শিরোনাম
ভ্রাম্যমাণ আদালতের কার্যক্রম বন্ধ

মাদকে সয়লাব সারাদেশ

প্রিন্ট সংস্করণ॥ হাসান-উজ-জামান  |  ০২:০৭, ডিসেম্বর ১৫, ২০১৭

আগ্নেয়াস্ত্রের একটি গুলি একটি জীবন কেড়ে নিতে পারে। কিন্তু মাদক এমন একটি নেশা যা পুরো একটি জাতিকে ধ্বংস করে। অথচ রাজধানীসহ সারা দেশেই চলছে অবৈধ মাদকের রমরমা ব্যবসা। ঠেকানো যাচ্ছে না কিছুতেই। মাদক বিক্রেতা ও সেবনকারীদের বিরুদ্ধে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নিতে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের ভ্রাম্যমাণ আদালতও বন্ধ। সমাজেরই কিছু প্রভাবশালী ব্যক্তি রয়েছে অবৈধ মাদক ব্যবসার অন্তরালে। ব্যবহার করা হচ্ছে দামি গাড়ি এবং সুন্দরী নারীদের। মাদক ব্যবসাকে কেন্দ্র করে বাড়ছে খুন-খারাবিসহ বিভিন্ন ধরনের অপরাধমূলক কর্মকা-।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, পানের দোকান থেকে শুরু করে অভিজাত বিভিন্ন নাইট ক্লাব এমনকি জেলখানাতেও সহজেই মিলছে বিভিন্ন ধরনের মাদক। মাদকসেবীদের তালিকায় রয়েছে ফুটপাতের টোকাই থেকে শিল্পপতি। নিরক্ষর থেকে উচ্চ শিক্ষিত অনেকেই। অভিযোগ রয়েছে– পুলিশ, র‌্যাব ও মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণের কিছু অসাধু কর্মকর্তা মাদক ব্যবসায়ীদের প্রশ্রয়দাতা। কারো কারো বিরুদ্ধে মাসোহারা নেয়ার অভিযোগও রয়েছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর হাতে মাদক বহনকারী ও খুচরা বিক্রেতারা গ্রেপ্তার হয়। মাঝে মধ্যে মাদকের বড় চালানও ধড়া পড়ে কিন্তু আড়ালে থেকে যায় গডফাদার। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, সহজলভ্য মাদকের মধ্যে– গাঁজা, ফেনসিডিল, হেরোইন পেথিড্রিন, বাংলা মদ ও ইয়াবা ট্যাবলেট উল্লেখযোগ্য। বর্তমানে মাদকসেবীদের প্রথম পছন্দ ইয়াবা ট্যাবলেট। সহজে বহনযোগ্য বলে ইয়াবা ব্যবসায়ীদের গ্রেপ্তারে বেগ পেতে হয় আইন-শৃঙ্খলা-রক্ষাকারী বাহিনীকে। মাঝে মধ্যে কিছু ব্যবসায়ী ধরা পড়ার পর ঠিকই আইনের ফাঁক গলিয়ে জামিন পায়। মুক্ত হয়েই জড়িয়ে পড়ে পুরান পেশায়। মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর মাদক ব্যবসায়ী ও সেবীদের তাৎক্ষণিক শাস্তি দিতে ২০০৯ সাল থেকে চালু করে ভ্রাম্যমাণ আদালত। কিন্তু ভ্রাম্যমাণ আদালতের কার্যক্রম বর্তমানে বন্ধ। মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর ঢাকা মেট্রো উপ-অঞ্চলের উপ-পরিচালক মুকুল জ্যেতি চাকমা গত রাতে আমার সংবাদকে বলেন, ভ্রাম্যমাণ আদালতের বিরুদ্ধে হাইকোর্টে রিট রয়েছে। যদিও এখনো এ ব্যাপারে কোর্ট থেকে কোনো নির্দেশ আসেনি। তবে কিছু দিন ধরে আমরা মোবাইল কোর্ট ব্যবহার করছি না। তিনি আরো বলেন, এক পুরিয়া গাঁজা নিয়ে ধরা পড়া আসামির ক্ষেত্রে মামলায় যে ধরনের আইনি প্রক্রিয়া করতে হয় ঠিক ১ হাজার কেজি মাদক নিয়ে গ্রেপ্তারকৃত আসামির ক্ষেত্রেও একই প্রক্রিয়া। একজন আসামিকে গ্রেপ্তারের পর ঘটনাস্থলেই ভ্রাম্যমাণ আদালতের বিচার দেখে অন্যরা সতর্ক হয়। ভ্রাম্যমাণ আদালতের অনেকগুলো সুবিধা রয়েছে। মুকুল জ্যোতি চাকমা আরো বলেন, অবৈধ মাদক ব্যবসা নিয়ন্ত্রণে তাদের অভিযান অব্যাহত রয়েছে। প্রয়োজনীয় লজেস্টিক সাপোর্ট পেলে মাদকের ব্যবহার পুরোপুরি নির্মূল সম্ভব না হলেও নিয়ন্ত্রণ সম্ভব, এতে কোনো সন্দেহ নেই।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক মাসুদা এম রশীদ চৌধুরী বলেন, সহজলভ্য বলে বিভিন্ন ধরনের মাদকে আসক্ত হয়ে পড়ছে আমাদের দেশের যুবসমাজ, বিশ্ববিদ্যালয় এবং কলেজপড়–য়া শিক্ষার্থীরা। এমনকি উঠতি বয়সি স্কুলগামী কোমলমতি শিশুরাও জড়িয়ে পড়ছে নেশার বেড়াজালে। যা ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য ভাবনার বিষয়। মাসুদা এম রশীদ চৌধুরী আরো বলেন, একই সময় পিস্তলের একটি গুলি হয়তো এজনের প্রাণ কেড়ে নিতে পারে। কিন্তু মাদকের অপব্যবহার যুবসমাজ কিংবা জাতিকেই ধ্বংস করে। সময় থাকতেই মাদক ব্যবসায়ীদের চিহ্নিত করে উপযুক্ত শাস্তির আওতায় এনে জাতিকে রক্ষা করতে হবে।
এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ
সর্বশেষ
সর্বাধিক পঠিত