শিরোনাম

নির্বাচনি মাঠে থাকবেন জয়

প্রিন্ট সংস্করণ॥ নূরে আলম জীবন  |  ০১:৪৯, ডিসেম্বর ১৫, ২০১৭

বহুল আলোচিত নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মধ্য দিয়ে আওয়ামী লীগ পর পর দুই মেয়াদে ক্ষমতায় রয়েছে। দলীয় প্রধান শেখ হাসিনা দুই মেয়াদে সরকারপ্রধান হিসেবে নিজের দক্ষতা, যোগ্যতা ও দৃঢ় নেতৃত্বের কৃতিত্বে শতভাগ সফল হয়েছেন। আগামী একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে এখন থেকেই কাজ করছেন দলটি। দলটি আগামী নির্বাচনে জয়ের মাধ্যমে সরকার গঠন করবে— এ বিষয়ে তৃণমূলে খুশির বার্তা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর আইসিটি উপদেষ্টা সজীব ওয়াজেদ জয়। জানা গেছে, আগামী নির্বাচনে আওয়ামী লীগ সরকার গঠন করলে মূল ধারার রাজনীতিতে দলের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে আসতে পারেন প্রধানমন্ত্রীর আইসিটিবিষয়ক উপদেষ্টা ও আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনাপুত্র সজীব ওয়াজেদ জয়।
বাংলাদেশ শেখ হাসিনার দুই মেয়াদের শাসনামলে মধ্যম আয়ের দেশে প্রবেশ করেছে, ২০২১ সালে দেশটি যখন স্বাধীনতার ৫০ বছর পূর্তি উদ্যাপন করতে যাবে, তখন এটি প্রায় দারিদ্র্যমুক্ত দেশে পরিণত হওয়ার সম্ভাবনার পথে। শেখ হাসিনার আগের মেয়াদের মন্ত্রিসভায় কৃষি, বিদ্যুৎ, শিক্ষা, তথ্য-প্রযুক্তি, যোগাযোগ, বাণিজ্য, অর্থসহ বেশ কয়েকটি মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রীরা অভূতপূর্ব সাফল্য দেখাতে পেরেছেন। বর্তমান মন্ত্রিসভায়ও তাদের বেশ কয়েকজন রয়েছেন, সাফল্যের ধারাবাহিকতা রক্ষায় অবশ্য সবাই সমানভাবে সফল, তা কিন্তু বলা না গেলেও কূটনীতি ও পররাষ্ট্রনীতিতে বর্তমান মেয়াদের অর্জন চোখে পড়ার মতো। দলের সর্বশেষ ২০তম জাতীয় কাউন্সিলে ব্যাপক সম্ভাবনা তৈরি হয়েছিল মূল ধারার রাজনীতিতে আসছে তারুণ্যের প্রতীক, যুবসমাজের অগ্রণী কারিগর সজীব ওয়াজেদ জয়। তবে সরাসরি মূল রাজনীতির সঙ্গে তিনি সম্পৃক্ত না হয়ে প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা হয়ে দেশের কল্যাণে ব্যাপক কাজ করে যাচ্ছেন। এরই মাঝে দলের তৃণমূলে সজীব ওয়াজেদ জয়ের জনপ্রিয়তাও ব্যাপকভাবে বেড়েছে।
এরই মাঝে দলের হাইকমান্ড বিষয়টি বুঝতে পারলেও এ ব্যাপারে জয়ের সিদ্ধান্তের ওপর তাকিয়ে আছে। আগামী একাদশ নির্বাচনে দলের জন্য নতুনভাবে পরিকল্পনা ও প্রযুক্তিগতভাবে বাংলাদেশকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার বিষয়ে কাজ করছেন তিনি।
ইতোমধ্যে, আওয়ামী লীগকে হারানোর মতো কোনো দল নেই বলে পরিষ্কার জানিয়ে দিয়ে সজীব ওয়াজেদ জয় বলেছেন, আগামী নির্বাচনে ২০০৮ সালের চেয়েও বড় বিজয় আসবে। আমি দেশের বিভিন্ন এলাকায় ‘বিজ্ঞানসম্মত’ একটি জরিপ করেছি। তাতে এই ফল পাওয়া গেছে।
তিনি বলেন, আমি বিভিন্ন জায়গায় জরিপ করেছি, এটি সায়েন্টিফিক জরিপ। নেতা-কর্মীদের জন্য আজ আমি সুখবর নিয়ে এসেছি। আমার জরিপে এত ভালো এসেছে যে, আগামী নির্বাচনেও আওয়ামী লীগের ল্যান্ডসøাইড বিজয় হবে।
তার এমন আশাবাদে ছাত্রগীল, যুবলীগসহ আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের মাঝে নতুন উদ্যমতার সৃষ্টি হয়েছে।
এদিকে দেশের সাধারণ জনগণ মনে করছেন আগামী নির্বাচনে আওয়ামী লীগ যদি ক্ষমতায় আসে শেখ হাসিনা প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্বে থেকে দলের দায়িত্ব সজীব ওয়াজেদ জয়ের ওপরই দিতে পারে। তাই হয়তো সম্প্রতি দলের সাংগঠনিক কর্মকাণ্ডে জয়ের ভূমিকা বৃদ্ধি পেয়েছে!
গ্রামীণ ও শহুরে অর্থনীতিতে ব্যাপক পরিবর্তনকে কোনো অন্ধ ও বধিরও অস্বীকার করতে পারবে না। নানা ত্রুটি-বিচ্যুতির পরও সরকার ও দেশ পরিচালনায় শেখ হাসিনা তার অপরিহার্যতা অনেকটাই সচেতন মহলের কাছে তুলে ধরতে পেরেছেন। বাংলাদেশে এখন তাই একটি প্রশ্ন ঘুরেফিরে আসছে যে আগামী নির্বাচনে তিনি কি দল ও জোট নিয়ে জয়ী হয়ে আসতে পারবেন, পারলে সেটি হবে ইতিহাস। পর পর দুই মেয়াদে সরকারপ্রধান থাকার নজির যেখানে প্রায় নেই, সেখানে তৃতীয় মেয়াদে যাওয়া, সব মিলিয়ে চতুর্থবার ক্ষমতায় যাওয়ার রেকর্ডটি কেমন হবে তা নিয়ে দ্বিধার জায়গাটি শেখ হাসিনা ও হাতেগোনা কয়েকজন মন্ত্রী নিয়ে মোটেও নয়, বরং গোটা আওয়ামী লীগ, বেশ কয়েকজন মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রী এবং বেশিরভাগ এমপি, এমপিপ্রত্যাশী স্থানীয় নেতাকর্মীকে নিয়েই। এই সংখ্যাটি বেশি হওয়ায় শেখ হাসিনাও তাদের কারণে অনাকাক্সিক্ষত পরিস্থিতির শিকার হতে পারেন।
সেক্ষেত্রে আগামী নির্বাচনে কাকে, কেন মনোনয়ন দেয়া হবে এ বিষয়ে ফর্মুলা করছেন সজীব ওয়াজেদ জয়।
আওয়ামী লীগের আইনবিষয়ক সম্পাদক শ. ম. রেজাউল করিম বলেন, আগামী নির্বাচন যথাযথ সময়েই হবে। সজীব ওয়াজেদ জয় আওয়ামী লীগের সম্পাদক। তার চিন্তা-চেতনায় বাংলাদেশ আজ প্রযুক্তির ব্যাপক সুবিধা পাচ্ছে। সঠিক সময়েই তিনি রাজনীতিতে আসবে।
আওয়ামী লীগের সভাপতিম-লীর অন্যতম সদস্য লে. কর্নেল (অব.) মুহাম্মদ ফারুক খান বলেন, সজীব ওয়াজেদ জয় আওয়ামী লীগের সঙ্গেই আছেন। তবে সরাসরি রাজনীতিতে আপাত্ত তিনি আসছেন না।
তিনি বলেন, আগামী নির্বাচনে সজীব ওয়াজেদ জয় দলের পক্ষে মাঠে কাজ করবেন। দলের নেতাকর্মীদের জন্য তিনি নিবেদিত।
এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ
সর্বশেষ
সর্বাধিক পঠিত