শিরোনাম
নেতাকর্মীদের আশা

জামিন পাবেন খালেদা

প্রিন্ট সংস্করণ॥ আফছার আহমদ রূপক  |  ০০:৫০, ফেব্রুয়ারি ১৯, ২০১৮

বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া জামিনে মুক্তি পাবেন বলে আশা করছেন দলটির নেতারা। তারা বলেন, আজ  সোমবারই রায়ের কপি পেয়ে যাবেন। পেলেই হাইকোর্টে জামিনের আবেদন করবেন। তাদের দৃঢ় বিশ্বাস, হাইকোর্ট খালেদা জিয়াকে জামিনে মুক্তি দেবেন। অন্তবর্তীকালীন জামিনের আশা করছেন নেতাকর্মীরা। চলতি সপ্তাহে একটি অনুষ্ঠানে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ আহমেদও এই প্রত্যাশা করেছেন। বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান অধ্যাপক ডা. এজেডএম জাহিদ হোসেন আমার সংবাদকে বলেন, দেশনেত্রী ও বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে দায়ের করা জিয়া অরফানেজ মামলাটি মিথ্যা। এ মিথ্যা মামলায় নেত্রী একদিন না একদিন মুক্ত হবেন– এমনটাই তার ধারণা। যতদিন পর্যন্ত তিনি মুক্ত না হবেন ততদিন পর্যন্ত রাজপথে আন্দোলন চলবে বলে জানান জাহিদ। অপর একটি সূত্র বলছে, খালেদা জিয়ার জামিনের ক্ষেত্রে বাধা হয়ে দাঁড়াতে চায় না বর্তমান ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ সরকারও। এমনকী আইনমন্ত্রী একটি অনুষ্ঠানে স্পষ্টই বলেছেন, খালেদা জিয়ার রায়ে সরকার কোনো হস্তক্ষেপ করবে না। এদিকে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরও গতকাল বলেছেন, খালেদা জিয়াকে নিয়েই আগামী ডিসেম্বরে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন করতে চান। অর্থাৎ বিএনপিকে তারা নির্বাচনি লড়াইয়ে দেখতে চাচ্ছেন। যদিও বিএনপি নেতারা অভিযোগ করে যাচ্ছেন উল্টোটা। তারা বলছেন, সরকারের হস্তক্ষেপেই জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় খালেদা জিয়ার ৫ বছরের জেল হয়েছে এবং সরকার চাচ্ছে খালেদা জিয়াকে জেলে রেখেই নির্বাচন করতে। গত ৮ ফেব্রুয়ারি বকশিবাজার বিশেষ আদালত খালেদা জিয়ার ৫ বছরের জেল এবং একই মামলায় বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারপারসন তারেক রহমানসহ অন্য আসামিদের ১০ বছরের জেল দেওয়ার পর থেকেই উভয় দলের নেতাদের মধ্যে এ ধরনের পাল্টাপাল্টি বক্তব্য চলছে। একটি নির্ভরযোগ্য সূত্রে জানা গেছে, খালেদা জিয়ার জেল আগে থেকেই সরকার নির্ধারণ করে দিয়েছে– বিএনপি নেতাদের এ অভিযোগ সঠিক নয়। কারণ তাহলে সেটি অনেক আগে থেকেই সরকার করতে পারতো। আওয়ামী লীগ সরকারের দুই মেয়াদে ৯ বছরের মাথায় রায় হতো না। একইভাবে উচ্চ আদালতেও খালেদার জামিনের ব্যাপারে নীরব ভূমিকা পালন করবে সরকার। সরকারের একটি উচ্চ মহলের ধারণা খালেদা জিয়া জেলে থাকলে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপির ক্ষতির থেকে লাভ বেশি হতে পারে। নির্বাচনি প্রচারণায় বিএনপি নেতাকর্মীরা ভোটারদের দুয়ারে দুয়ারে খালেদার বন্দিদশা তুলে ধরে তার মুক্তির জন্য কাঁদলে সহানুভূতি পেয়েও যেতে পারে। তাতে ভোটের ফল বিএনপির দিকে যাওয়া অস্বাভাবিক নয়। আবার বর্তমানে কারাগারে থাকলে খালেদা জিয়ার মুক্তির আন্দোলন চাঙা হয়ে গেলে বেকায়কায় পড়তে পারে সরকার। যদিও খালেদা মুক্ত থাকায় অবস্থাতে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের দাবিতে ২০১৫ সালের ৫ জানুয়ারি থেকে বিএনপির ডাকা টানা তিনমাস অবরোধ-হরতাল কর্মসূচি ফ্লপ হয়েছিল। তিনি তখন কর্মসূচির ঘোষণা দিয়ে গুলশানের দলীয় কার্যালয়েই অবস্থান করছিলেন। নেতাকর্মীরা তার সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারলেও প্রকাশ্যে রাজপথে নামতে তেমন দেখা যায়নি। আর তিনি এখন জেলে থাকার পরও তার মুক্তির দাবিতে যেকোনো কর্মসূচিতে ঝাঁপিয়ে পড়ছে নেতাকর্মীরা। মানববন্ধনই হোক আর অনশনই হোকÑ হাজার হাজার নেতাকর্মীর সমাগম ঘটছে। এদিকে বিএনপির আইনজীবীরাও গতকাল বলেছেন, খালেদা জিয়ার জামিন হয়ে যেতে পারে। তাদের যুক্তি হচ্ছেÑ জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় অভিযোগগুলো ঠুনকো। এটি একটি রাজনৈতিক মামলা। তাই বিশেষ আদালত সাজা দিলেও উচ্চ আদালত জামিন দিতে পারেন। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, সবকিছু মিলিয়ে মনে হচ্ছে খালেদা জিয়ার জেলকে ঘিরে দেশে যে কিছুটা অস্থিরতা চলছে তা কয়েকদিনের মধ্যে ঠিক হয়ে যেতে পারে।
এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ
সর্বশেষ
সর্বাধিক পঠিত