শিরোনাম

দুমাসে ৩০ দিনই অস্ট্রেলিয়ায় মেয়র সাঈদ খোকন!

প্রিন্ট সংস্করণ॥ ফারুক আলম  |  ০০:২৮, ফেব্রুয়ারি ২০, ২০১৮

এমনিতেই ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের প্রয়াত মেয়র আনিসুল হককে হারিয়ে দুশ্চিন্তায় রয়েছেন ডিএনসিসির আওতাধীন এলাকাবাসী। নতুন কোনো পরিকল্পনা নেই ডিএনসিসিতে। ডিএনসিসির ভারপ্রাপ্ত মেয়র ২১ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর ওসমান গণি পাবলিক টয়লেট উদ্বোধনে সীমাবদ্ধ রয়েছেন। অন্যদিকে দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের মেয়র সাঈদ খোকন গত ২৮ ডিসেম্বর পারিবারিক সফরে অস্ট্রেলিয়ায় যান এবং ১৯ দিন সেখানে কাটিয়ে ১৬ জানুয়ারি ঢাকায় ফেরেন। দেশে ফেরার পর একমাস না যেতেই ফের গত ১৬ ফেব্রুয়ারি (বৃহস্পতিবার) রাতে ১১ দিনের পারিবারিক সফরে অস্ট্রেলিয়ায় গেছেন। আগামী ২৫ ফেব্রুয়ারি তার দেশে ফেরার কথা রয়েছে। ২৮ ডিসেম্বর থেকে ২৫ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত ৫৯ দিনের মধ্যে ৩০ দিনই পারিবারিক সফরে অস্ট্রেলিয়ায় থাকছেন সাঈদ খোকন। এতে ডিএসসিসিতে কাজের গতি কমে এসেছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। সরেজমিন দেখা যায়, মেয়র ঘনঘন বিদেশ যাওয়ায় এবং একটানা দীর্ঘদিন অবস্থান করায় ডিএসসিসির কার্যক্রম চরমভাবে ব্যাহত হচ্ছে। অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী আসাদুজ্জামানের কক্ষে কাউন্সিলররা ঘণ্টার পর ঘণ্টা গল্প করছেন। একই চিত্র মেয়রের পিএস কবির মাহমুদের কক্ষে। সেখানে তিনজনকে ধূমপান করতে দেখা যায়। ডিএসসিসির মহা-ব্যবস্থাপক (পরিবহন) উপ-সচিব নিতাই চন্দ্র সেন, তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী (যান্ত্রিক-সার্কেল) মো. আনিছুর রহমানসহ অনেক কর্মকর্তাকে কক্ষে দেখা যায়নি। ডিএসসিসি সূত্র জানায়, মেয়রের মেয়ে অস্ট্রেলিয়ায় লেখাপড়া করেন। মেয়েকে ভর্তি করাতে দুই মাসে ৩০ দিন অস্ট্রেলিয়ায় কাটাচ্ছেন। যাত্রার প্রাক্কালে ডিএসসিসির ১৯ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর মুন্সী কামরুজ্জামানকে ভারপ্রাপ্ত মেয়র হিসাবে দায়িত্ব দিয়ে যান। তবে মেয়র সাঈদ খোকন যতক্ষণ সিটি কর্পোরেশনে উপস্থিত থাকেন ততক্ষণ কর্মকর্তারা সতর্ক থাকেন। মেয়রের ঘনঘন সফরে কর্মকর্তাদের মনে আলস্য ভর করেছে। গল্পগুজবে সময় অতিবাহিত করছেন। সংশ্লিষ্ট সূত্র মতে, মেয়র সাঈদ খোকন যেখানে নগরপিতা হয়েও ৫৯ দিনের মধ্যে ৩০ দিনই পারিবারিক সফরে দেশের বাইরে থাকেন সেখানে নগর ভবনের কর্মকর্তারা কী করবেন? সাঈদ খোকনের মতই তারা আগে নিজ পরিবারের সদস্যদের ভালো থাকার বিষয়টি চিন্তা করবেন। এরপর হাতে সময় থাকলে ১ কোটি জনসাধারণের ভোগান্তির কথা চিন্তা করবেন। অতিরিক্ত প্রধান বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তা খন্দকার মিল্লাতুল ইসলাম আমার সংবাদকে বলেন, মেয়র মহোদয়ের অনুপস্থিতিতে প্রত্যেকে নিজ নিজ দপ্তরের দায়িত্ব পালন করছেন। বিশেষ করে মেয়র অস্ট্রেলিয়ায় তার মেয়েকে ভর্তি করার জন্য গিয়েছেন। মেয়েকে ভর্তি শেষে আবার ঢাকায় ফিরবেন। একই কথা জানান ডিএসসিসির জনসংযোগ কর্মকর্তা উত্তম কুমার রায়। উপ-সচিব নিতাই চন্দ্র সেন কোথায় জানতে চাইলে দপ্তরের দায়িত্বে থাকা এক কর্মকর্তা বলেন, স্যার আজ আসবেন না। তিনি বাইরে গেছেন। একই চিত্র তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী আনিছুর রহমানের কক্ষে। তিনি কক্ষে না থাকলেও মন্ত্রণালয়ে গেছেন বলে জানান তার অফিস সহকারী। পূর্ণ কর্মদিবস অফিস খোলার দিন ডিএসসিসির প্রতিটি বিভাগেই গিয়ে দেখা গেছে সুনসান নীরবতা। মেয়রের অনুপস্থিতিতে বিভাগীয় কর্মকর্তারা ঝিমিয়ে পড়েছেন। এ ব্যাপারে ডিএসসিসির ভারপ্রাপ্ত মেয়রের দায়িত্বে থাকা মুন্সী কামরুজ্জামানের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি। মোবাইল ফোনেও তাকে পাওয়া যায়নি। মেয়র অস্ট্রেলিয়ায় থাকায় তার সঙ্গেও কথা বলা সম্ভব হয়নি। 
এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ
সর্বশেষ
সর্বাধিক পঠিত