শিরোনাম
তৃণমূল আওয়ামী লীগের অভিযোগ

বহিষ্কারের সিদ্ধান্তে কথা রাখে না কেন্দ্র

প্রিন্ট সংস্করণ॥আসাদুজ্জামান আজম  |  ০০:০৯, জুলাই ১২, ২০১৮

সম্প্রতি অনুষ্ঠিত আওয়ামী লীগের তিনটি বর্ধিত সভায় জাতীয় ও স্থানীয় নির্বাচনে বিদ্রোহী প্রার্থী হলে বহিষ্কারের হঁশিয়ারি দেওয়ার পরও দলটির তৃণমূলে শঙ্কা কাটছে না। তৃণমূল নেতাকর্মীরা বলছেন, জাতীয় কিংবা স্থানীয় নির্বাচন এলেই কেন্দ্র থেকে বলা হয় বিদ্রোহী হলেই ব্যবস্থা। প্রথমে সাময়িক বহিষ্কার করা হলেও প্রার্থী জয়ী হলেই তাকে দলের ফিরিয়ে আনা হয়। পরবর্তীতে বিদ্রোহী প্রার্থী এবং দল মনোনিত প্রার্থীর সমর্থকদের দ্বন্দ্ব রয়েই যায়। বিদ্রোহী প্রার্থী জয়ী হওয়ার পর কোণঠাসা হয়ে পড়ে দলের নির্দেশনা পালনকারী নেতাকর্মীরা। কেন্দ্রের এ ধরনের দ্বৈত সিদ্ধান্তের কারণেই তৃণমূলের কোন্দল নিরসন হয়নি। এসব কারণেই আগামী নির্বাচনেও বিদ্রোহী প্রার্থী হওয়ার সাহস দেখাবে অনেকেই। দলীয় কোন্দল নিরসনে কড়াকড়ি নির্দেশনা থাকলেও তৃণমূলে বাস্তবায়ন কঠিন হবে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগে। দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট দলীয় গ্রুপিংয়ের রাজনীতি কমেনি, বরং বেড়েছে। পরবর্তী সময়ে জেলা পরিষদ, উপজেলা পরিষদ, পৌরসভা এবং ইউপি নির্বাচনে দলটির অভ্যন্তরীণ কোন্দল ভয়াবহ রূপ ধারণ করে। কোন্দল নিরসনের নির্দেশনা তৃণমূল মানলেও রাখেনি কেন্দ্রই। যার খেসারত এখানো দিতে হচ্ছে দলটির তৃণমূল নেতাদের।গত দশম জাতীয় নির্বাচনে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ মনোনীত নৌকার প্রার্থীর বিরুদ্ধে স্বতন্ত্র বা বিদ্রোহী প্রার্থী নির্বাচন করে ১৬ জন বিজয়ী হয়। নির্বাচনের পূর্বে এসব বিদ্রোহী প্রার্থীদের ব্যাপারে কড়াকড়ি নির্দেশনা থাকলেও বিজয়ী হওয়ার পর শিথিল হয়ে যায়। নিবার্চিত হওয়ার কিছুদিন পর হতেই ওইসব সাংসদরা আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে সক্রিয় হন। পরবর্তীতে দলের নির্দেশনা তুলে নেয়ার পর তারাই স্থানীয় আওয়ামী লীগের নিয়ন্ত্রক। ওইসব সাংসদের ইশারায় পরিচালিত হয় আওয়ামী লীগের রাজনীতি। অথচ যারা দলীয় প্রার্থীর পক্ষে কাজ করেছে, এসব তৃণমূল নেতারা এখনো ক্ষমতার বাইরেই রয়ে গেছেন। গত বছরের মে মাসে স্বতন্ত্র ১৬ জনের মধ্যে ১৫ জন সাংসদ অনুষ্ঠানিকভাবে আওয়ামী লীগে যোগদান করেন। গাইবান্ধা-৪ আবুল কালাম আজাদ, নওগাঁ-৩ ছলিম উদ্দীন তরফদার, কুষ্টিয়া-১ রেজাউল হক চৌধুরী, ঝিনাইদহ-২ তাহজীব আলম সিদ্দিকী, যশোর-৫ স্বপন ভট্টাচার্য, পিরোজপুর-৩ রুস্তম আলী ফরাজী, ঢাকা-৭ হাজী মোহাম্মদ সেলিম, নরসিংদী-২ কামরুল আশরাফ খান, নরসিংদী-৩ সিরাজুল ইসলাম মোল্লা, ফরিদপুর-৪ মজিবুর রহমান চৌধুরী নিক্সন, মৌলভীবাজার-২ আবদুল মতিন, কুমিল্লা-৩ ইউসুফ আবদুল্লাহ হারুন, কুমিল্লা-৪ রাজী মোহাম্মদ ফখরুল, মেহেরপুর-২ মো. মকবুল হোসেন এবং ফেনী-৩ রহিম উল্লাহ। এর মধ্যে দশম জাতীয় নির্বাচনে কুষ্টিয়া-১ (দৌলতপুর) আসনে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পান প্রবীণ নেতা সাবেক এমপি আফাজ উদ্দিন আহমেদ। ওই নির্বাচনে দলের বিদ্রোহী প্রার্থী হয়ে রেজাউল হক চৌধুরী স্বতন্ত্র এমপি নির্বাচিত হন। পরে দলের নির্দেশনা শিথিল হলে আওয়ামী লীগের অন্য বিদ্রোহী স্বতন্ত্র এমপিদের সঙ্গে তিনিও আবার দলে যোগ দেন। দলে ফিরেই আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে তিনি একক নিয়ন্ত্রক প্রতিষ্ঠা করেন। অন্যদিকে, দলের মূল ধারার রাজনীতি করলেও আফাজ উদ্দিন আহমেদ ও সমর্থকরা এখন পরগাছা। দলীয় কর্মসূচিতে আফাজ উদ্দিন সমর্থকদের অংশ নিতে বাধা দেন এমপির সমর্থকরা। গত নির্বাচনে ঢাকা-৭ আসনের আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পান মোস্তফা জালাল মহিউদ্দিন। ওই নির্বাচনে বিদ্রোহী হিসেবে স্বতন্ত্র নির্বাচন করেন তৎকালীন মহানগর আওয়ামী লীগের যুগ্মসাধারণ সম্পাদক হাজী মোহাম্মদ সেলিম। তিনি বিজয়ী হলেই আওয়ামী লীগের সব ধরনের কর্মকা-ে সক্রিয় হয়ে পড়েন। আর ওই আসনে মোস্তফা জালাল মহিউদ্দিন ও তার অনুসারীরা কোণঠাসা হয়ে পড়েন।নওগাঁ-৩ আসনে আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী হিসেবে জয় পান মো. ছলিম উদ্দিন তরফদার। ওই সময় তিনি ছিলেন মহাদেবপুর উপজেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক। নির্বাচনের সময় বহিষ্কার করা হলেও পরবর্তীতে ফিরিয়ে নেওয়া হয়েছে। এখন তিনি উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি।২০১৪ সালের নির্বাচনে ঝিনাইদহ-২ (সদর ও হরিনাকুন্ডু) আসনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী ছিলেন সফিকুল ইসলাম অপু। ওই নির্বাচনে দলের বিরুদ্ধে স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়ে জয় পান তানজীব আলম সিদ্দিকী সমি। পরে তিনি আওয়ামী লীগে যোগ দিয়েছেন। ফরিদপুর-৪ আসনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী কাজী জাফরুল্লাহর সঙ্গে স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়ে নির্বাচনে জয়লাভ করেন মুজিবুর রহমান চৌধুরী নিক্সন। তিনি প্রধানমন্ত্রীর আত্মীয় এবং মাদারীপুর-১ আসনের সাংসদ নূর ই আলম লিটন চৌধুরীর ভাই। দলীয় মনোনয়নবঞ্চিত হয়ে স্বতন্ত্রভাবে সাংসদ নির্বাচিত হন। নিক্সন চৌধুরীর সঙ্গে স্থানীয় আওয়ামী লীগের একটা বিরাট অংশ রয়েছে।নরসিংদী-৩ আসনে আওয়ামী লীগের মনোনীত প্রার্থী আলহাজ জহিরুল হক ভূইয়া মোহনের বিরুদ্ধে নির্বাচনে লড়ে স্বতন্ত্র এমপি হন যুবলীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য সিরাজুল ইসলাম মোল্লা। নির্বাচনের সময় সংগঠনে তিনি পদত্যাগপত্র জমাও দিলেও সেটা কার্যকর করা হয়নি। তিনিই এখন ওই আসনের আওয়ামী লীগের নিয়ন্ত্রক। যশোর-৫ (মণিরামপুর) আসনে ১৯৯১ থেকে ২০১৪ সাল পর্যন্ত সবকটি সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের মনোনীত প্রার্থী ছিলেন খান টিপু সুলতান। এর মধ্যে ১৯৯১, ১৯৯৬ ও ২০০৮ সালে তিনি বিজয়ী হন। কিন্তু ২০১৪ সালে তার বিরুদ্ধে বিদ্রোহী হিসেবে জয় পান জেলা আ.লীগের তৎকালীন কোষাধ্যক্ষ স্বপন ভট্টাচার্য্য চাঁদ। এজন্য তিনি দল থেকে বহিষ্কৃত হলেও এখন আবার দলে ফিরে সক্রিয়। সাবেক সাংসদ খান টিপু সুলতানের মৃত্যুর পর তার স্ত্রী ডা. জেসমিন আরা বেগম মাঠে নেমেছেন।দলের সিদ্ধান্তের বাইরে গিয়ে কুমিল্লা-৪ আসনে স্বতন্ত্র এমপি নির্বাচিত হন রাজী মোহাম্মদ ফখরুল। সংসদে স্বতন্ত্র থাকলেও তাকে ঘিরেই দেবিদ্বার উপজেলার আওয়ামী লীগের রাজনীতি পরিচালিত হয়। দশম জাতীয় নির্বাচনে মেহেরপুর-২ আসনের আওয়ামী লীগের প্রার্থী এমএ খালেকের বিরুদ্ধে বিদ্রোহী প্রার্থী হয়ে জয়ী হন বর্তমান সাংসদ মকবুল হোসেন। তিনি জেলা আওয়ামী লীগের পদধারী নেতা হিসেবে বেশ সক্রিয়। তবে তাকে দলের নেওয়ার স্থানীয় আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের মধ্যে ক্ষোভ রয়েছে। একই চিত্র জাতীয় নির্বাচন পরবর্তী উপজেলা, জেলা ও ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে। দলের নিষেধ অমান্য করে বিদ্রোহী প্রার্থী হলেও কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। বিদ্রোহী হিসেবে জয়ী বা হেরেও বহাল রয়েছেন দলীয় দায়িত্বে। হবিগঞ্জ জেলার আজমিরি উপজেলা পরিষদের গত নির্বাচনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী ছিলেন উপজেলা সভাপতি মেসবাহ উদ্দিন ভূইয়া। ওই নির্বাচনে দলীয় নৌকার বিরুদ্ধে বিদ্রোহী হয়ে জয়লাভ করেন উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আতর আলী। নির্বাচনকালে তাকে বহিষ্কার করা হলেও কিছুদিন পর একই পদে তাকে বহাল করা হয়। কিছুদিন আগে আতর আলী মারা যান। আগামী ২৫ জুলাই উপজেলা পরিষদের শূন্য চেয়ারম্যান পদে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। উপ-নির্বাচনেও আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পেয়েছেন মেসবাহ উদ্দিন ভূইয়া। অন্যদিকে, বিদ্রোহী প্রার্থী হয়েছেন মরহুম আতর আলীর ছেলে যুবলীগ নেতা আলাউদ্দিন। বাবার মতোই বিজয়ী হয়ে তিনি দলে ফিরতে চান। আগামী একাদশ জাতীয় নির্বাচনকে সামনে রেখেও প্রতিটি আসনে আওয়ামী লীগের একাধিক হেভিওয়েট সম্ভাব্য প্রার্থী মাঠ দাবড়ে বেড়াচ্ছে। এসব প্রার্থী নিজ দলের বিরুদ্ধেই পরস্পরবিরোধী রাজনীতি করছেন। নিজের বলয় ভারী করতে প্রতিপক্ষ রাজনৈতিক দলের লোকজন আওয়ামী লীগে ভেড়াচ্ছেন। অনেক প্রার্থীর হাত ধরে চিহ্নিত জামায়াত নেতাও আওয়ামী লীগে ভিড়ছেন। সম্প্র্রতি দলের তিনটি বিশেষ বর্ধিত সভায় এ বিষয়ে আওয়ামী লীগ সভানেত্রী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তৃণমূলকে সতর্ক করেন। তিনি বিশেষ গুরুত্ব দেন বিদ্রোহী প্রার্থী হওয়ার বিষয়টিতে। প্রধানমন্ত্রী বলেন, যাকে নৌকা দেওয়া হবে তারপক্ষেই কাজ করতে হবে, বিদ্রোহী প্রার্থী হলেই দল থেকে বহিষ্কার।সভায় তৃণমূল নেতারা অভিযোগ করে বলেন, সম্ভাব্য প্রার্থীরা দলের নেতারা একমঞ্চে ওঠেন না, কেউ কারো চেহারাও দেখতে চান না। পাল্টাপাল্টি কর্মসূচি দেওয়া হয়। আওয়ামী লীগকে হারানোর জন্য আওয়ামী লীগই যথেষ্ট।পরে সম্ভাব্য প্রার্থীদের সতর্ক করে শেখ হাসিনা বলেন, আমরা এতো উন্নয়ন করেছি, সেগুলো না বলে, ভুলিয়ে দিয়ে, যারা কার কি দোষ আছে, তা বলবেন, আর যাই হোক তারা আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পাবেন না। আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরও সতর্ক করে বলেন, নিজেদের মধ্যে অসুস্থ প্রতিযোগিতা দলের ভাবমূর্তি নষ্ট করে। তৃণমূলে যার জনপ্রিয়তা আছে, জনগণের কাছে গ্রহণযোগ্যতা আছে তাকেই মনোনয়নের দেওয়া হবে। বড় নেতা হয়েও জনবিচ্ছিন্নরা মনোনয়ন পাবে না। দলের হাইকমান্ডের এ ধরনের কড়াকড়ি নির্দেশনা তৃণমূল নেতাদের মনে আশা সঞ্চার হলেও অতীতের কথা মনে হলেই থমকে যান তারা। বিদ্রোহীদের পুনরায় যখন দলে টেনে নেওয়া হয় তখন বড় দুঃখও পান। কুষ্টিয়া জেলা আওয়ামী লীগের নেতা ও সাবেক এক সাংসদ আমার সংবাদকে বলেন, অতীতের সব নির্বাচনে এমন নির্দেশনা এলেও পরে তা কার্যকর হয়নি। কেন্দ্রীয় নেতারা অবস্থান পরিবর্তন করায় যেসব নেতাকর্মী নৌকার জয়ে জীবনবাজি রেখেছেন, তারা ঠিকমতো ঘরে থাকতে পারেন না। স্থানীয় নির্বাচনের অভিজ্ঞতা তুলে শরীয়তপুর জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বাবু অনল কুমার দে বলেন, কেন্দ্র যা বলে, আমরা তাই পালন করি। আমাদের সিদ্ধান্ত পরিবর্তনের সুযোগ নেই, কেন্দ্রই পরিবর্তন আনে। স্থানীয় নির্বাচনগুলোতে বিদ্রোহী প্রার্থী নিয়ে বেশ সমস্যায় পড়তে হয়। অনেক বিদ্রোহী প্রার্থীকে বহিষ্কার করা হলেও সাধারণ ক্ষমার মাধ্যমে সদস্য পদ ফিরিয়ে দিয়েছে কেন্দ্র। তারা দলে ফিরলেও সেই পুরনো বিভেদ দেখা দেয়। আওয়ামী লীগ সূত্র মতে, গত জাতীয় নির্বাচনে বিএনপি অংশগ্রহণ না করায় মাঠে একক নিয়ন্ত্রণ ছিল আওয়ামী লীগের। এজন্য অনেক আসনে বিদ্রোহী প্রার্থীর প্রতি নমনীয় মনোভাব দেখানো হয়েছিল। কিন্তু একাদশ নির্বাচনে সব দলের অংশগ্রহণ থাকবে বলে মনে করে দলটি। সেক্ষেত্রে নিজ দলের বিদ্রোহী প্রার্থী কোনোভাবে ছাড় না দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে দলটি। বর্ধিত সভায় তৃণমূল নেতাদের সে ধরনেরই নির্দেশনা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী ও দলীয়প্রধান শেখ হাসিনা। আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আহমদ হোসেন বলেন, আওয়ামী লীগ দেশের বড় দল, অনেক ক্ষেত্রে সবদিক বিবেচনা করে সিদ্ধান্ত নিতে হয়। সাধারণ ক্ষমার মাধ্যমে যাদের দলের আনা হয়েছে, তারাই আওয়ামী লীগ পরিবারেরই সদস্য। তার মানে এই না, আগামীতেও তা করা হবে। আগামী নির্বাচনে যারা দলের বিরুদ্ধে যাবে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার সিদ্ধান্ত আছে।
এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ
সর্বশেষ
সর্বাধিক পঠিত