শিরোনাম

নির্বাচন করতে পারবে না চিহ্নিত জামায়াত নেতারা

প্রিন্ট সংস্করণ॥ গোলাম সামদানী  |  ০০:১৫, নভেম্বর ১৫, ২০১৭

আগামী একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর চিহ্নিত নেতারা নির্বাচনে অংশ গ্রহণ করতে পারবেন না। এমনকি দলটির চিহ্নিত নেতারা নিজ দলের পরিবর্তে অন্য কোন দলের হয়েও নির্বাচনে অংশ নিতে পারবেন না। গতকাল আগারগাঁওস্থ নির্বাচন কমিশন ভবনের নিজ কার্যলয়ে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে নির্বাচন কমিশনার মাহবুব তালুকদার এসব কথা বলেন। ইসির এই কমিশনার বলেন, জামায়াতের চিহ্নিত নেতাদের নির্বাচন কমিশন গ্রহণ করবে না, এমনকি জামায়াতের কেউ স্বতন্ত্র হিসেবেও নির্বাচনে অংশ নিতে চাইলে তাদের বিষয়ে বিচার বিশ্লেষণ করে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। তবে এ বিষয়ে ইসি কোনও আইন করবে কি না, তা তিনি পরিষ্কার করেননি। বর্তমান সরকারের অধীনে সুষ্ঠু নির্বাচন হবে না বিএনপির এমন অভিযোগের জবাবে তিনি বলেন, নির্বাচন কমিশনারেরা সংবিধান অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করার শপথ নিয়েছেন। সে শপথ নিয়ে এসে দায়িত্ব পালন করবো না, তা হয় না। সংবিধান অনুযায়ী সংবিধান সমুন্নত রেখে দায়িত্ব পালন করতে হবে। সংসদীয় আসনের সীমানা পুনর্র্নিধারণের বিষয়ে তিনি বলেন, আসনের সীমানা পুনর্র্নিধারণ সম্ভবত আদমশুমারির সঙ্গে সম্পর্কিত। তবে এবার কিছু ছিটমহল যুক্ত হয়েছে। ইসি তাদের বাদ দিয়ে চিন্তা করবে না। সেক্ষেত্রে সীমানা পুনর্র্নিধারণের বিষয়টি চলে আসতে পারে। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, নতুন দল নিবন্ধনের ক্ষেত্রে সব শর্ত পূরণ করা হচ্ছে কি না ইসি তা কঠোরভাবে দেখবে। দোকান ভাড়া নিয়ে বলে দেবে দলীয় কার্যালয় তা হবে না। নির্বাচনে সেনা মোতায়েন প্রশ্নে এই কমিশনার বলেন, তিনি ব্যক্তিগতভাবে মনে করেন সেনাবাহিনী থাকাটা জনগণের প্রত্যাশা পূরণ। তবে এ বিষয়ে ইসি এখনও সিদ্ধান্ত নেয়নি। এর আগে যুদ্ধাপরাধের দায়ে জামায়াতের শীর্ষ নেতাদের দণ্ড হওয়ার পর দলটির নিবন্ধন বাতিল করে রায় দেন হাইকোর্ট। ২০১৩ সালের ১ আগস্ট জামায়াতে ইসলামীর গঠনতন্ত্র সংবিধানের সঙ্গে সাংঘর্ষিক হওয়ায় নিবন্ধন বাতিল করে হাইকোর্ট। হাইকোর্টের আদেশের প্রায় দেড় বছর পর ১০১৫ সালের ১ জুন জামায়াতে ইসলামীর নিবন্ধন বাতিল করার ঘোষণা দেয় নির্বাচন কমিশন (ইসি)। তবে হাইকোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করায় বিষয়কি এখনো চুড়ান্ত নিষ্পত্তি হয়নি। সূত্র জানায়, জামায়াত ইসলামী নিবন্ধন আদালত ও ইসি কর্তৃক বাতিল হওয়া ইতিপূর্বে দলটির নেতারা স্বতন্ত্রভাবে বিভিন্ন নির্বাচনে অংশ গ্রহণ করে আসছে। এমনকি একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দলটি জোটগতভাবে নির্বাচনের প্রস্তুতি নিচ্ছে। দলীয় ভাবে নিজস্ব প্রতীক নিয়ে নির্বাচন করতে না পারলে জামায়াতে ইসলামী জোটগতভাবে বিএনপির দলীয় প্রতীকে নির্বাচনের প্রস্তুতি নিচ্ছেন। ইতিমধ্যে স্বতন্ত্র কিংবা ২০ দলীয় জোটের প্রধান বিএনপির হয়ে কোনো কোনো আসনে নির্বাচন করতে পারে বলে শোনা যাচ্ছিল। তার মধ্যেই এ ধরনের কথা বললেন নির্বাচন কমিশনার মাহবুব তালুকদার। ফলে দলটির বড় নেতাদের নির্বাচন করার বিষয়টা অনেকটা অনিশ্চিত হয়ে পড়ছে। 
এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ
সর্বশেষ
সর্বাধিক পঠিত