শিরোনাম

স্বচ্ছ পানির পুকুর এখন আবর্জনার ভাগাড়

হাসান-উজ-জামান  |  ১৩:৩৫, ফেব্রুয়ারি ১২, ২০১৮

চারদিকে পাকা রাস্তা। মাঝে প্রায় ১শ কাঠা জায়গা। যার গভীরতা পনের থেকে বিশ ফিট। আয়নার মতো স্বচ্ছ পানি। চাষ করা মাছে ঢেউ তোলে সেই পানিতে। দুপাশে দুটি বাঁধাই ঘাট। যেখানে বড়শি হাতে অপেক্ষা সৌখিন মৎস্য শিকারীর। চেষ্টা ধরবে বড় রুইটা। বিকাল হলেই খোলা চুলে ঘুরে বেড়ানো চোখে পড়ে অষ্টাদশী কিশোরীর। চাঁদনি রাতে সেখানে জড়ো হওয়া চাই তরুণ-জোয়ান-বুড়ো-বুড়ি সকলের। ক্লান্তি নিবারণ আর পায়চারি প্রতিবেশি ভ্রমণপিপাসুদের। আহ কি প্রশান্তি! এটি পুরান ঢাকার শ্যামপুর থানাধীন ৪৭নং ওয়ার্ডের আওতাধীন ডিআইটি প্লটের পুকুর। তবে এখন নয়। এটা অতীত। স্থানীয় বয়স্কদের কাছে এ পুকুর এখন কেবলই স্মৃতি। ভূমি দস্যুদের লোলুপ দৃষ্টির কারণে পুরান ঢাকার শত বছরের ঐতিহ্য ও ইতিহাসের সাক্ষী এ পুকুরটি এখন ময়লার ভাগাড়।

এলাকাঘুরে দেখা যায়, ডিআইটির এ পুকুরটির আশপাশে গড়ে উঠেছে অবৈধ দোকানপাট, রিকসার গ্যারেজ, বসতি ঘর। এর ফায়দা নিচ্ছে স্থানীয় ভূমিদস্যু একটি স্বার্থান্বেষী মহল। ইতোমধ্যে পুকুরটির চারদিক থেকে অন্তত ৫০ ফিটেরও বেশি ভরাট করা হয়েছে। কেউ কেউ দখলের উদ্দেশে ফলের বাগানও গড়ে তুলেছেন। স্থানীয় যুবসমাজ পুকুরটি সংস্কারের উদ্যোগ নিলেও ভূমিদস্যুদের কারণে সম্ভব হয়নি।

এ ব্যাপারে ৪৭ নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর আলহাজ নাসির উদ্দিন ভূইয়া গতকাল আমার সংবাদকে বলেন, এলাকার সৌন্দর্য্য বৃদ্ধি, আগুন লাগাজনিত দুর্ঘটনা রোধে এবং পরিবেশ রক্ষায় ঢাকার সকল পুকুর ও ঢোবা ভরাটে সরকারি নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। সরকার প্রয়োজনে ১০তলা ভবন ভেঙেও রাস্তা নির্মাণ করছে। স্থানীয় প্রতিনিধি হিসেবে তিনি ওই পুকুরটি সংস্কারের উদ্যোগ নিয়েছিলেন। তখন এলাকার আলোচিত সাবেক এক ওয়ার্ড কমিশনার ওই পুকুরের বায়না সূত্রে মালিক বলে দাবি করেন।

নাসির উদ্দিন ভূইয়া আরো বলেন, ৬৭ সাল থেকে তিনি স্থায়ীভাবে ওই এলাকায় বসবাস করছেন। তার জানামতে, পুকুরটি ব্রিটিশ আমলের। এক সময় স্থানীয়রা এ পুকুরে গোসল করতো। বর্তমানে এর মালিক সরকার (ডিআইটি)। ময়লা-আবর্জনাপূর্ণ ওই পুকুরটি এখন মশার বিস্তারের প্রজনন খামার। দুর্গন্ধে পাশ দিয়ে হাঁটা যায় না। পুকুরটির ব্যাপারে ফয়সালা হওয়া উচিত। তিনি এটি সংস্কারের উদ্যোগ নিয়ে ব্যর্থ হয়েছেন। তার দাবি যদি এটি ব্যক্তিমালিকাধীন হয় তাহলে কেউ যাতে সেখানে ময়লা না ফেলে সে ব্যবস্থা করা উচিত। আর সরকারি হলে সংস্কার করা দরকার।

 প্রায় হারিয়ে যেতে বসা এ পুকুরের স্মৃতি হাতড়ে ইউনিভার্সিটি অব সাউথ অস্ট্রেলিয়ার খণ্ডকালীন শিক্ষক সাফিকুর রহমান জেবিন বলেন, ছোটোবেলায় খেলাধুলাশেষে এই পুকুরে গোসল করে বাসায় ফিরতাম। এখন দেশে এলে পুকুরটির রুগ্ন অবস্থা দেখে কষ্ট পাই। এলাকাবাসী পুকুরটি রক্ষায় সরকারের হস্তক্ষেপ কামনা করছেন।
এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ
সর্বশেষ
সর্বাধিক পঠিত