শিরোনাম
চার সিটি নির্বাচন

পুনরুদ্ধারে মরিয়া আ.লীগ ধরে রাখতে চায় বিএনপি

প্রিন্ট সংস্করণ॥কাওসার আজম  |  ০০:২১, জুন ২১, ২০১৮

ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের গতকাল বলেছেন আগামী অক্টোবরে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের জন্য ‘নির্বাচনকালীন সরকার’ গঠন হতে পারে। ডিসেম্বর থেকে জানুয়ারির মধ্যে এই নির্বাচন অনুষ্ঠানের সম্ভাবনা রয়েছে বলে বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে। এই অবস্থায় নির্বাচন কমিশন (ইসি) ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী ২৬ জুন গাজীপুর এবং ৩০ জুলাই রাজশাহী, বরিশাল ও সিলেট সিটি কর্পোরেশন নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। জাতীয় নির্বাচনের ঠিক আগ মুহূর্তে গুরুত্বপূর্ণ এই চার সিটি নির্বাচনে ভোটযুদ্ধে নেমেছে দেশের দুই প্রধান দল আওয়ামী লীগ ও বিএনপি। উভয় দলই চার সিটিতে জয় পেতে মরিয়া। সংশ্লিষ্ট এলাকার ভোটাররা তো বটেই সারাদেশের মানুষেরও চোখ এখন এই চার সিটির নির্বাচনের দিকে। এই চার সিটির বর্তমান মেয়র সংসদের বাইরে থাকা বিরোধী দল বিএনপির দখলে। তারা চাচ্ছে ধরে রাখতে। অন্যদিকে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ পুনরুদ্ধারে সর্বশক্তি নিয়োগ করেছে।ইসির তফসিল অনুযায়ী আগামী ২৬ জুন স্থগিত থাকা গাজীপুর সিটি কর্পোরেশনের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হচ্ছে। এই নির্বাচনে আওয়ামী লীগের জাহাঙ্গীর আলম নৌকা প্রতীকে এবং বিএনপির হাসান উদ্দিন সরকার ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। গত ১৫ মে খুলনা সিটির সাথে গাজীপুরেও নির্বাচন হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু সীমানা জটিলতায় আদালতে রিট আবেদনের প্রেক্ষিতে স্থগিত করা হয় ওইদিনের গাজীপুর নির্বাচন। পরে ইসি ২৬ জুন নির্বাচনের তারিখ ঘোষণা করে। ১৮ জুন থেকে ফের শুরু হয়েছে এই সিটির মেয়র ও কাউন্সিলর প্রার্থীদের প্রচারণা। জয় পেতে দিনরাত ভোটারদের দ্বারে দ্বারে ঘুরছেন প্রার্থীরা। এদিকে নির্বাচন কমিশন ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী আগামী ৩০ জুলাই রাজশাহী, বরিশাল ও সিলেট সিটি কর্পোরেশনের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। গত ১৮ জুন থেকে ধানমন্ডির আওয়ামী লীগ সভাপতির রাজনৈতিক কার্যালয় থেকে মনোনয়নপত্র বিক্রি শুরু হয়েছে। গতকাল থেকে নয়াপল্টন দলীয় কার্যালয় হতে মনোনয়নপত্র বিক্রি শুরু করেছে বিএনপি। জাতীয় নির্বাচন কোন প্রক্রিয়ায় অনুষ্ঠিত হবে, এ নিয়ে বিএনপির নেতাকর্মীদের মধ্যে সংশয় ও অনিশ্চয়তা থাকলেও ঘোষিত সিটি কর্পোরেশনগুলোতে জয় পেতে নানা কৌশলে এগোচ্ছে দলটি। গত ১৫ মে অনুষ্ঠিত খুলনা সিটি নির্বাচনে আওয়ামী লীগের তালুকদার আব্দুল খালেকের কাছে হেরেছে বিএনপির প্রার্থী নজরুল ইসলাম মঞ্জু। যদিও এই সিটির সদ্য সাবেক মেয়র বিএনপি নেতা মনিরুজ্জামান মনিকে বাদ দিয়ে জনপ্রিয় নেতা মঞ্জুকে প্রার্থী করে দলটির শীর্ষ নেতৃত্ব। কিন্তু শেষ পর্যন্ত ক্ষমতাসীন দলের প্রার্থী তালুকদার খালেকের কাছে হারতে হয় সাবেক এই সংসদ সদস্যকে। গাজীপুর সিটি নির্বাচনেও প্রার্থী বদল করেছে আওয়ামী লীগ ও বিএনপি। আগের নির্বাচনে এখানে আওয়ামী লীগের প্রার্থী অ্যাডভোকেট আজমত উল্লাহকে বিপুল ভোটে হারিয়ে জয়ী হোন বিএনপির অধ্যাপক এমএ মান্নান। এবার মান্নানকে প্রার্থী না করে হাসান উদ্দিন সরকারকে প্রার্থী করেছে দলটি। অন্যদিকে আওয়ামী লীগও প্রার্থী পরিবর্তন করে আজমত উল্লাহর জায়গায় মনোনয়ন দিয়েছে জাহাঙ্গীর আলমকে। জাহাঙ্গীর আলম বয়সে তরুণ, অন্যদিকে হাসান উদ্দিন সরকার একজন প্রবীণ রাজনীতিবিদ। শেষ মুহূর্তের প্রচারণায় মেতেছেন এই দুই মেয়র প্রার্থী। তবে শেষ হাসি কে হাসেন সেটা দেখার জন্য অপেক্ষা করতে হবে আরও এক সপ্তাহ। সূত্রগুলো বলছে, ৩০ জুলাই অনুষ্ঠিতব্য রাজশাহী, বরিশাল ও সিলেট সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে যোগ্য ও জনপ্রিয় প্রার্থী বাছাইয়ের কাজ করছেন আওয়ামী লীগ ও বিএনপির শীর্ষ নেতৃত্ব। এই তিন সিটির মেয়রও সংসদের বাইরে থাকা বিরোধী দল বিএনপির দখলে। বিএনপি চাচ্ছে তাদের অবস্থান ধরে রাখতে। অন্যদিকে পুনরুদ্ধারে আপ্রাণ চেষ্টায় রয়েছে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ। রাজশাহীতে আওয়ামী লীগের মেয়র প্রার্থী হিসেবে সাবেক মেয়র খায়রুজ্জামান লিটন, বরিশালে সাবেক চিফ হুইপ আবুল হাসনাত আব্দুল্লাহর ছেলে সেরনিয়াবাত সাদিক আব্দুল্লাহ এবং সিলেটে সাবেক মেয়র বদরউদ্দিন আহমদ কামরানের নাম জোরেসরে শোনা যাচ্ছে। এর বাইরেও একাধিক প্রার্থী থাকলেও শেষ পর্যন্ত তারাই সংশ্লিষ্ট এলাকার ক্ষমতাসীন দলের মেয়র প্রার্থী হতে পারেন। অন্যদিকে রাজশাহীতে বিএনপি দলীয় বর্তমান মেয়র মোসাদ্দেক হোসেন বুলবুল, সিলেটে আরিফুল হক চৌধুরী ও বরিশালে আহসান হাবিব কামাল এবারও দলীয় মনোনয়নপত্র তুলেছেন। প্রথম দুইজন দলীয় মনোনয়ন পাওয়ার সম্ভাবনা বেশি হলেও বরিশালে কামালের পরিবর্তে বিকল্প ভাবনায় রয়েছে বিএনপি। এছাড়া সিলেটে মেয়র প্রার্থী হিসেবে বিএনপির নেতৃত্বাধীন ২০ দলীয় জোটের শরিক জামায়াতের অ্যাডভোকেট এহসানুল মাহবুব জুবায়েরকে প্রার্থী করার জন্য জোর প্রচেষ্টা চালাচ্ছে দলটি। সিলেটে মেয়র প্রার্থী নিশ্চিত করতে রাজশাহীতেও প্রার্থী ঘোষণা করেছে জামায়াত। তবে শেষ পর্যন্ত একক প্রার্থী নিয়েই নির্বাচনি বৈতরণী পার করতে চায় বিএনপি জোট। গতকাল ২০ দলের সভায় এমন সিদ্ধান্ত হয়েছে বলে জানিয়েছেন জোটের একাধিক নেতা। গতকাল পর্যন্ত রাজশাহী, সিলেট ও বরিশালে মেয়র প্রার্থী হিসেবে ১৫ জন বিএনপির মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেছেন। এদিকে জাতীয় নির্বাচনের আগে স্থানীয় সরকারের গুরুত্বপূর্ণ চার সিটির নির্বাচন অবাধ ও সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করা নির্বাচন কমিশনের (ইসি) জন্যও চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন দলীয় সরকারের অধিনে হবে নাকি নির্বাচনকালীন নিরপেক্ষ সরকারের অধিনে হবেÑ এ নিয়ে বিএনপির নেতৃত্বাধীন ২০ দলসহ জনগণের বৃহৎ অংশ সংশয় ও অনিশ্চয়তায় রয়েছে। বিএনপি জোটসহ সংসদের বাইরে থাকা বিরোধী দলগুলো বারবার বলে আসছে দলীয় সরকারের অধিনে সুষ্ঠু নির্বাচন সম্ভব নয়। বর্তমান কেএম নূরুল হুদা কমিশনের অধিনে সুষ্ঠু নির্বাচন সম্ভব নয় বলেও ইতোমধ্যে বিএনপির পক্ষ থেকে বলা হয়েছে। এ অবস্থায় বিভিন্ন মহলের চাপ উপেক্ষা করে চার সিটিতে সুষ্ঠু নির্বাচন উপহার দেওয়া বর্তমান কমিশনের জন্য অত্যন্ত চ্যালেঞ্জের বলে মনে করছেন নির্বাচন বিশেষজ্ঞরা। গতকাল প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কে এম নূরুল হুদার নেতৃত্বে অন্যান্য কমিশনাররা গাজীপুর সফরে যান। সেখানে সিইসির নেতৃত্বে সিটি নির্বাচন উপলক্ষে সমন্বয় কমিটির বিশেষ আইনশৃঙ্খলা সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভা শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে কে এম নূরুল হুদা বলেন, গাজীপুর সিটি নির্বাচন যদি সুষ্ঠু না হয় তাহলে যে ব্যক্তি দায়ী হবে তার বিরুদ্ধে আইনগত কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। আর আইনগত ব্যবস্থা নেয়ার জন্য যে পর্যায়ে যাওয়ার দরকার হয় যাওয়া হবে। এ নির্বাচনে সেনাবাহিনী মোতায়েন করা হবে না। সিইসি বলেন, গাজীপুর সিটিতে ২৬ জুন নির্বাচন কীভাবে হবে, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর দায়িত্ব কী হবে এবং প্রশাসনের কী ভূমিকা থাকবে তার পরিকল্পনা কী থাকবে তা নিয়ে আলাপ আলোচনা ও মতবিনিময় হয়েছে। আলোচনা ও মতবিনিময় সফল হয়েছে। আমারা আশা করি ২৬ জুন যে নির্বাচন হবে সেটা সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন হবে। ভোটাররা তাদের পছন্দ মতো প্রার্থীদের ভোট দিয়ে বিজয়ী করতে পারবেন।তিনি আরও বলেন, গাজীপুরে নির্বাচন নিয়ে কোনো ঝুঁকি নেই। নির্বাচন সুষ্ঠু হবে এ প্রত্যাশা করেছে উপস্থিত আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর বিভিন্ন সংস্থার সদস্যরা। গাজীপুরের প্রশাসন সর্বাত্মক চেষ্টা করবে নির্বাচন সুষ্ঠু করার জন্য। আর এ রকম অঙ্গীকার ব্যক্ত করেছে প্রশাসনের কর্মকর্তারা। ঢাকা বিভাগীয় কমিশনার কে এম আলী আজমের সভাপতিত্বে সভায় আরও বক্তব্য রাখেন নির্বাচন কমিশনার মাহবুব তালুকদার, মো. রফিকুল ইসলাম, বেগম কবিতা খানম, ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) শাহাদাত হোসেন চৌধুরী ও নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের সচিব হেলালুদ্দীন আহমদ। এছাড়াও স্থানীয় প্রশাসন, পুলিশ, বিজিবির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ
সর্বশেষ
সর্বাধিক পঠিত