শিরোনাম

এমপি হতে চান অর্ধশত ডাক্তার

প্রিন্ট সংস্করণ॥ আফছার আহমদ রূপক  |  ০১:২০, নভেম্বর ২৯, ২০১৭

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অন্তত ৫০ জন ডাক্তার এমপি প্রার্থী হতে মাঠে নেমেছেন। তারা নিজ নিজ আসনে সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে জনগণ ও নেতাকর্মীদের সঙ্গে সম্পর্ক তৈরি করছেন এবং কেন্দ্রীয় নেতাদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছেন। দুয়েকজন ছাড়া এসব ডাক্তারের সবাই আওয়ামী লীগ সমর্থক চিকিৎসক স্বাধীনতা চিকিৎসক পরিষদ (স্বাচিপ) এবং বিএনপি সমর্থক চিকিৎসক সংগঠন ডক্টরস এসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ড্যাব)-এর নেতা। এরমধ্যে বাংলাদেশ মেডিকেল এসোসিয়েশন সভাপতি ডা. মোস্তফা জালাল মহীউদ্দিন ঢাকা-৭ আসনে, স্বাচিপের সভাপতি অধ্যাপক ডা. এম ইকবাল আর্সলান রাজবাড়ি-২ পাংশা, কালুখালি ও বালিয়াকান্দি আসনে, স্বাচিপ নেতা স্বনামধন্য নাক-কান-গলা বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ডা. প্রাণ গোপাল দত্ত কুমিল্লা-৭ চান্দিনা আসনে, স্বাচিপের মহাসচিব অধ্যাপক ডা. এম এ আজিজ ময়মনসিংহ-৪ সদর আসনে, ঢাকা মেডিকেল কলেজের শিক্ষক সমিতির সভাপতি ও বিএমএ’র কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ডা. আবু ইউসুফ ফকির মুন্সীগঞ্জ-২ লৌহজং টঙ্গীবাড়ি আসনে, শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক অধ্যাপক ডা. উত্তম কুমার বড়ুয়া চট্টগ্রামে, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতালের কিডনি রোগ বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ডা. কেবিএম হাদিউজ্জামান সেলিম ময়মনসিংহ-১১ ভালুকা আসনে আওয়ামী লীগের টিকিটে নৌকা প্রতীক নিয়ে নির্বাচনে অংশ নিয়ে এমপি হতে চান। তবে আরপিও সংশোধন করা না হলে তাদের অনেকেই প্রার্থী হতে পারবেন না। কারণ তারা কেউ সরকারি এবং কেউ স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানে চাকরি করছেন।
স্বাচিপের ডাক্তারদের পাশাপাশি ড্যাবের ডাক্তারদেরও নির্বাচনী প্রচারণা তুঙ্গে। ড্যাবের মহাসচিব ও বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান অধ্যাপক ডা. এজেডএম জাহিদ হোসেন ময়মনসিংহে, ড্যাবের যুগ্মমহাসচিব ডা. রফিকুল ইসলাম বাচ্চু গাজীপুর-৩ শ্রীপুর ও সদর উপজেলার অংশবিশেষ, বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতা অধ্যাপক ডা. কাজী মাযহারুল ইসলাম দোলন নোয়াখালী-৩ বেগমগঞ্জ আসনে, ড্যাবনেতা এবং বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতালের অর্থোপেডিক বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ডা. মোফাখখারুল ইসলাম রানা ময়মনসিংহ-১০ গফরগাঁও আসনে, নেত্রকোনা বিএনপির সহসভাপতি ও বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতালের কনসালটেন্ট ও কিডনি রোগ বিশেষজ্ঞ ডা. দেলোয়ার হোসেন টিটু নেত্রকোনা-২ সদর ও বারহাট্টা আসনে বিএনপির টিকিটে ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে নির্বাচন করতে আগ্রহ প্রকাশ করেছেন। একই বিশ্ববিদ্যালয়ের ইউরোলজি বিভাগের চিকিৎসক এবং বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতা রফিকুল ইসলাম, ড্যাবনেতা ডা. শহিদ হাসান, ডা. লাবুসহ বিএনপি ও আওয়ামী লীগের অর্ধশত ডাক্তার এমপি প্রার্থী হতে জোর লবিয়িং ও নির্বাচনী মাঠে কোমর বেঁধে নেমেছেন। বিভিন্ন ধর্মীয় অনুষ্ঠান, বর্ষবরণসহ নানা উপলক্ষে নির্বাচনী এলাকায় শুভেচ্ছা ও এলাকাবাসীর দোয়া চেয়ে ব্যানার-ফেস্টুন, সভা-সমাবেশ করে ভোটারদের ও দলীয় নেতাকর্মীদের দৃষ্টি আকর্ষণের চেষ্টা করছেন। চিকিৎসক হওয়ায় তাদের প্রায় সবাই সপ্তাহে অন্তত একদিন শুক্রবারে নির্বাচনী এলাকায় গিয়ে গরিব রোগীদের বিনামূল্যে সেবা দিচ্ছেন। কেউ কেউ ঢাকার প্রাইভেট চেম্বারেও ভিজিট ছাড়া নির্বাচনী এলাকার রোগী দেখছেন। এমনই একজন খ্যাতিমান চিকিৎসক অধ্যাপক ডা. প্রাণ গোপাল দত্ত। ওয়ান-ইলভেনে তিনি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার চিকিৎসক হিসেবে দেশে-বিদেশে নাম ছড়িয়েছিলেন। এখন চান্দিনার মানুষকে বিনামূল্যে সেবা দিয়ে এবং বিভিন্ন সহায়তা করে এলাকায় বেশ জনপ্রিয়। তিনি আশা করছেন এই আসনে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পাবেন। চিকিৎসাসেবায় অধ্যাপক প্রাণ গোপালের খ্যাতি এবং প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার চিকিৎসক হিসেবে আলাদা গুরুত্ব রয়েছে তার। আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পাওয়া ও ভোটে জয়ের ক্ষেত্রে একধাপ এগিয়ে তিনি। স্বাচিপের সভাপতি ও বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতালের বায়োকেমিস্ট্রি বিভাগের অধ্যাপক ডা. এম ইকবাল আর্সলান খুব জোরেসোরেই নিজ এলাকায় প্রচার চালাচ্ছেন। একজন চিকিৎসক হিসেবে তার কদর অন্য প্রার্থীর তুলনায় বেশি। দেশের বৃহত্তর চিকিৎসক সংগঠন স্বাচিপের সভাপতি হিসেবে দলীয় চিকিৎসকদের কাছে ব্যাপক জনপ্রিয় তিনি। ভালো ইমেজের জন্য বেশ পরিচিত নির্বাচনী এলাকাতেও। একইভাবে নির্বাচনী আসনে খুব সুনাম রয়েছে স্বাচিপের মহাসচিব অধ্যাপক ডা. এম এ আজিজের। নামকরা এই চক্ষু বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক এলাকায় বিনামূল্যে নিয়মিত রোগী দেখছেন। অন্যভাবেও সহায়তা করছেন গরিব-দুঃস্থ মানুষকে। বিএমএ সভাপতি ডা. মোস্তফা জালাল মহিউদ্দিন দীর্ঘদিন ধরে স্বাচিপের রাজনীতি করে ডাক্তারদের মধ্যে প্রিয় একজন নেতা। ছিলেন ঢাকা-৭ আসনের এমপি। বিএমএ নেতা হিসেবেও বেশ পরিচিতি তার। এলাকায় বেশ জনপ্রিয় স্বাচিপ নেতা অধ্যাপক ডা. আবু ইউসুফ ফকিরও। তার আসনে একজন ভালো চিকিৎসক ও উদারমনের মানুষ হিসেবে খ্যাতি পেয়েছেন তিনি। ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে এলাকার মানুষ তো বটেই, দেশের বিভিন্ন স্থানের রোগীদেরও নানাভাবে সহায়তা করছেন। স্বাচিপের সম্ভাব্য অন্য প্রার্থীদের মধ্যে ডা. কেবিএম হাদিউজ্জামান সেলিম ময়মনসিংহ-১১ ভালুকা আসনে বেশ জনপ্রিয়। চিকিৎসক হিসেবে এলাকার মানুষকে কখনও বিনামূল্যে চিকিৎসা, কখনও অন্যভাবে সহায়তা করছেন। তার মরহুম বাবা কেবিএম আছমত আলীর বর্ণাঢ্য আওয়ামী লীগ রাজনীতির কারণেও তিনি এলাকায় অতিপরিচিত। ছাত্রলীগের রাজনীতি করেছেন দীর্ঘদিন। ছিলেন ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ ছাত্রসংসদের ছাত্রলীগ মনোনীত জিএস।
স্বাচিপের প্রার্থীদের মতোই প্রচারণা তুঙ্গে ড্যাবের ডাক্তারদের। বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান অধ্যাপক ডা. এজেডএম জাহিদ হোসেন নির্বাচনী এলাকায় জনসংযোগের সঙ্গে সমানভাবে চালিয়ে যাচ্ছেন বিএনপির কেন্দ্রীয় ও ড্যাবের নানা কর্মসূচি। ড্যাবের ডাক্তারদের কাছে জনপ্রিয় এই নেতা বিএনপির মধ্যেও অনেক জনপ্রিয়। বিএনপি নেতা ও তারেক রহমানের ব্যক্তিগত চিকিৎসক অধ্যাপক ডা. কাজী মাযহারুল ইসলাম দোলনও নোয়াখালীর একটি আসনে নির্বাচন করার জন্য জোর লবিয়িং করছেন। তারেক রহমানের দুঃসময়ে তার পাশে থাকার কারণে বিএনপিতে তার গ্রহণযোগ্যতা অনেক বেড়েছে। তাকে ব্যক্তিগতভাবে সমীহের চোখে দেখেন বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া ও তার পুত্র সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমান। এলাকাতেও দোলন খুবই জনপ্রিয়। ড্যাবের কেন্দ্রীয় নেতা ডা. দোলোয়ার হোসেন টিটু তার নির্বাচনী এলাকায় অন্যদের থেকে বেশি সক্রিয়। রোগীদের বিনামূল্যে চিকিৎসা দিয়ে ব্যাপক জনপ্রিয়তা পেয়েছেন। এছাড়া ড্যাব এবং বিএনপির দলীয় কর্মসূচিতে সক্রিয় থাকার কারণে তার রয়েছে আলাদা গুরুত্ব। ডা. মোফাখখারুল ইসলাম রানা দীর্ঘদিন ধরেই গফরগাঁও আসনে শুক্রবারে ছুটে যান রোগীদের চিকিৎসা দিতে। এলাকায় অনেক রোগীকে বিনামূল্যে চিকিৎসা দিয়ে এবং আরো নানাভাবে সহায়তা করে বেশ জনপ্রিয় হয়ে উঠেছেন তিনি। একইভাবে জনপ্রিয় নেতা হিসেবে পরিচিতি পেয়েছেন ডা. রফিকুল ইসলাম বাচ্চু। কেন্দ্রীয় কর্মসূচির পাশাপাশি নিজ আসনে বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক কর্মসূচিতে অংশ নিচ্ছেন তিনি। উল্লিখিত ডাক্তাররা ছাড়াও আরো কয়েকজন ডাক্তার একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এমপি প্রার্থী হওয়ার জন্য দৌড়ঝাঁপ করছেন। তাতে দেখা গেছে এবার অন্যবারের তুলনায় এমপি প্রার্থী ডাক্তারদের সংখ্যা অনেক বেশি।
এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ
সর্বশেষ
সর্বাধিক পঠিত