শিরোনাম
শ্রমিককল্যাণ ফাউন্ডেশনে হরিলুট

নেয়ামত সিন্ডিকেটের মুখোশ উন্মোচন, টনক নড়ছে না মন্ত্রণালয়ের

প্রিন্ট সংস্করণ॥নুর মোহাম্মদ মিঠু  |  ০০:২৫, জুলাই ১২, ২০১৮

শ্রমিককল্যাণ ফাউন্ডেশনের কল্যাণ তহবিলের অনুদানের টাকা আত্মসাৎকারী নেয়ামত-লক্ষ্মীপুরের ইউপি সদস্য শিরিন সুলতানা ও তার ছেলে সাইফুর রহমানের মুখোশ উন্মোচন হলেও রহস্যজনক কারণে নীরব ভূমিকা পালন করছে শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়। আমার সংবাদের অনুসন্ধানে নেয়ামত ও মা-ছেলের এ সিন্ডিকেটের অনুদানের অর্থ আত্মসাতের সব তথ্য তুলে ধরার পরও টনক নড়ছে না কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের। তবে শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মুজিবুল হক জানান, এ বিষয়ে তথ্য-প্রমাণ পেলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। নেয়ামতের বিরুদ্ধে বলার মতো কোনো ব্যবস্থা মন্ত্রণালয় কিংবা ফাউন্ডেশন নিয়েছে কিনা এমন প্রশ্নের জবাব জানতে মহাপরিচালক ড. এএমএম আনিসুল আওয়ালের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি। তবে নেয়ামতের চাচাতো ভাই পরিচয় দিয়ে রাব্বি নামের একজন আমার সংবাদকে বলেন, তাকে ইতোমধ্যে ওএসডি করা হয়েছে। এদিকে, শ্রমিককল্যাণ ফাউন্ডেশনের অনুদানের অর্থ আত্মসাৎকারী অফিস সহকারী নেয়ামতের পক্ষের একজন সাপ্তাহিক পক্ষকাল পত্রিকার সম্পাদক পরিচয় দিয়ে মাইকেল নামের একব্যক্তি ফোন করে এ প্রতিবেদককে নমনীয় হওয়ার কথা বলেন। তিনি বলেন, সে (নেয়ামত) তার দোষ এবং টাকা নেওয়ার বিষয়টি স্বীকারও করেছেন, এতে তার যে সাজা হবে তাও মাথা পেতে নেবে সে। এদিকে, জেসমিন আক্তারের নামে পাস হওয়া এক লাখ টাকার চেকের বাকি ৬০ হাজার টাকা এক সপ্তাহের মধ্যে দেওয়ার কথা থাকলেও তাও দেননি এখনো। অন্যদিকে, লক্ষ্মীপুরের মৃত আলতাফ হোসেন পাটোয়ারীর নামে পাস হওয়া এক লাখ টাকা না পেলেও রহস্যজনক কারণে বিষয়টি এড়িয়ে যাচ্ছেন আলতাফের ছোট ভাই সরোয়ার হোসেন। অন্যদিকে, শিরিণ সুলতানা মেম্বারের মাধ্যমে নজরুল ইসলামের স্ত্রীর নামে পাস হওয়া এক লাখ টাকা ক্যাশ করার পর ৬৯ হাজার টাকা নিয়ে যান তিনি। কোনো এক স্যারকে নাকি দিতে হয়েছে সেই টাকা। আমার সংবাদের অনুসন্ধানে প্রাপ্ত তথ্য থেকে জানা যায়, নেয়ামত শ্রমিককল্যাণ ফাউন্ডেশনের অফিস সহকারী হিসেবে চাকরিতে যোগদানের সময়ও বেশিদিন হয়নি। তবে এরই মধ্যে সে তার এলাকার ওই ইউপি মেম্বার (শিরিন সুলতানা ও তার ছেলের) মাধ্যমে সাধারণ শ্রমিকদের আবেদন করিয়ে অনুদান পাস করান এবং অনুদান পাসের আগে শ্রমিকদের সঙ্গে করা চুক্তির ভিত্তিতে টাকা উত্তোলনের পর চুক্তির টাকা নিয়ে নেন। এছাড়াও ফাউন্ডেশনে জমা হওয়া সারাদেশ থেকে আসা আবেদনপত্রের কপি বাসায় নিয়ে সেখানে উল্লেখ করা ফোন নম্বরে যোগাযোগ করে চুক্তির মাধ্যমে অনুদান পাস করিয়ে নেন। আড়ালে থাকলেও অফিসের স্টাফ হওয়ার সুবাদে নেয়ামতের মাধ্যমে করা আবেদনের অনুদান পাস হয় খুব সহজেই। উল্লেখ্য, এর আগে আমার সংবাদের চারটি ধারাবাহিক পর্বে ফাউন্ডেশনের কল্যাণ তহবিলের অনুদানের অর্থ লুটপাটে নেয়ামতের কারসাজি উল্লেখ করা হয়েছিল। নেয়মাতের কারসাজি অনুসন্ধান করতে গিয়েই বেরিয়ে আসে ঢাকা কলেজ থেকে মাস্টার্স শেষে অবৈধভাবে ঢাকা কলেজের দক্ষিণায়ন হলে থাকা সাইফুর রহমান ও তার মায়ের জড়িত থাকার বিষয়টি। ঢাকা কলেজের যে কক্ষে সাইফুর রহমান থাকেন সে কক্ষে গিয়েও দেখা যায়, লক্ষ্মীপুর ছাড়াও দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে অনুদানের প্রত্যাশায় শ্রমিকদের করা আবেদনপত্রেন স্তূপ। ফাউন্ডেশনের কোনো পদে কর্মরত না হয়েও এসব কাগজপত্র কীভাবে তার কাছে আসে তার উত্তর দিতে পারেননি সাইফুর রহমান। নিজের পরিচয় আড়াল করে তিনি বলেন, আমি এসব বিষয়ে কিছুই জানি না। এদিকে, সাইফুর রহমানের মা শিরিণ সুলতানার সঙ্গে তার জড়িত থাকার বিষয়ে কথা বললে তিনি নিজের পরিচয় গোপন করে বলেন, তার ব্যবহৃত ফোন নম্বরটি কোনো এক বাচ্চা থেকে কেনা। তিনি শিরিণ সুলতানা মেম্বারকে চিনেন না। এ নিয়ে জানতে চাইলে একই পরিষদের চেয়ারম্যান শাহজাহানের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনিও একই নম্বর দিয়ে বলেন, এটাই শিরিন সুলতানার নম্বর। তিনি বলেন, ওই মহিলা খুবই খারাপ। তিনি এ ধরনের অনুদানের টাকার চেক নকল করে নিজেই উঠিয়ে নেন। এধরনের দুই-দুইটা দরবারও আমি করেছি। একটা ৭৫ হাজার টাকার বিনিময়ে দফারফা করে দিয়েছি। অপরটি মানসিক রোগীর জন্য পাস হওয়া অনুদানের চেক তিনি নকল করে তুলে নেন।

 

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ
সর্বশেষ
সর্বাধিক পঠিত