শিরোনাম

বিএনপির আন্দোলন নিয়ে জনমনে প্রশ্ন

প্রিন্ট সংস্করণ॥ আফছার আহমদ রূপক  |  ০০:৪৩, জানুয়ারি ১৩, ২০১৮

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে বিএনপির আন্দোলন আদৌ হবে তো-এমন প্রশ্ন এখন জনমনে। সব মহলেই চলছে আন্দোলন না হওয়ার নানা গুঞ্জন। অনেকেই মনে করছেন সহায়ক সরকারের দাবিতে বিএনপি যে আন্দোলনের হুঙ্কার দিচ্ছে তা আসলে ফাঁকাবুলি। কারণ আন্দোলন করতে যে সাহস ও সাংগঠনিক শক্তি দরকার, তা এই মুহূর্তে নেই বিএনপির। আন্দোলনে প্রাণ ফিরে পাওয়ার জন্য যে জামায়াতের ওপর নির্ভর করা হত, সেই জামায়াতের শক্তিও এখন খাদের কিনারে। সহায়ক সরকার বা নিরপেক্ষ তত্ত্বাবধায়ক কোনোটি নিয়েই তেমন মাথাব্যথা দেখা যাচ্ছে না জামায়াতের। বরং জামায়াত অনেকটা গা বাঁচিয়ে চলছে। এমন কী ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন নির্বাচনে এককভাবে মেয়র প্রার্থী ঘোষণা করে আন্দোলনের বারোটা বাজিয়ে দিয়েছে। অর্থাৎ সত্যিই আন্দোলনে সমর্থন থাকলে এবং আন্দোলন চাঙা করার আগ্রহ থাকলে জামায়াত একক প্রার্থী ঘোষণা না করে বিএনপির সঙ্গে এক্যবদ্ধ থাকত। এভাবে টানাপোড়েন তৈরি করত না। কেবল জামায়াতের অসযোগিতার মনোভাব ও নিষ্ক্রিয়তাই নয়, আন্দোলন নিয়ে সংশয় দেখার আরও একটি অন্যতম কারণ হচ্ছে নেতাকর্মীদের মামলা-হামলা ও গ্রেপ্তারের ভয়। আগে রাজপথ কাঁপাত যে বিএনপি নেতারা, তারা একেবারেই নিশ্চুপ। এমন কী সমাবেশ ডেকে ঘরে ঘুমাচ্ছেন। গত চার বছর গণতন্ত্র হত্যা দিবস নাম দিয়ে ৫ জানুয়ারি উপলক্ষে প্রতিটি সমাবেশ ডেকেই এভাবে ঘরে বসে ঘুমাতে দেখা গেছে নেতাকর্মীদের। কোনো কোনো নেতা শুধু ঘরেই নয়, সংবাদ সম্মেলনেও ঘুমাচ্ছেন। গত সপ্তাহে দলীয় কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে অন্য নেতাদের পাশে বসে এমনই একজন ঘুমকাতুরে নেতার দেখা মিলেছে। অথচ একসময় এই নেতা সরকারবিরোধী আন্দোলনে যখন নামতেন তখন সরকারের ভিত নড়ে যেত। সেটি স্বৈরাচার এরশাদের আমলই হোক আর আওয়ামী লীগ সরকারের আমলই হোক। কিন্তু ভয়েই হোক অথবা রোগশোকে কাবুর কারণেই হোক তিনি ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারি বিএনপিবিহীন দশম নির্বাচন পণ্ড করার আন্দোলন বা ২০১৫ সালের ৫ জানুয়ারি আওয়ামী লীগের ক্ষমতা গ্রহণের একবছরপূর্তির দিন বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার ডাকে টানা তিনমাসের অবরোধেও রাজপথে তাকে দেখা যায়নি। এভাবে নিষ্ক্রিয় হয়ে গেছেন বিএনপির আরও কয়েকজন বাঘা বাঘা নেতা। এমনই একজন হলেন আমান উল্লাহ আমান। বিএনপির এই নেতাকে একসময় বলা হতো আমান উল্লাহ আমান, বিএনপির কামান। এখন তিনি কামানের আওয়াজ তো দূরে থাক, সামান্য পটকার আওয়াজও করছেন না। বিএনপির টানা তিনমাস অবরোধ যখন চলছিল তখন তাকে দেখা গেছে সন্তানের বিয়ে নিয়ে ব্যস্ত থাকতে। বিএনপির আন্দোলন চাঙা করতে আরও দুইজন নেতাকে মাঠ গরম করতে দেখা যেত। তারা হচ্ছেন- দৌড় সালাউদ্দিন এবং নবী উল্লাহ নবী। এই দুই নেতাকেও গত চার বছর ধরে রাজপথে দেখা যাচ্ছে না। তবে একজন নেতা বেঁচে থাকলে হয়তো সক্রিয় হতেন। তিনি হচ্ছে নাসির উদ্দিন পিন্টু। রাজপথ কাঁপানো এই নেতা বর্তমান আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে জেলে বন্দি থাকা অবস্থায়ই মারা গেছেন। এসব কেন্দ্রীয় নেতার অনুপস্থিতির কারণেই যে কেবল বিএনপির সহায়ক সরকারের দাবির আন্দোলন আলোর মুখ দেখছে না, তা নয়। এসব নেতা যেসব ক্যাডার ও কর্মীবাহিনী নিয়ে আন্দোলনে ঝাঁপাতেন সেই কর্মীবাহিনী এবং ক্যাডাররাও ‘চাচা আপন প্রাণ বাঁচা’ নীতি অবলম্বন করছেন। তবে তাদের অনেকেই জেলে আছেন-এ কথাও সত্যি। এই যখন অবস্থা তখন একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আর মাত্র ১১ মাস বাকি। তাই এসময়ের মধ্যে বিএনপি আন্দোলন করবে, না নির্বাচনের প্রস্তুতি নেবে সেটি অবশ্যই গুরুত্বপূর্ণ এবং আন্দোলনও প্রশ্নের মুখে পড়া স্বাভাবিক। তাই অনেকের মতে নিরপেক্ষ তত্ত্বাবধায়ক সরকার ফিরিয়ে আনা বা সহায়ক সরকারের দাবি আদায়ের জন্য আন্দোলন না-ও করতে পারে বিএনপি। শেষ পর্যন্ত আওয়ামী লীগ সভানেত্রী ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার অধীনেই নির্বাচনে অংশ নেবে বিএনপি। অবশ্য জনমনের এরকম ভাবনা উড়িয়ে দিয়েছেন বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান অধ্যাপক ডা. এজেডএম জাহিদ হোসেন। তিনি বলেন, দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচনে যাবে না বিএনপি। আন্দোলন করে সহায়ক সরকারের দাবি আদায় করেই তবে নির্বাচন করবে দলটি। তিনি আরও বলেন, বিএনপির নেতাকর্মীদের মনে কোনো ভয় নেই। সব নেতাকর্মী আন্দোলনের জন্য প্রস্তুত। যেকোনো সময় আন্দোলন শুরু হয়ে যাবে।  
এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ
সর্বশেষ
সর্বাধিক পঠিত