শিরোনাম

এইচএসসিতে আসছে ২৫ সেট প্রশ্ন

প্রিন্ট সংস্করণ॥ বেলাল হোসেন  |  ০০:৩৫, মার্চ ০৮, ২০১৮

♦♦ সকল বোর্ডের জন্য সেট সংখ্যা বাড়িয়ে তৈরি করা হবে প্রশ্নপত্র
♦♦ একেক বোর্ডে পরীক্ষা হবে একেক সেটে

এইচএসসি পরীক্ষা শুরুর আর মাত্র ২৪ দিন বাকি। এই প্রশ্নপত্র ফাঁস রোধের মাধ্যমে কী করে সুষ্ঠুভাবে পরীক্ষা নেওয়া যায় সে ব্যাপারে একের পর এক বৈঠক চলছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে। গত ফেব্রুয়ারি মাসে এসএসসি পরীক্ষার প্রথম থেকে প্রায় শেষ পর্যন্ত প্রশ্নপত্র ফাঁস হওয়ায় ব্যাপক সমালোচনার মুখে পড়েন শিক্ষামন্ত্রী, শিক্ষা সচিবসহ গোটা শিক্ষা প্রশাসন। তাই আসন্ন এইচএসসি পরীক্ষা নির্বিঘ্ন করতে নড়েচড়ে বসেছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। এ পরিস্থিতিতে এইচএসসি পরীক্ষা নিয়ে নতুন পরিকল্পনা আছে কিনা– জানতে আমার সংবাদ কথা বলেছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের সচিব মো. সোহরাব হোসাইনের সঙ্গে। শিক্ষাসচিব বলেন, আমরা আগামী এইচএসসি পরীক্ষাটা কীভাবে নিতে পারি সে বিষয়ে আলোচনা করে যাচ্ছি। আগে থেকেই বেশকিছু কাজ করা ছিল। সবকিছু মিলিয়ে আগামী পরীক্ষা যাতে নির্বিঘ্নে নেওয়া যায় সে বিষয়ে আমরা আলোচনা করছি। তিনি বলেন, যতো ধরনের ইকুয়েশন নেওয়া সম্ভব এমনকি প্রশ্নপত্রের সেট সংখ্যা বাড়িয়ে, বিভিন্ন বোর্ডে বিভিন্ন প্রশ্নপত্রের মাধ্যমে কীভাবে করা যায় সেই বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনা করছি। কয়েক দিনের মধ্যেই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। সচিব বলেন, আরো কিছু ব্যাপার আছে, সেটা আপনাদের বলা ঠিক হবে না। আমরা বলতে পারি যে, বর্তমান সময়ের মধ্যে যতোটা সম্ভব যাতে সেরকম সব ধরনের ব্যবস্থা নিতে পারি; এ বিষয়ে ডিটেইলস আলোচনা নয়, বলতে গেলে নীতিগত আলোচনা হয়েছে। এখন আমরা সম্ভাব্যতা যাচাই করে দেখবো। যে পদক্ষেপগুলো নিয়ে প্রতিরোধমূলকব্যবস্থা আরো স্ট্রং হবে সে বিষয়গুলো নিয়ে আমরা কাজ করতে পারি। এইচএসসি পরীক্ষায় কেমন পদ্ধতি আসছে– এমন প্রশ্নের জবাবে সচিব বলেন, পরীক্ষার হলে আধা ঘণ্টা আগে প্রবেশের বিষয়টি কঠিনভাবে নিশ্চিত করা হবে। মোবাইলের বিষয়ে আমরা আরো কঠিনভাবে অ্যাপ্লাই করবো। যেহেতু এখনই নতুন কোনো পদ্ধতিতে যেতে পারছি না সেহেতু চলমান সিদ্ধান্তগুলো যথাযথভাবে বাবস্তবায়নের জন্য চেষ্টা করা হবে। সকল বোর্ডের জন্য সেট সংখ্যা বাড়িয়ে আমরা প্রশ্নপত্র তৈরি করবো। একেক বোর্ডে একেক সেটে পরীক্ষা হবে। প্রশ্ন ছাপা হচ্ছে, আরো ছাপা হবে। ২০ থেকে ২৫ সেট প্রশ্নপত্র ছাপা হবে। শুধু আমরা বাধ্য হয়েই বিজি প্রেসে ছাপি। সাধারণত পাবলিক পরীক্ষাগুলোতে ৪ সেট প্রশ্নপত্র ব্যবহার করে থাকে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। বিগত বছরের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে তিনি বলেন, আমরা ২০১৪ সালে একটা চেষ্টা করেছিলাম। আর্মিদের প্রেসে প্রশ্নপত্র ছাপা হবে। বাট সেখানে ৫০ হাজারের বেশি ছাপানো যায় না। কিন্তু আমার প্রশ্ন ছাপতে হবে ৫০ লাখ। এতো কম সময়ের মধ্যে আর্মিদের প্রেসে এ পরিমাণ প্রশ্ন ছাপা সম্ভব নয়।
সচিব আরো বলেন, আমাদের এ সিস্টেমের সাথে জড়িত প্রায় ২৫ হাজার শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারী। এর মধ্যে একজনও যদি খারাপ হয় তাহলে ২৫ হাজার মানুষ সৎ থেকেও লাভ হলো না। এরা প্রত্যেকেই প্রশ্নপত্রের মালিক। সুতরাং ৪ হাজার কেন্দ্র নিয়ন্ত্রণ এভাবে সম্ভব নয়। তবে এ প্রক্রিয়া সম্পর্কে আমার আপত্তি আছে। এ প্রক্রিয়াটা চেঞ্জ করতে হলে এটি আসন্ন এইচএসসি পরীক্ষায় সম্ভব নয়। এজন্য দরকার হবে কমপক্ষে ৫ থেকে ৬ মাস সময়। এরপর আপনি বলতে পারবেন এ পদ্ধতিটি প্রযোজ্য হবে। সুতারাং সেগুলো আমরা চেষ্টা করছি।
আমরা আশা করছি বেশি ভালো একটা অবস্থা তৈরি করতে। আমি বিগত ২০১৪ সাল থেকেই বলছি এই পদ্ধতিতে প্রশ্নফাঁস বন্ধের বিষয়ে শতভাগ নিশ্চয়তা কারো পক্ষেই দেওয়া সম্ভব নয়। কোনোভাবেই সম্ভব নয়। জেএসসির সামনেও বেশি সময় নেই। সুতরাং সেটা নিয়েও আমরা ভাবছি। যতো রকমের প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করা যায় প্রশ্নফাঁসের বিরুদ্ধে সব বিষয়গুলো বাস্তবায়নে আমরা চেষ্টা করছি।
তিনি বলেন, বর্তমানে প্রশ্নপত্র ফাঁসের বিষয়ে শুধু আইন দিয়ে প্রতিহত করা যাচ্ছে না। আমি মনে করি বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজে ভর্তির সময় পূর্বের পরীক্ষায় প্রাপ্ত মার্কসকে যে মূল্যায়ন করা হয় তা নিয়ে ভাবা উচিত। কারণ অভিভাবকরা মরিয়া। পরীক্ষার্থীও মনে করছে আমি যদি জিপিএ ফাইভ না পাই তাহলে বুঝি আমার জীবন শেষ। কারণ সে তো ভর্তি হওয়ার সুযোগ পাচ্ছেও না। বুয়েটে বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ে বলেন আর এইসএসসিতেও একই অবস্থা। প্রি কোয়ালিফিকেশনে জিপিএ ফাইভ পাওয়া জরুরি বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। প্রিভিয়াস নাম্বারটা অ্যাড না করে সরাসরি ভর্তি পরীক্ষার মাধ্যমে ভর্তি করার ব্যবস্থা থাকে তাহলে এ জিপিএ ফাইভ পাওয়ার প্রবণতা কমে যাবে। আসলে প্রশ্নফাঁস সুনির্দিষ্ট কাজ করে বন্ধ করা সম্ভব নয়। সামাজিক দিক দিয়ে সচেতনতাও বৃদ্ধি করতে হবে।
প্রশ্নফাঁস রোধে ত্বরিৎ ব্যবস্থা নেওয়ায় কেমন ফল পেয়েছেন– এমন প্রশ্নের উত্তরে সচিব বলেন, গেলো এসএসসির শেষের ৪/৫টি পরীক্ষায় প্রশ্নপত্র ফাঁস হয়নি। সেখানে আমরা ছোট্ট একটি টিপস অ্যাপ্লাই করেছি। পরীক্ষার্থীরা পরীক্ষার হলে ঢোকার আগে জানবে না কোন সেটে তাদের পরীক্ষা হবে। এটা আগে দেওয়া যাবে না। দিতে হবে পরে। ঢোকার পর নির্ধারিত হবে কোন সেট দিয়ে তাদের পরীক্ষা নেয়া হবে। এই জন্য সেট সংখ্যা বাড়িয়েছি।
তবে আগামী বছর থেকে পরীক্ষাকে কেন্দ্র করে আরো কিছু কার্যক্রম আমরা হাতে নিয়েছি। সময় হলে সেটা জানানো হবে। সচিব বলেন, পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ছাপা থেকে শুরু করে হলে পৌঁছে দেওয়ার কাজ কিন্তু করে বোর্ড। মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব তাকে সাপোর্ট করা। প্লাস বোর্ডের পক্ষ থেকে যেহেতু ক্যাবিনেটে লিখতে পারে না তাই এ কাজগুলো আমাদের মন্ত্রণালয় থেকে দেখতে হয়। ক্যাবিনেট ডিভিশন, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, তথ্য মন্ত্রণালয়সহ বেশকিছু মন্ত্রণালয়ের সম্মলিত প্রচেষ্টায় সকল পাবলিক পরীক্ষা কার্যক্রম সফল করা হয়।
এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ
সর্বশেষ
সর্বাধিক পঠিত