শিরোনাম
লিবিয়ার শ্রমবাজার নিয়ে সংকট কাটছে না

ডাক্তার-নার্স চায় লিবিয়া, বাংলাদেশের না

প্রিন্ট সংস্করণ॥কাওসার আজম ও জাকির হোসেন  |  ০০:৩৩, জুলাই ১২, ২০১৮

লিবিয়ার হাসপাতালগুলোতে বিপুলসংখ্যক চিকিৎসক, নার্স ও টেকনিশিয়ানের চাহিদা রয়েছে। বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এবং প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ে চিঠি দিয়ে লিবিয়া সরকারের এই চাহিদার কথা জানিয়েছে সেদেশে অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাস। লিবিয়ার এই চাহিদার কথা স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়কে জানায় এই দুই মন্ত্রণালয়। প্রবাসী কল্যাণ সচিব ড. নমিতা হালদার এই প্রতিবেদককে জানিয়েছেন, স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় আমাদের জানিয়েছে লিবিয়ায় পাঠানোর মতো পর্যাপ্ত চিকিৎসক-নার্স বর্তমানে আমাদের নেই। সূত্রে জানা যায়, ২০০৮ সালের পর সৌদি আরব ও মালয়েশিয়ার মতো বড় শ্রমবাজার যখন বন্ধ হয়ে যায়, তখন লিবিয়ার শ্রমবাজারে বড় পরিসরে বাংলাদেশি শ্রমিক ঢুকতে শুরু করে। ২০০৯ ও ২০১০ সালে ৩৫ হাজার বাংলাদেশি দেশটিতে যান। কিন্তু জাল ভিসায় লোক পাঠানোসহ নানা অনিয়মের কারণে ২০১০ সালে বাংলাদেশ থেকে কর্মী নেওয়া বন্ধ করে দেশটি। ২০১১ সালে দেশটিতে যুদ্ধাবস্থা শুরুর পর ৩৬ হাজার বাংলাদেশি দেশে ফিরে আসেন। ২০১২, ২০১৩ ও ২০১৪ সালে প্রায় ২৬ হাজার বাংলাদেশি আবার দেশটিতে যায়। তবে নিরাপত্তার কারণে ২০১৫ সাল থেকে কর্মী পাঠানো স্থগিত রাখা হয়েছে। জনশক্তি রপ্তানিকারকরা গত দুই-আড়াই বছর ধরে লিবিয়ার পরিস্থিতি স্বাভাবিক দাবি করে আবারো কর্মী পাঠানোর অনুমতি চাইছেন সরকারের কাছে। বায়রা সূত্র জানায়, ঢাকার লিবিয়া দূতাবাসের চার্জ দ্য অ্যাফেয়ার্সও বায়রাকে আবার কর্মী পাঠানোর অনুরোধ জানিয়েছেন। বায়রাও পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী এবং প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থানমন্ত্রীকে কয়েকদফা চিঠি দিয়ে আবারো বাংলাদেশিদের ছাড়পত্র দেওয়ার অনুরোধ জানিয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে প্রবাসীকল্যাণ মন্ত্রণালয় থেকেও লিবিয়ার বাংলাদেশ দূতাবাসে চিঠি দিয়ে মতামত চাওয়া হয়। তবে এমন অবস্থায় কয়েক দফায় লিবিয়ার বেনগাজিতে কয়েকজন বাংলাদেশি নিহত হওয়ার পর আবারো সেদেশের নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে বিভিন্ন মহল থেকে। লিবিয়ার অবস্থা বর্তমানে স্বাভাবিক উল্লেখ করে সেদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে কয়েকদফা চিঠি দেওয়া হয়। একই সাথে দেশটিতে ডাক্তার, নার্সসহ বিভিন্ন খাতে বিপুলসংখ্যক কর্মীর চাহিদার কথাও জানানো হয়। উভয় দেশের মধ্যে চিঠি চালাচালির শেষ পর্যায়ে গত ১৪ মার্চ বিভিন্ন সূত্রের বরাত দিয়ে প্রবাসীকল্যাণ সচিবকে চিঠি দেন লিবিয়ায় অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাসের শ্রম কাউন্সিলর আসম আশরাফুল ইসলাম। আগের একাধিক চিঠির বরাত দিয়ে তিনি উল্লেখ করেন, ‘লিবিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী গত ৯ জানুয়ারি ২০১৮ তারিখে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বরাবর একটি উপ-আনুষ্ঠানিক পত্র প্রেরণ করেন। পত্রে লিবিয়ার হাসপাতালসমূহে ডাক্তার, নার্স ও টেকনিশিয়ান নিয়োগের বিষয়ে বাংলাদেশ সরকারের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সদয় সহযোগিতা চাওয়া হয়েছে।’চিঠিতে আরও উল্লেখ করা হয়, ‘রাষ্ট্রদূত মহোদয় পররাষ্ট্র সচিব বরাবর পত্রের মাধ্যমে এই প্রস্তাবের বিষয়ে লিবিয়ায় বাংলাদেশিদের ভ্রমণের চলমান নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের সুপারিশ সহকারে ইতিবাচক সিদ্ধান্ত গ্রহণের পক্ষে মতামত প্রদান করেছেন। রাষ্ট্রদূতের পত্রটি বর্তমানে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে বিবেচনাধীন রয়েছে।’ এ ব্যাপারে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য প্রবাসী কল্যাণ সচিবকে অনুরোধ করেন শ্রম কাউন্সিলর।এ বিষয়ে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সচিব ড. নমিতা হালদার এই প্রতিবেদককে বলেন, ‘এই বিষয়ে আমাদের সরকারের আপত্তি আছে। কারণ আমাদের ডাক্তার, নার্সের সংকট আছে। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় থেকে আমাদের জানিয়ে দিয়েছে যে, সংকট আছে, দেওয়া যাবে না।’নিরাপত্তার কারণে পাঠানো হচ্ছে না এমন কিনা? এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, ‘না-না। নিরাপত্তার কারণে না। আমাদের সংকটের (ডাক্তার-নার্স) কারণেই দেওয়া হচ্ছে না।’ বায়রার সাবেক যুগ্ম মহাসচিব আলহাজ আবুল বাশার এই প্রতিবেদককে বলেন, বর্তমানে লিবিয়ায় ২৫-৩০ হাজার বাংলাদেশি আছেন। তারা কাজ করছেন, কোনো সমস্যা হচ্ছে না। ত্রিপোলীর বাংলাদেশ দূতাবাসের কর্মকর্তারা আসছেন, যাচ্ছেন। তাহলে বাংলাদেশি কর্মী পাঠাতে সমস্যা কোথায়? বর্তমানে দেশটিতে ডাক্তার, নার্সসহ বিভিন্ন খাতে বিপুলসংখ্যক কর্মীর চাহিদা রয়েছে। সরকারকে অনুরোধ করবো, লিবিয়ায় কর্মী যাওয়ার রাস্তা যেন খুলে দেওয়া হয়। এ ব্যাপারে প্রবাসী কল্যাণ সচিব বলেন, ‘লিবিয়ায় শ্রমবাজার বন্ধ আছে বলে আমার জানা নেই। এটা চলমান। বাজার তো খোলা আছে। ডিমান্ড লেটার আসলে, অ্যাডিস্ট্রেশন থাকলে অনুমোদন দেওয়া হয়। এ ব্যাপারে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একজন দায়িত্বশীল কর্মকর্তা বলেন, আমাদের কাছে প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয় এই বিষয়ে মতামত চেয়েছিল। আমরা বলেছি যে লিবিয়ায় এখনো অস্থিতিশীল পরিস্থিতি বিরাজ করছে। পরিস্থিতি স্থিতিশীল হলে কর্মী পাঠানো যাবে, এখন নয়। এছাড়া লিবিয়ায় চিকিৎসকসহ কারিগরি কর্মী নিয়োগের যে বেতন কাঠামোর কথা বলেছে, এমন বেতন কাঠামোতে কর্মী পাঠানোর কোনো যুক্তি নাই। কেননা চিকিৎসকসহ কারিগরি কর্মীরা বাংলাদেশে যে বেতন-ভাতা পায়, তা কোনোভাবেই লিবিয়ার থেকে কম নয়।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের আরেক কর্মকর্তা বলেন, লিবিয়ার প্রস্তাবটি আমরা স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়কে জানিয়েছিলাম। কিন্তু তারা জানিয়েছেন এই মুহূর্তে তাদের পর্যাপ্ত ডাক্তার-নার্স নেই। অন্যদিকে দেশটিতে এখনো নিরাপত্তার অভাবও রয়েছে।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ
সর্বশেষ
সর্বাধিক পঠিত