শিরোনাম

খালেদা-তারেকের কূটনৈতিক মিশনের সফলতা শুরু

প্রিন্ট সংস্করণ॥ আফছার আহমদ রূপক  |  ০০:৪৯, নভেম্বর ০৯, ২০১৭

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে লন্ডনে বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া ও তার জ্যেষ্ঠপুত্র সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমান কদিন আগে যে ব্যাপক কূটনৈতিক তৎপরতা চালিয়েছিলেন তার সফলতা শুরু হয়েছে। এর প্রথম সফলতা কিছুদিন আগে ঢাকায় ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী সুষমা স্বরাজ আর খালেদা জিয়ার বৈঠক। দ্বিতীয় সফলতা ৬ নভেম্বর খালেদা জিয়ার সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের রাজনীতিবিষয়ক আন্ডার সেক্রেটারি থমাস শ্যানন ও কানাডা পার্লামেন্টের প্রতিনিধি দলের সাক্ষাৎ। এসব বৈঠকে বিদেশি এই প্রতিনিধিরা বাংলাদেশে সব দলের অংশ গ্রহণে একটি সুষ্ঠু নির্বাচন প্রত্যাশা করছে। এই প্রত্যাশা কেবল বিএনপির জন্য পজিটিভই নয়, পরোক্ষভাবে সরকারের প্রতিও বিশেষ বার্তা। যাতে সরকার ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারির মতো বিএনপিবিহীন একতরফা নির্বাচনে না যায়। এর কিছুটা আলামত পাওয়া গেল বিএনপির তৃতীয় সফলতা এবং অন্যতম সুখবর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে ১১ নভেম্বর সমাবেশের অনুমোদন প্রদানের ঘটনা। ৭ নভেম্বর বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলেক্ষে বিএনপির উদ্যোগে এই সমাবেশ অনুষ্ঠিত হবে। এসবই হচ্ছে খালেদা জিয়া গতমাসে লন্ডন থেকে দেশে ফেরার পর। এর আগে ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারি আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় আসার পর থেকে একই ইস্যুতে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে সমাবেশের অনুমোদন পায়নি বিএনপি। উল্টো আওয়ামী লীগ সমাবেশের অনুমোদন না পেতে এবং সমাবেশ প- করতে পাল্টাপাল্টি সমাবেশ ডেকেছেন। প্রতিহতের ঘোষণা দিয়েছেন। আর এখন সমাবেশের অনুমোদনের পাশপাশি আওয়ামী লীগের প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক ড. হাছান মাহমুদ বলেছেন বিএনপির এই সমাবেশে সহায়তা করবে সরকার। জানা গেছে কেবল উল্লেখিত কূটনৈতিক তৎপরতাই নয়, একটি ঘনিষ্ঠ সূত্র বলছে আরো যেসব বিদেশি রাষ্ট্রের কাছে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে সুষ্ঠু করাতে খালেদা ও তারেক লন্ডনে বসে লবিয়িং করেছিলেন, সেসব দেশের প্রতিনিধিরাও পর্যায়ক্রমে এভাবে আসবেন। সরকার ও খালেদা জিয়ার সঙ্গে বৈঠক করবেন। বার্তা দেবেন সবদলের অংশগ্রহণে সুষ্ঠু জাতীয় সংসদ নির্বাচনের। সেই নির্বাচন আগামী বছরের ডিসেম্বরেই হোক আর ২০১৯ সালের জানুয়ারিতেই হোক। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, একেরপর ব্যর্থতার পর হঠাৎ এভাবে সফলতা দেখে বিএনপির নেতাকর্মীদের মধ্যে একটি চাঙাভাব ফিরে এসেছে। আগের তুলনায় তাদের সাহস বেড়েছে। এই সাহসিকতার একটি হলো সহায়কা বা নিরপেক্ষ সরকারের দাবি আদায়ে বিএনপির গণঅভ্যত্থানের হুমকি। যদিও আওয়ামী লীগ বলছে এই হুমকি বিএনপির নেতাকর্মীদের চাঙ্গা করার টনিক। হঠাৎ এসব সফলতা খালেদা-তারেকের লন্ডনকূটনৈতিক মিশনের জন্য কিনা জানতে চাইলে বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান অধ্যাপক ডা. এজেডএম জাহিদ হোসেন বলেন, আসলে ঠিক তা নয়। বিদেশের প্রতিনিধিরা তাদের রুটিন কাজ হিসেবেই বিএনপির চেয়ারপারসনের সঙ্গে দেখা করছেন। কারণ তারাও চান এ দেশে ্একটি সুষ্ঠু নির্বাচন হোক।  
এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ
সর্বশেষ
সর্বাধিক পঠিত