শিরোনাম
আমার সংবাদকে আ.লীগ নেতারা

কোন্দল থাকলেও নির্বাচনে ঐক্য থাকবে

প্রিন্ট সংস্করণ॥ নূরে আলম জীবন  |  ০০:৩৩, নভেম্বর ১৫, ২০১৭

ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের দীর্ঘ শাসন আমলে দলীয় নেতাকর্মীদের ভেতর নানান বিষয়ে অভ্যন্তরীণ কোন্দলে অস্বস্তিতে আওয়ামী লীগ। আওয়ামী লীগ নেতারা বলছেন, বড় একটি দলে কিছু সমস্যা থাকতেই পারে, তবে নির্বাচনে নৌকার পক্ষে সবাই ঐক্যবদ্ধ হয়েই কাজ করবে। অভিযোগ রয়েছে, ক্ষমতাসীন দলে দিনকে দিন সুবিধাভোগীদের পাল্লা ভারী হচ্ছে, যারা কখনো দলের আদর্শ বা রাজপথের আন্দোলনের সঙ্গে সম্পৃক্ত নয়, তারাই ক্ষমতাসীন দলের বিভিন্ন সভা-সেমিনারে সামনের সারিতে চলে আসছে। আর তাদের সুযোগ করে দিচ্ছে দলেরই কিছু পদধারী নেতা। আবার এক নেতার সঙ্গে ক্ষমতাসীন দলের অন্য নেতার ব্যবসায়িক বা ব্যক্তিগত সমস্যা দলের মধ্যে গ্রুপিং বা কোন্দল ও সংঘাতের সৃষ্টি করছে কোনো কোনো ক্ষেত্রে। আগামী একাদশ সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে দলের মনোনয়ন পেতে প্রায় প্রতিটি আসনেই একাধিক প্রার্থী মাঠের রাজনীতিতে সরব রয়েছেন। আর এ নির্বাচন মনোনয়নকে কেন্দ্র করে দলের হেভিওয়েট নেতাদের প্রতিপক্ষ হয়ে তরুণদের প্রতিনিধি হিসেবে আলোচিত হয়ে রাজনীতির পালে নিজেদের অবস্থানের নোঙর তুলছেন সম্ভাব্য প্রার্থীরা। নির্বাচন মনোনয়নকে কেন্দ্র করে দেশের বিভিন্ন স্থানে পক্ষে-বিপক্ষে সংঘাতের মতো ঘটনাও ঘটেছে। রাজধানী ঢাকাকে টার্গেট করে প্রতিটি রাজনৈতিক দলই সম্ভাব্য প্রার্থীদের দিক-নির্দেশনা দিয়েছে বলে জানা গেছে। রাজধানীর প্রতিটি আসনই নিজেদের অনুকূলে রাখতে মরিয়া ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ। কারণ হিসেবে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছে, আলোচিত ৫ জানুয়ারির নির্বাচনকে কেন্দ্র করে বিএনপি রাজধানীতে নিজেদের যোগ্য প্রমাণে ব্যর্থ হয়েছে এবং ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগও তাদের দমিয়ে রাখতে সফল হয়েছে। দেশের বিভিন্ন স্থানে আন্দোলন-সংগ্রাম করতে পারলেও বিএনপিনেতারা রাজধানীর রাজপথে নামতে পারেনি। তাই একাদশ নির্বাচনে ক্ষমতাসীন দলের হাইকমান্ড রাজধানীকে বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে প্রার্থীদের মনোনয়ন দেবে বলে জানা গেছে। বর্তমান যেসব সংসদ সদস্য কর্মীদের সাথে দলের দূরত্ব, নিজের দূরত্ব করেছেন, বিশেষ করে বিএনপি-জামায়াতের বিরুদ্ধে আন্দোলন সংগ্রামে রাজপথে অগ্রণী ভূমিকা রেখেছেন, আহত হয়েছেন, নির্যাতিত হয়েছেন, মামলা খেয়ে সাজা খেটেছেনÑ এমন কর্মীদের সঙ্গে সংসদ সদস্যের দূরত্ব হয়েছে এবং যেসব এমপির বিরুদ্ধে স্বজনপ্রীতির অভিযোগ রয়েছে, তাদের মনোনয়নের ক্ষেত্রে কঠোর থাকবে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন বোর্ড! যদি কোনো হেভিওয়েট নেতারও এ ধরনের অভিযোগে প্রমাণিত হয় তাহলে দল তার বিরুদ্ধেও এবার কঠোর অবস্থানে যাবে বলে জানা গেছে। সেক্ষেত্রে এবার আওয়ামী লীগের মনোনয়নে তরুণ ও ব্যবসায়ী নেতৃত্ব এগিয়ে থাকার সম্ভাবনাই বেশি। গত রোববার এক অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর বেসরকারি খাত উন্নয়নবিষয়ক উপদেষ্টা সালমান এফ রহমান বলেছেন, আওয়ামী লীগের শত্রু আওয়ামী লীগই। এখন অনেক জায়গায় দেখা যায় নিজেদের মধ্যে গ্রুপিংয়ের সৃষ্টি হয়েছে। এতে ক্ষতি হচ্ছে দলের ও প্রধানমন্ত্রীর সাফল্য। এ বিষয়ে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আ.ফ.ম বাহাউদ্দিন নাসিম এমপি বলেন, বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ দেশের প্রাচীনতম ঐতিহ্যবাহী বড় রাজনৈতিক দল। এখানে কারো সাথে কারো মতের অমিল থাকতেই পারে। আর নির্বাচনের জন্য যে কেউ প্রস্তুতি নিতে পারেন। তবে নির্বাচনের জন্য যে নৌকার মনোনয়ন পাবে, সকলেই নৌকার পক্ষে কাজ করবে বলে জানান তিনি।
আওয়ামী লীগের আইনবিষয়ক সম্পাদক শ.ম রেজাউল করিম বলেন, রাজনৈতিক দলে প্রতিদন্দ্বী থাকবে– এটাই স্বাভাবিক। তবে যারা গ্রহণযোগ্য তারাই এগিয়ে যাবে। দলের নেতাকর্মীদের মাঝে ছোটখাটো কিছু সমস্যা থাকতেই পারে। যার প্রভাব জাতীয় নির্বাচনে পড়বে না। রেজাউল করিম বলেন, দলের অভ্যন্তরীণ সমস্যা সমাধানে সাংগঠনিকভাবে আমাদের কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে। আগামী নির্বাচনে অবশ্যই সকলে নৌকার পক্ষে ঐক্যবদ্ধ হয়ে কাজ করবে বলেও জানান তিনি।
এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ
সর্বশেষ
সর্বাধিক পঠিত