শিরোনাম
একটি বাড়ি একটি খামার প্রকল্প

কর্মীদের ঠাঁই হচ্ছে পল্লী সঞ্চয় ব্যাংকে

প্রিন্ট সংস্করণ॥ বেলাল হোসেন  |  ০০:১৯, অক্টোবর ১৯, ২০১৭

খুব শিগগিরই একটি বাড়ি একটি খামার প্রকল্পের জনবল পল্লী সঞ্চয় ব্যাংকে স্থায়ী নিয়োগ পেতে যাচ্ছে। এর জন্য ৭ সদস্য বিশিষ্ট একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। পল্লী সঞ্চয় ব্যাংকের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা প্রকল্পের স্কেল অনুযায়ী বেতন-ভাতা পাবেন। তবে ব্যাংক যদি মনে করে তাদের বিশেষ ইনসেনটিভ দেয়ার প্রয়োজন সেক্ষেত্রে ব্যাংকের নিজস্ব তহবিল হতে দেয়া হবে। প্রকল্প ও ব্যাংকিং কার্যক্রম একসঙ্গে চলতে সমস্যা না হয় সেজন্য সমঝোতা চুক্তি হয়েছে। প্রকল্পের মেয়াদ শেষ হলে সম্পূর্ণ জনবল ও অফিস পল্লী সঞ্চয় ব্যাংক ব্যবহার করবে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানাগেছে, একটি বাড়ি একটি খামার প্রকল্পে সাড়ে ৫ হাজার জনবল রয়েছে আরও ৬ হাজার নিয়োগ দেয়া হবে। এসব জনবল ধাপে ধাপে ব্যাংকে সম্পৃক্ত হবে। প্রকল্পে যেসব জনবলের বিরুদ্ধে আর্থিক অনিয়মের অভিযোগ রয়েছে তাদেরকে ব্যাংকে সম্পৃক্ত করা হবে না বলেও জানাগেছে। আর যাদের কার্যকলাপে সততা, আন্তরিকতা, মনোযোগিতা ও উৎপাদনশীলতার ঘাটতি নেই তাদেরকে ব্যাংকে নিয়োগের সুপারিশ করবে কমিটি। সুপারিশের ভিত্তিতে প্রকল্পের জনবল ব্যাংকে স্থায়ীকরণ হবে। একটি বাড়ি একটি খামার থেকেই পল্লী সঞ্চয় ব্যাংকটি প্রতিষ্ঠা করা হয়। পল্লী সঞ্চয় ব্যাংক আইনের ৩৯ ধারায় বলা আছে, প্রকল্পটি বিলুপ্তির সময় সব সম্পদ, ক্ষমতা, কর্তৃত্ব, অর্থ, কর্মসূচী এবং দায় পল্লী সঞ্চয় ব্যাংকের হাতে চলে যাবে।
এ প্রসঙ্গে প্রকল্পের পরিচালক আকবর হোসেন আমার সংবাদ কে জানান, প্রকল্পের জনবল ব্যাংক সম্পৃক্ত করতে নীতিমালা হয়েছে। নীতিমালা অনুযায়ী একটা কমিটি করা হয়েছে। কমিটির আলোচনা শেষে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয়া হবে। অর্থাৎ প্রকল্পটি আস্তে আস্তে ব্যাংকে একীভূত হবে। সভার বিষয়ে পল্লী সঞ্চয় ব্যাংকের উপ-ব্যবস্থাপনা পরিচালক খাইরুল কবির জানান, পল্লী সঞ্চয় ব্যাংকের নিজস্ব জনবল নেই। ২০২০ সালের আগেই প্রকল্পের জনবল ব্যাংকে সম্পৃক্ত করে পূর্ণাঙ্গ ব্যাংকিং কার্যক্রম শুরু করা হবে। বর্তমানে ব্যাংকটির মাত্র ৮ শতাংশ ঋণ রয়েছে। তিনি বলেন, পল্লী সঞ্চয় ব্যাংক পুরোপুরি সরকারি ব্যাংক। এটির পূর্ণাঙ্গ কার্যক্রম চালাতে মন্ত্রণালয়কে চিঠি দেয়া হয়েছিল। মন্ত্রণালয় অনুমোদন দিয়েছে, ব্যাংকের প্রথম শ্রেণির অফিসার নিয়োগে বাংলাদেশ ব্যাংকে চিঠি দেয়া হবে। পরে বাংলাদেশ ব্যাংক কমিটির মধ্য দিয়ে পরীক্ষার মাধ্যমে প্রথম শ্রেণির জনবল নিয়োগ দেবে।
উল্লেখ্য, পরিকল্পনা মন্ত্রী চলতি বছরে এক সংবাদ সম্মেলনে বলেন, দেশে যতদিন দারিদ্র্য দূর না হবে, ততদিন এ প্রকল্প চলবে। সমন্বিত গ্রাম উন্নয়নের লক্ষ্যে প্রতিটি বাড়িকে অর্থনৈতিক কার্যাবলির কেন্দ্রবিন্দু হিসাবে গড়ে তোলার প্রয়াসে ১ হাজার ১৯৭ কোটি টাকা ব্যয়ে ‘একটি বাড়ি একটি খামার’ প্রকল্পটি নিয়েছিল আওয়ামী লীগ সরকার। একটি বাড়ি একটি খামার প্রকল্প ২০০৯ থেকে ২০১৪ সালের জুন পর্যন্ত মেয়াদে ব্যয় ধরা হয় ১ হাজার ১২০ কোটি টাকা। পরবর্তীতে আরও ১ হাজার ৪৯২ কোটি টাকা ব্যয় বাড়ানো হলেও মেয়াদ এক বছর কমানো হয়। দ্বিতীয় সংশোধনীতে ২০১৬ সালের জুন পর্যন্ত মেয়াদ বাড়ানো হলে ব্যয় ধরা হয় ৩ হাজার ১৬২ কোটি টাকা। তৃতীয় ধাপে ২০২০ সালের ৩০ জুন প্রকল্পের মেয়াদ পুরোপুরি শেষ করার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে সরকার। ওই সময়ের পর পল্লী সঞ্চয় ব্যাংকের পূর্ণাঙ্গ কার্যক্রম শুরু করা হবে। প্রকল্পের কর্মসূচি অব্যাহত রেখে একে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিতে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় পল্লী সঞ্চয় ব্যাংক আইন ২০১৪ পাস করা হয়। বাংলাদেশ ব্যাংকের লাইসেন্স নেওয়ার পর প্রধানমন্ত্রী গত ২২ জুন ব্যাংকটির ১০০টি শাখা উদ্বোধন করেন।
এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ
সর্বশেষ
সর্বাধিক পঠিত