শিরোনাম

মাদক নিয়ে দুশ্চিন্তায় ১৪ নম্বর ওয়ার্ডবাসী

প্রিন্ট সংস্করণ॥ ফারুক আলম  |  ০২:০১, জানুয়ারি ১৩, ২০১৮

ঢাকা উত্তর-দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রত্যেকটি ওয়ার্ডের ‘জনদুর্ভোগের চিত্র’ নিয়ে দৈনিক ‘আমার সংবাদ’ পত্রিকা ইতোমধ্যে ধারাবাহিকভাবে প্রতিবেদন প্রকাশ করছে। আজ হাজার বছরের শহর পুরান ঢাকার ওয়ার্ডগুলোর সমস্যা তুলে ধরা হয়েছে। ধারাবাহিক প্রতিবেদনের সপ্তম পর্বে পুরান ঢাকার ১৪ নম্বর ওয়ার্ড। এ ওয়ার্ডের প্রতিবেদনটি করেছেন আমার সংবাদের স্টাফ রিপোর্টার ফারুক আলম

পুরান ঢাকার ৩৪ নম্বর ওয়ার্ডের মতোই ১৪ নম্বর ওয়ার্ডে মাদকের বিস্তার বেড়েছে। ওয়ার্ডটি অধিকাংশ জায়গায় ছেঁয়ে গেছে মাদক। এ নিয়ে দুঃচিন্তায় রয়েছে এলাকাবাসী। ইয়াবা, ফেনসিডিল, হেরোইন, গাঁজা সরবরাহের ‘বড় হাট’ রাজধানী হওয়ায় পুরান ঢাকা এলাকা মাদকের নিরাপদ স্থান হিসেবে বেঁচে নিয়েছে বলে জানান ১৪ নম্বর ওয়ার্ডের এলাকাবাসী।
নবনির্ধারিত ঢাকা সিটি কর্পোরেশন দক্ষিণের ১৪ নম্বর ওয়ার্ডটি আগে ৪৮ নম্বর ওয়ার্ড নামে পরিচিত ছিল। ওয়ার্ডটি বীরবাস কাচড়া, গজমহল রোড, হাজারীবাগ, ট্যানারি এলাকা, জিগাতলা (তিন মাজার), দক্ষিণ সুলতানগঞ্জ, সুনাতনগর (মনেশ্বর রোড), জিগাতলা স্টাফ কোয়ার্টার, মনশ্বর (জিগাতলা), শিকারিটোলা, মনেশ্বর (১-৩৬), চরকঘাটা তল্লাবাগ, টালী অফিস রোড এবং দক্ষিণ মধুবাজার এলাকা নিয়ে অবস্থিত। ওয়ার্ডটির গলারকাঁটা হয়ে দাঁড়িয়েছে মাদক, পচা চামড়া আর বিভিন্ন বর্জ্যের দুর্গন্ধ বাতাসে ভেসে নাকে আসে।
সরেজমিন দেখা যায়, জিগাতলা (তিন মাজার) রোডে প্রকাশ্যেই মাদক সেবন করছে কিছু তরুণ। এসব তরুণরা হাত বাড়ালেই পৌঁছে যাচ্ছে মাদক। এ বিষয়ে ১৪ নম্বর ওয়ার্ডের সুলতান মাহমুদ জানান, এ এলাকায় মাদকের সবচেয়ে বড় ব্যবসায়ীর বসবাস। এলাকায় হাত বাড়ালেই মাদক পাওয়া যায়। এ অবস্থা চলতে থাকলে এখানকার তরুণ প্রজন্ম ধ্বংস হয়ে যাবে। এ বিষয়ে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ চাইলেও কার্যত কোনো ফল পাচ্ছে না এলাকাবাসী। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক বাসিন্দা জানান, এখানকার মাদক ব্যবসার সঙ্গে প্রশাসনের হাত রয়েছে। কারণ অনেকবার প্রশাসনের কাছে এ বিষয়ে অভিযোগ করা হয়েছে। কিন্তু কোনো ফল আসেনি।
এ ব্যাপারে পুলিশের এআইজি (মিডিয়া) সোহেলি ফেরদৌস আমার সংবাদকে বলেন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা মাদকের সঙ্গে জড়িত থাকতেই পারে, কারণ তারাও মানুষ। সেক্ষেত্রে কোনো ব্যক্তির অপরাধকে, একটি বাহিনীর অপরাধ বলা যাবে না। ব্যক্তি অপরাধের দায়-দায়িত্ব একটি বাহিনী নেবে না। তবে পুলিশের কোনো সদস্য প্রলোভনে মাদকের সঙ্গে জড়িয়ে পড়লে, তা প্রমাণিত হলে শাস্তি দ্বিগুণ হয়, এমনকি চাকরিচ্যুতির মতো ঘটনাও ঘটে। এদিকে পুলিশ একজন মাদক ব্যবসায়ীকে গ্রেপ্তার করলে কিছুদিন পর সেই মাদক ব্যবসায়ী জামিনে বের হওয়ার পর আগের চেয়ে বেশি সতর্ক হয়ে যায়। এটি পুলিশের জন্য কষ্টকর বলে জানান সোহেলি ফেরদৌস। তিনি আরও বলেন, মাদকমুক্ত সমাজ গড়তে হলে মাদকের সরবরাহ বন্ধ করতে হবে। স্কুল, কলেজ ও পরিবারকে মাদকের বিরুদ্ধে প্রচারণা চালাতে হবে।
১৪ ওয়ার্ডের কাউন্সিলর মো. সেলিম আমার সংবাদকে বলেন, এলাকায় স্থায়ী কোনো মাদকের স্থান গড়ে ওঠেনি। তবে ইয়াবার প্রভাবটা বেড়ে গেছে। ইয়াবা পকেটে বহন করলেও কেউ বুঝতে পারে না। সম্প্রতি কয়েকজন মাদক সেবনকারীকে পুলিশ গ্রেপ্তার করেছিল। কিন্তু কিছুদিন পরে এসব মাদক সেবনকারী ছাড়া পেয়ে যায়। এখনই মাদকের বিস্তার নিয়ন্ত্রণ করা না হয়, তাহলে আমাদের নতুন প্রজন্মের মধ্যে সামাজিক অবক্ষয় ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি পাবে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি হবে, পারিবারিক কলহ বেড়ে যাবে। এক সময় ইয়াবাসহ বিভিন্ন মাদক সেবন উচ্চবিত্তের মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল। কিন্তু হাতের নাগালে মাদক পাওয়ার কারণে মধ্যবিত্ত ও নিম্নবিত্ত যুবক-যুবতীদের মধ্যেও মাদকের বিস্তার ঘটছে।
কাউন্সিলর বলেন, মাদক আমার এলাকার অন্যতম সমস্যা। অনেক যুদ্ধ করেছি মাদকের বিরুদ্ধে কিন্তু কাজ হচ্ছে না। ফলাফল যেই সেই। এজন্য মাদকের বিরুদ্ধে সামাজিক আন্দোলন গড়ে তুলতে হবে। পরিবারের সদস্যদের সচেতন থাকতে হবে। ছেলে-মেয়ে ঘরের বাইরে কাদের সঙ্গে মিশছে তা নজরে রাখতে হবে।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ
সর্বশেষ
সর্বাধিক পঠিত