শিরোনাম

চলন্ত ট্রেনে পাথর নিক্ষেপ আসছে কঠোর আইন

প্রিন্ট সংস্করণ॥নুর মোহাম্মদ মিঠু  |  ০৭:৩২, জুন ১৩, ২০১৮

চলন্ত ট্রেনে সবচেয়ে বড় আতঙ্কের নাম ‘পাথর নিক্ষেপ’। প্রচলিত আইনে কোনোভাবেই অপরাধীদের আইনের আওতায় আনা যাচ্ছে না। গত এক বছরে পাথর নিক্ষেপের দেড় শতাধিক ঘটনায় ট্রেন যাত্রী ও রেল কর্মচারীসহ আহত হয়েছেন প্রায় দুই শতাধিক। সর্বশেষ গত ৩০ এপ্রিল খুলনায় দায়িত্বরত অবস্থায় মারাত্মক আহত হন টিআই (সি) শিকদার বায়েজিদ। সংকটাপন্ন অবস্থায় এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে করে খুলনা থেকে প্রথমে রাজধানীর স্কয়ার হাসপাতালে পরে অবস্থার অবনতি দেখে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় গত সোমবার সন্ধ্যা ৭টায় মারা যান তিনি। এর আগে চট্টগ্রামের সীতাকু-ে পাথরের আঘাতে প্রীতিদাস নামে একজন প্রকৌশলী মারা যান। রেল সূত্র জানায়, পাথর বা ঢিল ছোড়ার বেশি ঘটনা ঘটছে দেশের ২০ জেলায়। এর মধ্যে রেলওয়ের পূর্বাঞ্চলে ৫টি এবং পশ্চিমাঞ্চলে ১৫টি জেলা রয়েছে। রেলপথ মন্ত্রণালয়ের সচিব মোফাজ্জেল হোসেন বলেন, চলন্ত ট্রেনে পাথর বা ঢিল নিক্ষেপের ঘটনা দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। তিনি বলেন, গত বছর ১৪ জন রেলকর্মী পাথর নিক্ষেপের ঘটনায় আহত হয়েছেন। বছরে গড়ে ১৫০টি পাথর নিক্ষেপের ঘটনা ঘটে। পাথর নিক্ষেপে দরজা-জানালার কাচ ভাঙার দুই হাজার ঘটনা ঘটেছে। আর পাথরের আঘাতে ক্ষতিগ্রস্ত রেলের নির্মাণ খরচ বছরে প্রায় পৌনে দুই কোটি টাকা। গুরুত্বপূর্ণ এলাকা হিসেবে রেলের পূর্বাঞ্চলের ৩৬ ও পশ্চিমাঞ্চলের ২৯ স্পটে পাথর নিক্ষেপের ঘটনা ঘটে। তিনি বলেন, এ বিষয়ে মানুষকে সচেতন করতে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে এবং পাশাপাশি পাথর নিক্ষেপের ঘটনা বন্ধে কঠোর আইন করার প্রক্রিয়া চলছে।রেলওয়ে পুলিশের অতিরিক্ত মহাপরিদর্শক মোহাম্মদ আবুল কাশেম বলেন, চলন্ত ট্রেনে পাথর ছুড়ে মারলে ট্রেনের ক্ষতির পাশাপাশি কর্মরত বা ভ্রমণকারীরা হতাহত হতে পারেন। এটা খুবই উদ্বেগের বিষয়। আমাদের জন্য সব সময় এটা চ্যালেঞ্জ। তিনি বলেন, চলন্ত রেলে পাথর ছোড়ার ঘটনা ভারতীয় উপমহাদেশে সবচেয়ে বেশি। ভারতেও প্রতি মাসে এ ধরনের ঘটনা ঘটে। লোকাল বা মেইল ট্রেনে লোকবল কম বা অন্যান্য কারণে আমাদের নিরাপত্তা নেই। সব স্টেশনে পুলিশ নেই। আমাদের কিছু সীমাবদ্ধতা আছে। পুলিশের এ কর্মকর্তা আরও বলেন, বায়েজিদ শিকদারের ঘটনায় মামলা হয়েছে, আসামি ধরা হয়েছে বলেও জানান তিনি। পাথর নিক্ষেপের ঘটনায় সচেতনতা তৈরিতে ফিচার তৈরি করে মিডিয়ায় ব্যাপকভাবে প্রচার করতে হবে জানিয়ে আবুল কাশেম বলেন, সচেতনতা কর্মসূচি আরও জোরদার করতে হবে। শাস্তির পরিমাণও বাড়ানো যেতে পারে। উল্লেখ্য, পাথর ছোড়া প্রতিরোধে ব্যবস্থা নিতে গত ৩১ ডিসেম্বর ১২ জেলা প্রশাসককে রেল মন্ত্রণালয় থেকে চিঠি দেওয়া হয়েছে। গত ২৯ জানুয়ারি ১৭ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে প্রশাসনের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে অন্তর্ভুক্ত করে চলন্ত ট্রেনে পাথর নিক্ষেপ রোধে ভূমিকা নিতে চিঠি দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়াও রেলে পাথর নিক্ষেপ রোধে জনগণকে সচেতন করতে গত ৯ মে রেল সচিব ১৪ ডিসিকে ডিও পত্র দিয়েছেন। এদিকে, বায়েজিদের মৃত্যুকে দুর্ঘটনা বলে মানতে নারাজ বাংলাদেশ রেলওয়ের মহাপরিচালক মো. আমজাদ হোসেন। তিনি বলেন, তাকে মেরে ফেলা হয়েছে। আমরা মনে করি, এটা সন্ত্রাসী কার্যক্রম। হত্যার উদ্দেশ্যেই বড় পাথর ছোড়া হয়েছিল। একটা সংঘবদ্ধ চক্র ওই এলাকায় প্রায়ই ট্রেনে পাথর নিক্ষেপ করে বলে জানান তিনি। পাথর ছুড়ে দেয়, এতে লোকজন মারা যায়। এটা কোনো তামাশা না। আমরা ধরে নেই এটা হত্যার উদ্দেশ্যেই মারা হয়েছে। তিনি আরও বলেন, আমরা চারজনের বিরুদ্ধে মামলা করেছি। এখন বাকি কাজ পুলিশের। শুনেছি এখন পর্যন্ত তারা একজনকে ধরেছে। রেলপথমন্ত্রী জানান, আহত বায়েজিদের চিকিৎসার জন্য গত সোমবার তার পরিবারকে এক লাখ টাকা সহায়তা প্রদানসহ মোট দুই লাখ টাকা দেওয়া হয়েছে। পাথর নিক্ষেপের ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করে তিনি জানান, ইতোমধ্যে বেশ কয়েকটি সভা করেছে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ। এছাড়া ১২ জেলা প্রশাসককে রেল মন্ত্রণালয় থেকে ইতোমধ্যে চিঠিও দেওয়া হয়েছে। এছাড়াও এসব ঘটনা বন্ধে কঠোর আইন করার প্রক্রিয়া চলছে।
এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ
সর্বশেষ
সর্বাধিক পঠিত