শিরোনাম

জলাবদ্ধতা নিরসনে ওয়াসার নানা উদ্যোগ

প্রিন্ট সংস্করণ॥ফারুক আলম  |  ০০:৪৭, মে ২৫, ২০১৮

বৃষ্টির মৌসুম আসার আগেই ঢাকার খাল খনন, দখল উচ্ছেদ ও ময়লা অপসারণের কাজ শুরু করেছে ঢাকা ওয়াসা। ইতোমধ্যে ২৮ কিলোমিটার খালের ভাসমান ময়লা, ৯.৫০ কিলোমিটার খাল পুনঃখনন, ২৪৯ কিলোমিটার স্টর্ম ওয়াটার পাইপ ড্রেন পরিষ্কার করেছে। বিশেষজ্ঞদের মতে রাজধানীর জলাবদ্ধতা দূর করার কাজগুলো অপ্রতুল।২০১৭ সালে রাজধানীর জলাবদ্ধতার কারণ চিহ্নিত করে একটি তালিকা তৈরি করে ওয়াসা। তালিকায় জলাবদ্ধতা নিরসনে যে কয়টি খাল রয়েছে সেগুলোর বেহাল অবস্থা। সবগুলো খাল পরিষ্কার ও পুনঃখনন করতে না পারলেও ২০১৭-১৮ সালের অর্থবছরের রাজস্ব ও সাহায্য মঞ্জুরি খাতের প্রাপ্ত বাজেট অনুযায়ী ওয়াসা যে খাল পরিষ্কার ও পুনঃখনন করেছে সেগুলো হচ্ছে রামচন্দ্রপুর খাল, কাঁটাসুর খাল, কল্যাণপুর প্রধান খাল, কল্যাণপুর ‘খ’ ‘ঘ’ ও ‘চ’ শাখা খাল, বাউনিয়া খাল, রূপনগর প্রধান খাল, আরামবাগ খাল, দুয়ারীপাড়া খাল, বাইশটেকী খাল ও হাজারীবাগে মোট ২৮ কিলোমিটার খালের ভাসমান ময়লা পরিষ্কার করেছে। এছাড়াও রামচন্দ্রপুর খাল, রূপনগর খাল, বাউনিয়া খাল, দেব-ধোলাই খাল, সেগুনবাগিচা খাল ও মাণ্ডা খালে ৯.৫০ কিলোমিটার পুনঃখনন করেছে। স্টর্ম ওয়াটার পাইপ ড্রেন পরিষ্কার করেছে ২৪৯ কিলোমিটার।সরেজমিন দেখা যায়, মোহাম্মদপুর মোহাম্মাদিয়া হাউজিংয়ে এক্সকাভেটর যন্ত্রের মাধ্যমে খাল থেকে ময়লা-আবর্জনা তুলে ট্রাকে করে ফেলা হচ্ছে। এ কাজের দায়িত্বে রয়েছেন ফিরোজ কবির শাওন। তিনি আমার সংবাদকে বলেন, প্রতিদিন সকাল-সন্ধ্যা খালের আবর্জনা পরিষ্কার করা হচ্ছে। ৫ দিনে খালের ৫০ মিটার পর্যন্ত
পরিষ্কার করা হয়েছে। এই কার্যক্রম একমাস পর্যন্ত চলবে। এ বিষয়ে ওয়াসার পরিচালক (কারিগরি) এ কে এম সহিদ উদ্দিন আমার সংবাদকে বলেন, গত ১৫ বছরের মধ্যে এবারই বড় পরিসরে খাল খনন ও ময়লা পরিষ্কারের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। ইতোমধ্যে ধোলাই খাল, কল্যাণপুর, রামপুরা, জনপথ ও গোড়ান চটবাড়িতে ৪টি স্থায়ী পাম্পিং স্টেশন রক্ষণাবেক্ষণ করা হচ্ছে। এছাড়াও অস্থায়ীভাবে ১৫টি পাম্পিং স্টেশন স্থাপন হয়েছে। এ বছর জলজটের ভোগান্তি গত বছরের চেয়ে বহুলাংশে কম হবে। বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব প্ল্যানার্সের সাধারণ সম্পাদক আদিল মুহাম্মদ খান আমার সংবাদকে বলেন, জলাবদ্ধতা গত বছর ভয়াবহ আকার ধারণ করেছিল। এবার অল্প বৃষ্টিতে মিরপুর জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে। যদি ভারী বৃষ্টি হয় পুরো ঢাকার রাস্তা পানির নিচে তলিয়ে যাওয়ার শঙ্কা রয়েছে। কারণ গত বছর বর্ষা মৌসুমের অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে এবছর ওয়াসার যে ধরনের কাজ করার কথা ছিল তা বাস্তবায়ন হয়নি। উল্লেখ্য, ঢাকায় মোট ৪৩টি খাল রয়েছে। এরমধ্যে ২৬টি খাল রক্ষণাবেক্ষণ করে ঢাকা ওয়াসা। বাকি খালগুলো জেলা প্রশাসন ও সিটি কর্পোরেশন দেখভাল করে। এসব খালের ওপরে অপরিকল্পিত বাঁধ ও অবকাঠামো নির্মাণে পানি নিষ্কাশনের পথ সংকুচিত হয়েছে। ফলে পাম্পিং স্টেশনের মাধ্যমে কৃত্রিমভাবে পানি নিষ্কাশন করছে ওয়াসা। এ পথও বাধাগ্রস্ত হলে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হবে ঢাকাবাসীকে।
এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ
সর্বশেষ
সর্বাধিক পঠিত