শিরোনাম

নতুন ১৮ ওয়ার্ড নিয়ে সিদ্ধান্তহীনতায় ইসি

প্রিন্ট সংস্করণ॥ গোলাম সামদানী  |  ০১:১০, ডিসেম্বর ০৬, ২০১৭

আনিসুল হকের মৃত্যুতে ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের (ডিএনসিসি) শুন্য আসনে মেয়র পদে উপ নির্বাচন নিয়ে আইনি জটিলতা দেখা দিয়েছে। বিশেষ গত জুলাই মাসে নতুন করে ডিএনসিসি’তে যুক্ত হওয়া ১৮ ওয়ার্ড নিয়েই এই জটিলতা। বর্তমানে নতুন ওয়ার্ডগুলোতে নির্বাচিত প্রতিনিধি না থাকায় মেয়র পদে নির্বাচনের সময় সেখানে কাউন্সিলর পদেও নির্বাচন হবে কিনা, আর হলে মেয়াদ কত বছর হবে তা নিয়ে সিদ্ধান্ত নিতে পারছেন না নির্বাচন কমিশন (ইসি)। এই ব্যাপারে ইসির ভারপ্রাপ্ত সচিব হেলালুদ্দীন আহমেদ আমার সংবাদকে বলেন, মেয়র পদে উপনির্বাচনে নতুন ১৮ ওয়ার্ড নিয়ে আমরা এখনও কোন সিদ্ধান্ত নেয়নি। মেয়র পদটি শুন্য ঘোষিত হওয়ার গেজেট হাতে পেলে এ বিষয়ে কমিশন চুড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে। ফলে এই মুহর্ুূতে এরচেয়ে বেশি কিছু বলা সম্ভব নয়। সূত্র জানায়, চলতি বছরের জুলাই মাসে ঢাকার বাড্ডা, বেরাইদ, সাতারকূল, হরিরামপুর, উত্তর খান ও দক্ষিণ খান এবং ডুমনি এই সাতটি ইউনিয়নকে ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের সীমানা ভূক্ত করে ১৮টি ওয়ার্ডে বিভক্ত করা হয়। নবগঠিত ১৮টি ওয়ার্ডে নির্বাচন না হওয়ায় সেখানে কোনো কাউন্সিলর নেই। এবার মেয়র পদে উপনির্বাচন হলে, কাউন্সিলর ও সংরক্ষিত আসনের কাউন্সিলরও পদে নির্বাচন হবে কিনা তা নিয়ে জঠিলতা সৃষ্টি হয়েছে। নাকি এই ওয়ার্ডগুলোকে নির্বাচনের বাইরে রাখা হবে তা নিয়েই ইসি সিদ্ধান্ত নিতে পারছেন না। ইসি সূত্র জানায়, ১৮ ওয়ার্ডে কাউন্সিলর/সংরক্ষিত আসনের কাউন্সিলর পদে ভোট হলে তাদের মেয়াদ কতদিন হবে, আড়াই বছর নাকি ৫ বছর। উল্লেখ্য গত ৩০ নভেম্বর ডিএনসিসির মেয়র আনিসুল হক মারা যাওয়ায় এই আসনে উপনির্বাচন হচ্ছে। ফলে নতুন মেয়রের মেয়াদ হবে বাকি আড়াই বছর। উল্লেখ ২০১৫ সালের ২৮ এপ্রিল ঢাকা উত্তর-দক্ষিণ ও চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনে ভোট হয়। ইসি সূত্র জানায়, বর্তমানে ডিএনসিসি’র ৩৪ জন ওয়ার্ড কাউন্সিলর রয়েছেন। যাদের মেয়াদ ৫ বছর। ইতোমধ্যে তারা আড়াই বছর পার করেছেন, বাকি রয়েছে আড়াই বছর। এই অবস্থায় ডিএনসিসির নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার আগে স্থানীয় সরকার বিভাগ, নির্বাচন কমিশন এবং আইন মন্ত্রণালয়ের যৌথ উদ্যেগে এই সমস্যা সমাধান করা না হলে আইনি জটিলতা দেখা দেবে। ফলে এই সমস্যার সমাধান বিদ্যমান সিটি কর্পোরেশন আইনে পদ শুন্য হওয়ার ৯০ দিনের মধ্যে করা সম্ভব নয়। পিছিয়ে পড়তে পারে ডিএনসিসি’র নির্বাচন। অন্যদিকে ডিএনসিসির নতুন ১৮ ওয়ার্ডকে নির্বাচনের বাইরে রেখে ভোটের আয়োজন করা সম্ভব না। কারণ ১৮টি ওয়ার্ড ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের আওতাভুক্ত এলাকা। তাই এসব ওয়ার্ডকে বাদ দিয়ে নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করে তবে সেখানকার কোনো ভোটার উচ্চ আদালতে নির্বাচন স্থগিত চেয়ে রীট করলে নির্বাচনটাই ঝুলে যেতে পারে। এই অবস্থায় বিদ্যমান স্থানীয় সরকার (সিটি কর্পোরেশন) আইন সংশোধন করতে হবে। আইন সংশোধন করতে হলে কমিটি গঠন, খসড়া তৈরি, ভেটিং, প্রজ্ঞাপন জারি করা অনেক সময় প্রয়োজন। ফলে ৯০ দিনের মধ্যে মেয়র পদে উপনির্বাচন করা সম্ভব নাও হতে পারে। 
এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ
সর্বশেষ
সর্বাধিক পঠিত