শিরোনাম
তেজগাঁও সড়কের দু’পাশ ফের দখল

মেয়র নিয়ে দুশ্চিন্তায় কাউন্সিলর ও বাসিন্দারা

প্রিন্ট সংস্করণ॥ ফারুক আলম  |  ০১:০৯, ডিসেম্বর ০৭, ২০১৭

ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের মেয়র পদে প্রধান দুটি রাজনৈতিক দল যাকে প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন দেবে তিনি নির্বাচিত হওয়ার পর প্রয়াত মেয়র আনিসুল হকের অসমাপ্ত পরিকল্পিত কাজগুলো সমাপ্ত করতে পারবে কিনা তা নিয়ে দুশ্চিন্তায় রয়েছেন কাউন্সিলর ও বাসিন্দারা। সেক্ষেত্রে সৎ, যোগ্য, সাহসী ও কর্মঠ মেয়রের প্রত্যাশা করছেন তারা, যিনি দলমতের ঊর্ধ্বে নাগরিক সেবা নিশ্চিত করবেন। এ বিষয়ে সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) সম্পাদক বদিউল আলম মজুমদার বলেন, ডিএনসিসির নির্বাচনে রাজনৈতিক দলের মনোনয়নে মেয়র ক্ষমতা পাওয়ার পর যদি নগরবাসী কথা না ভাবেন তাহলে আগের মতই আমাদের দুর্ভোগ পোয়াতে হবে। এই মুহূর্তে ডিএনসিসিতে জনকল্যাণমুখী ও স্বপ্নবিলাসী একজন মানুষ প্রয়োজন। যিনি নগরীকে সামনের দিকে এগিয়ে নিয়ে যেতে পারবেন। উত্তর সিটি কর্পোরেশনের ২৪ নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর সফিউল্লাহ আমার সংবাদকে বলেন, মেয়র সাহেব (আনিসুল হক) দ্রুতই কাউন্সিলদের সঙ্গে মিশে যেতেন। কার ওয়ার্ডে কি সমস্যা রয়েছে নিজ থেকেই জিজ্ঞেস করতেন। তার আধ্যাতিক গুণাবলি প্রত্যেক কাউন্সিলরকে মুগ্ধ করেছে। ওয়ার্ডের সৌন্দর্য্য বাড়ানো ও বাসিন্দাদের ভোগান্তি থেকে মুক্তি দিতে বিপুল অংকের বাজেট দিতেন। এমনকি ডিএনসিসিতে বড় পরিকল্পনা হাতে নেয়ার আগে কাউন্সিলদের সঙ্গে পরামর্শ করতেন। এমন মেয়রের জন্ম যুগে একটা হয়। উনার হাস্যোজ্জ্বল মুখখানি এখনও চোখের সামনে ভাসে। তার কথাগুলো এখন কানে বাজে। নাম প্রকাশ না করা শর্তে এক কাউন্সিলর মনে করেন, আগামীতে ডিএনসিসিতে যিনি মেয়র হিসেবে আসবেন তার সঙ্গে ওয়ার্ডের কাজের গতি নিয়ে খোলামেলা কথা বলতে পারবো কিনা তা নিয়ে হতাশায় রয়েছে। তিনি (আনিসুল হক) দলের শীর্ষস্থানীয় নেতাদের ফোনেও অন্যায় পথ থেকে সরে দাঁড়াননি। কিন্তু আগামীতে মেয়র হিসেবে যিনি নির্বাচত হবেন তিনি দলীয় মনোভাবের ঊর্ধ্বে না উঠলে ওয়ার্ডের বাসিন্দাদের ভোগান্তিতে পড়তে হবে। ডিএনসিসি’র ২ নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর সাজ্জাদ হোসেন আমার সংবাদকে বলেন, আমি বিএনপির মতাদর্শের কাউন্সিলর হলেও উন্নয়নমূলক কাজের ক্ষেত্রে মেয়র সাহেব (আনিসুল হক) বৈষম্যমূলক নীতি গ্রহণ করেননি। এমন সৎ সাহসী মানুষ খুব কমই হয়। এর আগেও ঢাকা সিটিতে অনেক মেয়র কাজ করেছেন কিন্তু উনার (আনিসুল হক) মত সাহস কারও ছিল না। তিনি জনগণের জন্য জীবনের ঝুঁকি নিয়ে কাজ করেছেন যা বিগত দিনে কেউ করতে পারেননি। ভবিষ্যতে ডিএনসিসিতে যে মেয়র আসবেন তিনি কতটা চ্যালেঞ্জ নিতে পারবেন সেটি দেখার বিষয়। সাজ্জাদ হোসেন হতাশা প্রকাশ করে বলেন, মেয়র সাহেব অসুস্থ্য ও পরলোগমন করার সঙ্গে সঙ্গে ডিএনসিসিতে কাজের ব্যাঘাত ঘটা শুরু হয়েছে। তেজগাঁওয়ে অবৈধভাবে গড়ে উঠা ট্রাকস্ট্যান্ডটি মেয়র সাহেব দখলমুক্ত করেছেন। সেই ট্রাকস্ট্যান্ডের জায়গাটি আবারও দখলে যাচ্ছে। দখলমুক্ত আমিন বাজারের জায়গাটি দখলে যাচ্ছে। সরেজমিনে গিয়ে দেখে গেছে, তেজগাঁও ট্রাকস্ট্যান্ড, মহাখালী বাস টার্মিনালের সামনের রাস্তা ও তেজগাঁও শিল্প এলাকার সড়কগুলো আবারও দখল নিয়েছেন বাস-ট্রাক, পিকআপ-ভ্যান চালকরা। সড়কের দু’পাশে কোথাও এক লাইন, কোথাও দুই লাইনে করে পার্কিং করে রেখেছে শতশত ট্রাক ও বাস। এতে ভোগান্তি হচ্ছে চলাচলরত যানবাহনের। বিশেষ করে মহাখালী থেকে মগবাজার ময়মনসিংহ রোডে শাহ-ফাতেহ আলী, একতা, নিরালা, সোনার বাংলা, মহানগর, বিনিময়, নিরালা সুপার পরিবহনসহ ময়মনসিংহ, শেরপুর, জামালপুরগামী বাসগুলো মূল সড়কে দুপাশে দাঁড়িয়েছে। এ বিষয়ে তেজগাঁওয়ে ট্রাক ও কাভার্ডভ্যান মালিক সমিতির অফিসে গেলে কেউ কথা রাজি হননি। এদিকে তেজগাঁও এলাকার বাসিন্দা হাবিবুল্লাহ ফাহাদ বলেন, মেয়র সাহেব অসুস্থ্য হওয়ার পর থেকে আবারও রোডের পাশে গাড়ি রাখা শুরু হয়েছে। রাত যতই বাড়তে থাকে মূল রোডের দু’পাশে পাকিং গাড়ির সংখ্যা আরও বাড়তে থাকে। এসব দেখভাল করার মত কোন লোক নেই। কিশোরগঞ্জগামী উজান-ভাটি পরিবহনের হেলপার ফাহিম বলেন, মহাখালী বাস টার্মিনালে কিশোরগঞ্জের বাসগুলোর পার্কিংয়ের জায়গা নেই। তাই বাধ্য হয়ে নাবিস্কো-গুলশান লিংক রোডের ওপর রাখি। তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল থানার টহলরত পুলিশ নাম প্রকাশের অনিচ্ছুকে শর্তে বলেন, একটা দুটি গাড়ি নয়, রাস্তার পাশে শতশত গাড়ি। একজনকে নিষেধ করলে অন্যজনকে নিষেধ করা যায় না। এজন্য দেখেও না দেখার মত থাকতে হয়। তবে জনগণের নিরাপত্তা ও স্বার্থরক্ষায় দ্রুত রাস্তাগুলোকে দখল মুক্ত রাখা দরকার। মহাখালী এলাকার বাসিন্দা আফরুজা বেগমের মতে, প্রয়ত মেয়র প্রত্যেক নগরবাসীদের সঙ্গে মিশে যেতেন। প্রত্যেকের দুঃখ-কষ্ট অনুধাবন করতেন। উনার ইচ্ছা শক্তি, সৎ সাহস আমাদের মুগ্ধ করেছে। আগে রাস্তার পাশে বসে কোনও নারীর জন্য ব্যবসা তো দূরের কথা, চলাচল করাও নিরাপদ ছিল না। এখন দিনরাত সবসময় স্বাচ্ছন্দ্যে চলাচল করা যায়। নগরবাসীদের মন্তব্য ডিএনসিসি’র আগামী মেয়রের মূল লক্ষ্য হওয়া উচিত জননিরাপত্তা, সন্ত্রাসমুক্ত নগর, শিশুবান্ধব শহর, পার্ক-খেলার মাঠের নিশ্চয়তা, নগরে সবুজায়ন, দখল ও দূষণমুক্ত খাল-জলাশয়, দখলমুক্ত ফুটপাত, পরিকল্পিত শহর, বায়ু-বর্জ্য-শব্দ-দূষণমুক্ত নগর, শিক্ষা-স্বাস্থ্যসহ নাগরিক অধিকার নিশ্চিত করা। এসব বাস্তবায়ন করতে গেলে বলিষ্ঠ মেয়র প্রয়োজন বলে মনে করেন তারা। একই এলাকার আরেক বাসিন্দা ফিরোজ আলম বললেন,মেয়র মানেই নগরপিতা। পিতা যদি ভালো হন তাহলে পরিবার ভালো চলে। আমরা এমন একজন নগরপিতা চাই, যিনি নগরবাসীর সব অধিকার ও সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করবেন।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ
সর্বশেষ
সর্বাধিক পঠিত