শিরোনাম

ঢাকা মেডিকেলের রোগীদের কপাল পুড়ছে মেডিনোভায়

প্রিন্ট সংস্করণ॥আফছার আহমদ রূপক  |  ১৬:২৪, এপ্রিল ১৬, ২০১৮

ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের নতুন ভবনের মেডিসিন ওয়ার্ডগুলোতে রোগী ভর্তি হলেই কিছুক্ষণের মধ্যে হাজির মেডিনোভা, পপুলারসহ বিভিন্ন প্রাইভেট ডায়াগনস্টিক সেন্টারের রিপ্রেজেনটেটিভরা। তারা রোগীর শরীর থেকে রক্ত সংগ্রহ করে নিজেদের ডায়াগনস্টিক সেন্টারে নিয়ে সেখান থেকে রিপোর্ট করে আবার এখানে পৌঁছে দেন এবং বিনিময়ে আদায় করেন মোটা অংকের ফি। সবচেয়ে বেশি ফি নিচ্ছে মেডিনোভা ডায়াগনস্টিক সেন্টার। এমনকী নমুনা সংগ্রহ করার পর কেউ যদি পরীক্ষা করাতে না চান তাহলেও টাকা দিতে হচ্ছে। এমনই একটি ঘটনা ঘটেছে গতসপ্তাহে। নতুন ভবনের ছয়তলায় এক রোগীর দেহ থেকে রক্ত ও মূত্র সংগ্রহ করে মেডিনোভার এক রিপ্রেজেনটেটিভ। পরীক্ষার ফি বাবদ কয়েক হাজার টাকা এবং নমুনা নিয়ে তিনি মেডিনোভাতে পৌঁছার আগেই রোগীর লোক ফোন করে তাকে জানায় রোগীর অবস্থা সংকটাপন্ন। তাই পরীক্ষা আর লাগবে না কারণ রোগী নিয়ে বাড়িতে চলে যাচ্ছি। টাকাগুলো
ফেরত দেওয়ার অনুরোধ করা হয়। কিন্তু ওই রিপ্রেজেনটেটিভ টাকা ফেরত দিতে অস্বীকার করেন। পরে তার কাছে আমার সংবাদ প্রতিবেদক ফোন করে জানতে চান পরীক্ষা না করার পরও কেন টাকা ফেরত দেওয়া হবে না? জবাবে তিনি জানালেন পরীক্ষা না হলেও নমুনা ল্যাবে জমা দেওয়া হয়ে গেছে। এ অবস্থায় কোনোভাবেই টাকা ফেরত দেওয়া যাবে না। এভাবে কেবল মেডিসিন ওয়ার্ডগুলোতেই নয়, ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের অন্যান্য ওয়ার্ড ও বহির্বিভাগে এবং মেডিনোভা, পপুলারসহ অন্যান্য ডায়াগনস্টিক সেন্টারের রিপ্রেজেনটেটিভরা অবাধে বিচরণ করছেন এবং রোগীর পরীক্ষা-নিরীক্ষা করিয়ে মোটা অংকের ফি নিচ্ছেন। এ কাজটি বেশি করছে মেডিনোভা। প্রতিটি পরীক্ষায়ই প্রতিষ্ঠানটির ফি অন্য প্রতিষ্ঠানের থেকে অনেক বেশি। অভিযোগ উঠেছে মেডিনোভার সঙ্গে যোগসাজশ রয়েছে হাসপাতালেরই কিছু অর্থলোভী ডাক্তার, নার্স ও কর্মচারীর। তারা একেকটি পরীক্ষা বাবদ অন্তত ৩০ শতাংশ কমিশন নিচ্ছেন। ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে বিনামূল্যে ও স্বল্পমূল্যে সব ধরনের পরীক্ষা-নিরীক্ষার ব্যবস্থা থাকলেও কতিপয় ডাক্তার এবং মেডিনোভা ডায়াগনস্টিক সেন্টারের চিকিৎসা বাণিজ্যের কারণে সর্বস্বান্ত হয়ে পড়ছেন সারাদেশ থেকে আসা শত শত গরিব, মধ্যবিত্ত ও নিম্নমধ্যবিত্ত রোগী। মেডিনোভার রিপ্রেজেনটেটিভদের বেশি আনাগোনা নতুন ভবনের মেডিসিন ওয়ার্ডগুলোতে। এসব ওয়ার্ডে অন্যান্য ওয়ার্ডের তুলনায় রোগীর সংখ্যা বেশি এবং বাণিজ্যও ভালো। গ্রাম থেকে আসা সহজ-সরল এসব দরিদ্র রোগীর অনেকেই প্রথমে মনে করেন এসব কর্মী ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের অথবা ডাক্তারদের নিজস্ব লোক। পরে ভুল ভাঙে। কিন্তু তারা বিশ্বাস করে পরীক্ষাগুলো করাচ্ছেন। আবার অনেকে রোগী বা তার আত্মীয়-স্বজন ডাক্তার এবং মেডিনোভার মধ্যে আর্থিক লেনদেনের বিষয় অনুমান করতে পারলেও রোগীর ক্ষতির ভয়ে পরীক্ষা করাতে বাধ্য। এদিকে অনেক রোগী অভিযোগ
করেছেন হাসপাতালের ভেতরে পরীক্ষা করাতে চাইলে কিছু ডাক্তার ভয় দেখান। বলেন, রোগীর অবস্থা খারাপ, দ্রুত বাইরে থেকে পরীক্ষা না করালে চিকিৎসা দেরিতে শুরু হবে এবং রোগীর জীবন ঝুঁকিতে পড়বে। এ ব্যাপারে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মেডিসিন বিভাগের একাধিক চিকিৎসক নাম প্রকাশ না করার শর্তে আমার সংবাদকে বলেন, মেডিনোভায় পরীক্ষা-নিরীক্ষা করিয়ে ঢালাওভাবে কমিশন নেওয়ার অভিযোগ ঠিক নয়। বাইরের ডায়াগনস্টিক সেন্টারের প্রতিনিধি যেন ঢুকতে না পারে সে ব্যাপারে কড়া নির্দেশ দেওয়া আছে এবং ডাক্তারদের বলা হয়েছে ভেতরে যেসব টেস্টের ব্যবস্থা আছে সেগুলো যেন বাইরে পাঠানো না হয়। তিনি জানান, দু-একটি ছাড়া বেশিরভাগ টেস্টই হাসপাতালের ভেতরে হচ্ছে।
এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ
সর্বশেষ
সর্বাধিক পঠিত