শিরোনাম
বর্ষবরণ অনুষ্ঠানে যৌন নিপীড়ন মামলা

একমাত্র আসামি জামিনে সাক্ষী যায় না আদালতে

প্রিন্ট সংস্করণ॥হাসান-উজ-জামান  |  ১৬:২১, এপ্রিল ১৬, ২০১৮

তিন বছর আগের বর্ষবরণ অনুষ্ঠানে যৌন নিপীড়নের মামলার অগ্রগতি নেই। ঘটনার সময়ের ভিডিও ফুটেজ থেকে ৮ জনকে ওই ঘটনায় দায়ী করে তাদের ধরিয়ে দিতে পুরস্কারও ঘোষণা করে পুলিশ। কিন্তু দীর্ঘদিন পর মাত্র একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। বর্তমানে তিনি জামিনে রয়েছেন। এর পর পুলিশ গত ১০ মাস আগে ওই মামলায় অভিযোগ গঠন করে। কিন্তু একজন সাক্ষীকেও আদালতে হাজির করতে পারেনি রাষ্ট্রপক্ষ। মানবাধিকার কর্মীদের দাবি এ ধরনের স্পর্শকাতর মামলার বিচার বিলম্বিত হওয়ায় বাড়ছে যৌন সহিংসতাজনিত অপরাধ। ২০১৫ সালের ঘটনা। পহেলা বৈশাখের সন্ধ্যায় সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের ফটকে ভিড়ের মধ্যে একদল উচ্ছৃঙ্খল যুবক নারীদের ওপর চড়াও হয়। তারা প্রকাশ্যে তরুণীদের শ্লীলতাহানি ও যৌন নিপীড়ন করে। কঠোর নিরাপত্তার মধ্যেও বর্ষবরণের উৎসবে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় ঘটা এ ঘটনায় জনমনে ক্ষোভ সৃষ্টি হয়। সমালোচনার ঝড় বইতে থাকে সর্বত্র। যৌন নিপীড়নের ওই ঘটনার পরদিন শাহবাগ থানার এসআই আবুল কালাম আজাদ বাদি হয়ে ওই থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে একটি মামলা দায়ের করেন। এতে আসামি করা হয় অজ্ঞাত কয়েকজনকে। ঘটনার সময় পুলিশের ভূমিকা নিয়ে দেশজুড়ে সমালোচনার মধ্যে ক্লোজড সার্কিট ক্যামেরার ভিডিও থেকে আট নিপীড়কের ছবি পাওয়ার কথা জানান তখনকার পুলিশপ্রধান। তাদের ধরিয়ে দিতে এক লাখ টাকা পুরস্কারও ঘোষণা করা হয়। দীর্ঘ ৭ মাস পর ২০১৫ সালের ১৩ ডিসেম্বর মামলার চূড়ান্ত প্রতিবেদন দাখিল করেন তদন্ত কর্মকর্তা গোয়েন্দা পুলিশের এসআই দীপক কুমার দাস। প্রতিবেদনে অপরাধীদের পুলিশ সনাক্ত করতে পারেনি বলে উল্লেখ করেন। এর মাস দেড়েক পর ২০১৬ সালের ২৮ জানুয়ারি চকবাজার এলাকা থেকে সবজি বিক্রেতা কামাল নামে একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। তখন পুলিশের পক্ষ থেকে বলা হয় ভিডিও ফুটেজে থাকা প্রকাশিত ছবির ৮ জনের একজন কামল। ঘটনার সময় তার দাঁড়ি ছিলো। গ্রেপ্তার এড়াতে তিনি তা কেটে ফেলেন। কামালকে ৫৪ ধারায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে রিমান্ডে নেওয়া হয়। কিন্তু তিনি কোনো জবানবন্দি দেননি। প্রায় নিস্ক্রিয় এ মামলাটি পুরুজ্জীবিত করার আবেদন করেন তদন্ত কর্মকর্তা দীপক। ২০১৬ সালের ২৩ ফেব্রুয়ারি ঢাকার ৩ নম্বর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক জয়শ্রী সমাদ্দার মামলা পুনঃতদন্তের নির্দেশ দেন পুলিশের তদন্ত ব্যুরোকে। কয়েক দফা সময় পেছানোর পর পিবিআইয়ের পরিদর্শক আবদুর রাজ্জাক ওই বছর ২০ ডিসেম্বর কেবল কামালকে আসামি করেই অভিযোগপত্র দেন। সেখানে রাষ্ট্রপক্ষে মোট ৩৪ জনকে সাক্ষী করা হয়। পিবিআইয়ের পক্ষ থেকে সে সময় বলা হয়, আরো সাত আসামির ছবি ভিডিওতে পাওয়া গেলেও নাম-ঠিকানা বা অবস্থান শনাক্ত করতে না পারায় তাদের অভিযোগপত্রে রাখা হয়নি। সর্বশেষ পিবিআইয়ের দেওয়া অভিযোগপত্রের একমাত্র আসামি মো. কামাল হোসেনের বিরুদ্ধে গতবছর ১৯ জুন অভিযোগ গঠন করে ঢাকার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল। কিন্তু দীর্ঘ ১০ মাসেও একজন সাক্ষীরও দেখা মেলেনি আদালতে। ট্রাইব্যুনালে রাষ্ট্রপক্ষের কৌঁসুলি মাহমুদা আক্তার বলেন, অভিযোগ গঠনের পর দুটি তারিখ পেরিয়ে গেলেও রাষ্ট্রপক্ষে কোনো সাক্ষীকে তারা হাজির করতে পারেননি। ফলে এ মামলায় সাক্ষ্যগ্রহণই শুরু করা যায়নি। আর একমাত্র আসামি কামালও বর্তমানে জামিনে আছেন। মাহমুদা জানান, আগামী ৩ জুন এ মামলায় সাক্ষ্যগ্রহণের পরবর্তী দিন ধার্য রয়েছে। ঢাকার তিন নম্বর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক জয়শ্রী সমাদ্দার সাক্ষীদের নামে সমন পাঠিয়েছেন। আগামীতে পিপি অফিসের মাধ্যমে সাক্ষীদের আদালতে উপস্থিতি নিশ্চিত করা হবে বলে জানা গেছে।
এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ
সর্বশেষ
সর্বাধিক পঠিত