শিরোনাম

এবার নগরভবনের সামনেই হকারদের রাজত্ব

প্রিন্ট সংস্করণ॥ফারুক আলম  |  ০০:৩৫, মে ১৬, ২০১৮

ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের (ডিএসসিসি) মেয়র সাঈদ খোকন ৩ বছর আগে মেয়র হিসেবে শপথ গ্রহণ করেন। আজ ৩ বছরপূর্তি উপলক্ষে ডিএসসিসিতে সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়েছে। এতে উঠে আসবে মেয়রের সফলতা, চ্যালেঞ্জ ও ব্যর্থতা। এসব সমীকরণ যখন সম্মেলনে উঠে আসবে তখন আসন্ন রোজা ও ঈদ উপলক্ষে ফুটপাতে রাজত্ব বেড়েছে হকারদের। হকাররা গুলিস্তানের ফুটপাত থেকে শুরু করে নগর ভবনের সামনেই বসছে। রাজধানীর গুলিস্তানে ৫ বছর ধরে ফুটপাতে দোকান বসিয়ে খেলনা বিক্রি করছেন আব্দুল জব্বার। খেলনা বিক্রি থেকে তিনি প্রতিদিন ১-২ হাজার পর্যন্ত আয় করেন। এই আয়ের টাকা থেকে প্রতি সপ্তাহে ১০৫০ টাকা চাঁদা গুনতে হয় তাকে। কখনো কখনো সিটি কর্পোরেশনের কড়াকড়ি নজরদারি ও বৃষ্টিতে দোকান বসাতে না পারলেও চাঁদা দিতে হয়। শুধু জব্বার নয়, প্রতিটি দোকানিকে এমন চাঁদা গুনতে হচ্ছে। এসব চাঁদার টাকার ভাগ পাচ্ছেন স্থানীয় রাজনৈতিক প্রভাবশালী নেতাকর্মীরা, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য, সিটি কর্পোরেশন ও হকার সমিতির নেতারা।সংশ্লিষ্ট সূত্র মতে, লাইনম্যান হকারদের থেকে চাঁদা তুলে ৪ ক্যাটাগরি ম্যানেজ করে। প্রতিনিয়ত নিয়ম অনুযায়ী চলে এসব চাঁদার টাকা ভাগাভাগি। এই চার ক্যাটাগরিতে ভাগবাঁটোয়ারার সমস্যা হলেই হকাররা ফুটপাতে বসতে পারেন না। গুলিস্তানের ফুটপাতে কতগুলো দোকন আছে, কতগুলো দোকান নতুন বসছে কিংবা নতুন করে কতগুলো দোকানবসানো যায় সকল তথ্য এই ৪ ক্যাটাগরির কাছে থাকে। লাইনম্যান ফুটপাতে ৫০টি দোকানের চাঁদা তুলে ২৫টি দোকানের চাঁদা জমা দেবে এমন সুযোগ নেই।সরেজমিন দেখা যায়, ঢাকা দুই সিটি কর্পোরেশনের মূল সড়কের দুপাশ হকাররা দখল করে ব্যবসা শুরু করেছে। রাজধানীর অলিগলি থেকে মূল সড়ক পর্যন্ত হকারদের দখলে। মেয়র মোহাম্মদ হানিফ ফ্লাইওভারের প্রবেশ মুখ থেকে গুলিস্তানের বঙ্গবন্ধু স্কোয়ার হয়ে গোলাপশাহ মাজার পর্যন্ত সড়কের দুধারে অসংখ্য হকার জুতা, ফল, কাপড়সহ নানা পণ্যের বাজার বসেছে। বায়তুল মোকাররম ও পল্টন এলাকার ফুটপাত হকারদের দখলে। ডিএনসিসির আওতাধীন উত্তরা, মোহাম্মদপুর, মিরপুর থেকে শুরু করে অধিকাংশ সড়কের দুপাশে হকার বসেছে।ফুটপাতে হকারদের কাছ থেকে চাঁদা তুলছেন লাইনম্যান আব্দুর রব। রবের দলে রয়েছে ১০ জন। তারা প্রতিদিনই দুই শিফটে চাঁদা তোলেন হকারদের কাছ থেকে। এখানে ভাসমান হকার ও অস্থায়ী হকার দুটি পার্থক্য রয়েছে। বিট হিসেবে যেসব হকার রয়েছেন যারা প্রতি সপ্তাহের চাঁদা একদিনে দিয়ে থাকেন। আর যারা ভসমান হকার তাদের কাছ থেকে প্রতিনিয়ত চাঁদা তোলা হচ্ছে।গুলিস্তানের ফুটপাতে বসে ব্যবসা করছেন আরিফ। তিনি বলেন, প্রতিদিন যে আয় হয় তার থেকে আবার ২০০ টাকা লাইনম্যানকে দিতে হয়। তারা পুলিশ ও ফুটপাতের জায়গা বিক্রি করে এ টাকা নেয়। টাকা না দিলে ফুটপাতে বসতে দেওয়া হয় না। গুলিস্তানের হকার উচ্ছেদে ডিএসসিসির মেয়র সাঈদ খোকন কঠোর উচ্ছেদ অভিযান চালানোর পরও ফুটপাত দখলমুক্ত রাখা সম্ভব হয়নি। বরং আগের তুলনায় হকারদের রাজত্ব ফুটপাতে বেড়েছে। এবার গুলিস্তান থেকে শুরু করে শহরের প্রতিটি অলিগলি হকারদের দখলে চলে গেছে। এতে মেয়র নিজেও উদ্বিগ্নে রয়েছেন। ফুটপাত দিয়ে পথচারী হাঁটতে না পারায় জীবনের ঝুঁকি নিয়ে সড়কের উপর দিয়ে পথ চলতে হচ্ছে। এ বিষয়ে ডিএসসিসির প্রধান সম্পত্তি কর্মকর্তার সঙ্গে ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তাকে পাওয়া যায়নি। তবে ডিএসসিসির প্রধান রাজস্ব কর্মকর্তা ইউসূফ আলী সরদার আমার সংবাদকে বলেন, গুলিস্তান হচ্ছে গুরু মারার স্থান। এখানে হকারদের সঙ্গে বড় বড় রাঘব বোয়াল রয়েছেন। চিটার, বাটপার ও রাজনৈতিক নেতা রয়েছেন। যাদের বিরুদ্ধে কথা বলার সাহস নেই অনেকের। এরপরও আমাদের পক্ষ থেকে প্রতিনিয়ত ফুটপাত দখলমুক্ত করতে উচ্ছেদ অভিযান চালানো হচ্ছে।হকারদের কাছ থেকে চাঁদা আদায়ের বিষয়ে বাংলাদেশ হকার্স ফেডারেশনের সভাপতি এম এ কাশেম বলেন, ফুটপাত থেকে প্রায় ১ কোটি টাকা লাইনম্যান চাঁদা তোলেন এটা লুকোচুরির কিছু নেই। এই চাঁদার টাকা ৩ ভাগের ২ ভাগ পায় পুলিশ ও স্থানীয় রাজনৈতিক দলের প্রভাবশালীরা। গুলিস্তান এলাকার হাজার দুয়েক হকারের কাছ থেকে রীতিমতো নিয়ম করে তোলা হয় চাঁদা।বাংলাদেশ হকার্স ইউনিয়নের উপদেষ্টা মুরশিকুল ইসলাম শিমুল আমার সংবাদকে বলেন, ফুটপাত হকারমুক্ত রাখার প্রক্রিয়ায় সিটি কর্পোরেশন যাচ্ছে না। আগে উচ্ছেদ পরে হকারদের বিকল্পব্যবস্থা করার পক্ষে আমরা না। পরিকল্পিতভাবে হকারদের জীবন-ধারণের ব্যবস্থা করে দিলে হকাররা ফুটপাতে বসে না। এরপরও পুলিশ প্রশাসন যদি কঠোর পদক্ষেপ নেয় তখন ফুটপাত হকারমুক্ত রাখতে পারবে। এছাড়া সম্ভব নয়। ফুটপাতে চাঁদার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ফুটপাতে চাঁদাবাজি হয় এতে কোনো সন্দেহ নেই। লাইনম্যান এই চাঁদার টাকা রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মী, পুলিশ ও মাস্তানরা ভাগ দিয়ে থাকে। ডিএমপির অতিরিক্ত কমিশনার (ট্রাফিক) মীর রেজাউল আলম বলেন, এগুলো পুরাতন অভিযোগ। নতুন করে বলার কিছুই নাই। এরকম ঢালাওভাবে মন্তব্য করতে পারেন না। অভিযোগ পেলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ
সর্বশেষ
সর্বাধিক পঠিত