর্টেশিয়ান নলকূপ খনন, কৃষক প্রশিক্ষণ ও সার ব্যবস্থাপনা কার্যক্রমসহ নানা উদ্যোগ। জানা গেছে, বিএডিসির গবেষণা প্রতিষ্ঠান থেকে উদ্ভাবিত ফসলের নতুন জাতের বীজ পরিবর্ধন করে থাকে। প্রতিষ্ঠানটি ইতোমধ্যে মানসম্পন্ন বীজ সরবরাহে সফলতা অর্জন করেছে। ১৯৬১ সালে মাত্র ১৩ দশমিক ৮ মেট্রিকটন বীজ দিয়ে বিএডিসির বীজ কার্যক্রম শুরু হয়। এতে দানাজাতীয় বীজ উৎপাদনের খামার ২৪টি, পাটবীজের খামার ২টি, ডাল ও তৈলবীজের খামার ৪টি, আলুবীজের খামার ২টি, ১,০৯,৫৩১ একর এলাকা নিয়ে ৭৫টি কঃগ্রোঃ জোন এবং ১,৬৮,৭০০ মেট্রিকটন ধারণ ক্ষমতাসম্পন্ন ৫২টি আধুনিক বীজ প্রক্রিয়াজাতকরণ এবং সংরক্ষণ কেন্দ্র তৈরি করা হয়েছে। ৩টি অটোসিড প্রসেসিং পয়েন্ট ও ডিহিউমিডিফাইড গোডাউন, ঢাকায় ১টি কেন্দ্রীয় বীজের পরীক্ষাগার, দেশব্যাপী ট্রানজিট বীজ গোডাউনসহ ১০০টি বীজ বিক্রয় কেন্দ্র, ৮০৫৬ জন বীজ ডিলার নিয়ে ১টি সুসংগঠিত মার্কেটিং চ্যানেল, বীজের মান নিয়ন্ত্রণের জন্য রয়েছে আভ্যন্তরীণ মান নিয়ন্ত্রণ পদ্ধতি, দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে ১৪টি এগ্রো সার্ভিস সেন্টার এবং ৯টি উদ্যান উন্নয়ন কেন্দ্র রয়েছে।কৃষিবিদ মো. আমিনুল ইসলাম বলেন, দেশের খাদ্য উৎপাদন বৃদ্ধির জন্য সরকারের বিভিন্ন কর্মসূচি ও প্রকল্পের মাধ্যমে বিএডিসি ধান, গম, ভুট্টাসহ নানা জাতের ফসলের বীজসহ আলু, ডাল ও তেল বীজ, সবজি বীজ এবং মশলা জাতীয় ফসলের বীজ উৎপাদন প্রক্রিয়াজাতকরণ, সংরক্ষণ ও বিপণন কার্যক্রম সক্রিয়ভাবে পালন করছে। এছাড়া এসব পণ্যের উৎপাদন বৃদ্ধির জন্য ৯টি উদ্যান উন্নয়ন কেন্দ্র ও ১৩টি এগ্রো-সার্ভিস সেন্টারের মাধ্যমে উন্নত জাতের শাক-সবজি, ফুল, ফল, বনজ এবং ঔষধি গাছের চারা, গুটি-কলম উৎপাদন ও বিতরণ কার্যক্রম সুষ্ঠুভাবে পরিচালনা করে আসছে। বিএডিসি ৩১,০০০ মেট্রিকটন সার দিয়ে বিতরণ কার্যক্রম শুরু করলেও এখন ১,৫২,৭৬৬ মেট্রিকটন ধারণক্ষমতার ১১২টি সার গুদাম রয়েছে। প্রতিষ্ঠানটি গত ২ অর্থবছরে ৯ দশমিক ৮৮ লাখ মেট্রিকটন, ৯ লাখ মেট্রিক টন এবং ৯ দশমিক ৯০ লাখ মেট্রিকটন নন-ইউরিয়া সার বিতরণ সম্পন্ন করেছে। এছাড়াও সেচ ব্যবস্থাপনা, মেরামত ও রক্ষণাবেক্ষণ বিষয়ে প্রশিক্ষণ প্রদানের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় সেচ পানি ব্যবহার বিষয়টি কৃষকের নিকট গ্রহণযোগ্য করে তুলেছে।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ
সর্বশেষ
সর্বাধিক পঠিত