শিরোনাম

৫৬০ মডেল মসজিদ নির্মাণ অনিশ্চিত

প্রিন্ট সংস্করণ॥ জাকির হোসেন  |  ০০:১৮, ফেব্রুয়ারি ২০, ২০১৮

সৌদি সরকারের সহায়তায় দেশব্যাপী যে ৫৬০টি মডেল মসজিদ নির্মানের কথা ছিল তা অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। কারণ এসব মসজিদ নির্মাণের জন্য সৌদি সরকার যে আর্থিক প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল সেই অর্থ আজো পায়নি বাংলাদেশ সরকার। কবে নাগাদ এই অর্থ পাওয়া যাবে এ নিয়েও কোনো স্পষ্ট কথা বলছে না দেশটি। এ অবস্থায় এই প্রকল্পের আওতায় নিজস্ব অর্থায়নে ৮ বিভাগীয় শহরে ৮টি মডেল মসজিদ নির্মাণের উদ্যোগ নিয়েছে বাংলাদেশ সরকার। যার ডিপিপি ইতিমধ্যেই তৈরি করা হয়েছে। এটি এখন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে। সংশ্লিষ্ট সুত্রে একথা জানা গেছে।
জানতে চাইলে ৫৬০টি মডেল মসজিদ নির্মাণ প্রকল্প পরিচালক মো. আবদুল হামিদ জমাদ্দার আমার সংবাদকে বলেন, এসব মসজিদ নির্মাণের জন্য সৌদি সরকারের প্রতিশ্রুত অর্থ আমরা এখনো পাইনি। অনেক আগেই এ অর্থ দেয়ার কথা ছিল। এই অর্থ না পেয়ে সরকার নিজস্ব অর্থায়নে ৮টি বিভাগীয় শহরে ৮টি মডেল মসজিদ নির্মানের উদ্যোগ নিয়েছে। যার ডিপিপি প্রধানমন্ত্রীর অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে।
প্রসঙ্গত, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সৌদি আরব সফরের সময় ওই দেশের বাদশাহর সঙ্গে আলোচনায় দেশব্যাপী মডেল মসজিদ নির্মাণের বিষয়টি তুলে ধরে সহযোগিতার প্রস্তাব করেন তিনি। সৌদি সরকার শেখ হাসিনার প্রস্তাব গ্রহণ করেন। সফর শেষে দেশে ফিরে প্রধানমন্ত্রী এই মডেল মসজিদের নকশা তৈরিসহ সামগ্রিক বিষয়ে প্রস্তুতি নিতে নির্দেশ দেন। সে অনুযায়ী পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের মাধ্যমে ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয় আর্থিক সহযোগিতা চেয়ে পাঠালে সৌদি সরকার তাতে সম্মতি দেয়। কিন্ত বর্তমানে ওই অর্থের বিষয়ে সৌদি সরকার কোনো কথা বলছে না। ফলে অনিশ্চিত হয়ে পড়ল ৫৬০ মসজিদ নির্মানের কাজ। তাদের অর্থ না পওয়া গেলে এসব নির্মাণ সম্ভব হবে না বলে জানান সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। এদিকে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সৌদি বাদশার ফলপ্রসু আলোচনার পর দেশের প্রতি জেলা ও উপজেলায় ৫৬০টি মসজিদ ও ইসলামিক সাংস্কৃতিক কেন্দ্র স্থাপন করার সিদ্ধান্ত নেয় সরকার। সারা দেশে এসব মসজিদ ও অন্য অবকাঠামো নির্মাণ করতে ৯ হাজার ৬২ কোটি টাকা খরচ হবে। এ খরচের ৮ হাজার ১৭০ কোটি টাকা দেবে সৌদি সরকার। এই বিধান রেখে প্রকল্পটি একনেকে পাস করা হয় গত বছর। অর্থাৎ জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটিতে (একনেক) প্রতিটি জেলা ও উপজেলায় একটি করে মোট ৫৬০টি মডেল মসজিদ ও ইসলামিক সাংস্কৃতিক কেন্দ্র স্থাপন প্রকল্প অনুমোদন দেওয়া হয়। পরিকল্পনা কমিশন সুত্র তখন বলেছিলো, প্রতিটি মসজিদে নারী ও পুরুষদের নামাজ আদায়ের জন্য সুবিধা থাকবে। যেমন পৃথক অজু ও নামাজঘর। এ ছাড়া লাইব্রেরি, দাওয়া ওয়াল কার্যক্রম, পবিত্র কোরআন পঠন ও তাহফিজ, শিশুদের শিক্ষা সুবিধা, অতিথিশালা, মৃতদেহ গোসল করানো, হজযাত্রী ও ইমামদের প্রশিক্ষণের সুবিধা প্রতিষ্ঠা করা হবে। সব কটি মসজিদ একই নকশায় তৈরি হবে। জানা গেছে, ইসলামী শিক্ষা ও সংস্কৃতি প্রসারে দেশের প্রতিটি জেলা ও উপজেলায় মডেল মসজিদ কমপ্লেক্স নির্মাণ করা সরকারের বিশেষ লক্ষ্য। সরকার চায় মসজিদগুলো ইসলামিক সাংস্কৃতিক কেন্দ্র হিসেবে কাজ করবে। প্রতিটি মসজিদ হবে একই মডেলের। ৫ বা ৬তলা বিশিষ্ট এই মডেল মসজিদের জন্য জায়গা লাগবে প্রায় ৪০ শতক। প্রতিটি মসজিদ তৈরিতে প্রাথমিকভাবে সম্ভাব্য ব্যয় প্রায় সাড়ে ১৪ কোটি টাকা ধরা হয়েছে। এসব মসজিদ নির্মাণে বেশিরভাগ জায়গা নির্বাচন করা হয়েছে। অধিকাংশ উপজেলায় বর্তমানে যেখানে ছোট মসজিদ রয়েছে, কিন্তু জরাজীর্ণ এমন জায়গায় এ মডেল মসজিদ নির্মাণ করা হবে। বর্তমানে বিদ্যমান ওই জরাজীর্ণ ছোট মসজিদ ভেঙে সেখানে নতুন করে এই মডেল মসজিদ তৈরি করা হবে। কোনো কোনো উপজেলায় উপজেলা কমপ্লেক্সের ভেতরের খালি জায়গায় করা হবে এই মসজিদ। আবার কোনো কোনো উপজেলায় নাগরিকরা মসজিদের জন্য জায়গা দান করেছেন। ইসলামিক ফাউন্ডেশনের তত্ত্বাবধানে এসব মসজিদ পরিচালিত হবে। প্রকল্পের ডিপিপির তথ্য অনুযায়ী, এসব মসজিদ নির্মাণে আট হাজার ৯৩ কোটি ৯২ হাজার টাকা ব্যয় প্রাক্কলন করা হয়েছে। এরমধ্যে সৌদি আরব সরকার দেবে ছয় হাজার ৮৭৩ কোটি ৯১ লাখ ৬৮ হাজার টাকা। বাকি এক হাজার ২১৯ কোটি ৯ লাখ ২৪ হাজার টাকা দেবে সরকার। আগামী ২০১৯ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে প্রকল্পটি বাস্তবায়নের পরিকল্পনা করা হয়েছিল। তৈলী করা হয়ে ছির এসব মসজিদের চূড়ান্ত নকশা।
এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ
সর্বশেষ
সর্বাধিক পঠিত