শিরোনাম

হাসপাতালের ফার্মেসিতে সর্বস্বান্ত রোগীরা

প্রিন্ট সংস্করণ॥আফছার আহমদ রূপক  |  ১১:১০, এপ্রিল ১৯, ২০১৮

রাজধানীর হাসপাতালগুলোর নিজস্ব ফার্মেসি যেন কসাইখানা। বাইরের ফার্মেসির তুলনায় এসব হাসপাতালের ফার্মেসিতে ওষুধের দাম নেওয়া হচ্ছে অনেক বেশি। আর বাড়তি দামে ওষুধ কিনে সর্বস্বান্ত হচ্ছে রোগীরা। সবথেকে বেশি দাম নেওয়া হয় প্রাইভেট হাসপাতালগুলোর নিজস্ব ফার্মেসিতে। তবে সরকারি হাসপাতালের কক্ষ ভাড়া করে বা লিজ নিয়ে যেসব ব্যবসায়ী ফার্মেসি দিয়েছেন, তারাও ওষুধের দাম বেশি নেন। আশপাশের প্রাইভেট ফার্মেসির তুলনায় চড়া দাম নিতে দেখা গেছে তাদের। সরকারি-বেসরকারি ফার্মেসিগুলোর মালিকদের কাছে রীতিমতো জিম্মি রোগীরা। অবাক করার মতো ঘটনা হলো যখন সর্বোচ্চ খুচরা মূল্য বা এমআরপির থেকেও বেশি দাম নেওয়ার অভিযোগ উঠে। ধানমণ্ডি, মিরপুর, কলেজগেইটসহ বেশ কয়েকটি এলাকার হাসপাতাল ফার্মেসি ঘুরে এ ধরনের অভিযোগ পাওয়া গেছে রোগী ও দর্শনার্থীদের কাছ থেকে। ফার্মেসিগুলোর এই ওষুধ বাণিজ্যে রীতিমতো ক্ষুব্ধ মানুষ। ধানম-িতে অবস্থিত একটি হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা একজন রোগীর আত্মীয় আমার সংবাদের কাছে অভিযোগ করে বলেন, তার রোগীর জন্য কিছু ওষুধ লিখে দেন ওই হাসপাতালের ডাক্তার। তিনি প্রেসক্রিপশন নিয়ে হাসপাতালের ফার্মেসিতে যাওয়ার পর তার কাছে ওষুধগুলোর দাম চাওয়া হয় তিন হাজার টাকা। তখন বেশি দাম মনে হওয়ায় হাসপাতালটির পাশের অন্য একটি ফার্মেসিতে যাচাই করতে গেলে সেখানে দাম চাওয়া হয় ৭০০ টাকা কম। তিন হাজার  টাকার ওষুধের মধ্যে এত তফাত দেখে তার মাথা ঘুরে যায়। কারণ একসপ্তাহ তার রোগী চিকিৎধাধীন ছিল হাসপাতালটির আইসিইউতে। এই সাতদিনের প্রতিদিনই ৩ থেকে চার হাজার টাকার ওষুধ কিনতে হয়েছে তার। ফলে ৪ থেকে ৫ হাজার টাকা অতিরিক্ত গুনতে হয়েছে। অনুসন্ধানে দেখা গেছে গ্রাম থেকে আসা সহজ-সরল রোগীরাই বেশি ঠকছে হাসপাতালের ফার্মেসিতে। কারণ তারা দাম যাচাই করার প্রবণতা কম দেখান। তাছাড়া এমআরপিও অতশত বুঝেন না। যদিও-কখনো ধার-কর্জ করে, কখনো জমিজমা বিক্রি করে ঢাকায় আসছেন উন্নত চিকৎসার আশায়। এখানে এসে মনের অজান্তেই এই ঠকদের ফাঁদে পড়ে হচ্ছেন নিঃস্ব। এত গেল একটি প্রাইভেট হাসপাতালের চিত্র। এবার আসুন সরকারি হাসপাতালে। সেখানকার ফার্মেসিতে ওষুধ বেচার নামে চলছে চরম স্বেচ্ছাচারিতা। এরকমই একটি ফার্মেসি আছে জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউট হাসপাতালে। শেরেবাংলা নগরের এই সরকারি হাসপাতালের নিচতলায় একটি কক্ষ ভাড়া করে ওষুধের বেশি দাম নিচ্ছে অন্তরা ফার্মেসি। এই হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছেন এমন একজন হৃদরোগী জালাল মিয়ার স্ত্রী বলেন, তিনি তার স্বামীর জন্য অন্তরা ফার্মেসিতে ওষুধ কিনতে গেলে তার কাছে ওষুধের দাম বলা হয় সাড়ে চার হাজার টাকা। পরে তিনি হাসপাতালটির বিপরীতে রাস্তার অপর পাড়ের একটি ফার্মেসি থেকে ওষুধগুলো চার হাজার টাকায় কেনেন। তাতে তার সাশ্রয় হয়েছে ৫০০ টাকা। এভাবে ঢাকার বেশিরভাগ হাসপাতালের ফার্মেসিতে ওষুধের গলাকাটা দাম নেওয়া হচ্ছে। এ ব্যাপারে জানতে চাইলে ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তরের পরিচালক মো. রুহুল আমিন আমার সংবাদকে বলেন, নকল ও ভেজাল ওষুধ রোধে ফার্মেসিতে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। তবে হাসপাতালের ফার্মেসিগুলোতে কোনো ওষুধের মূল্য যদি সর্বোচ্চ খুচরা মূল্যের বেশি আদায় করা হয় তাহলে অবশ্যই খতিয়ে দেখে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। হাসপাতালের ফার্মেসি থেকে ওষুধ ক্রয়ের পর রশিদ নিয়ে ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তরে যোগাযোগ করে প্রতিকার চাওয়ার পরামর্শ দেন তিনি। 
এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ
সর্বশেষ
সর্বাধিক পঠিত