শিরোনাম

কমিটিতেই আটকে আছে সিদ্ধান্ত

প্রিন্ট সংস্করণ॥ আহমেদ ফেরদাউস খান  |  ১০:১৩, অক্টোবর ১২, ২০১৭

রাজধানীতে যাত্রীবাহী বাসে সিটিং সার্ভিসের নামে অতিরিক্তি ভাড়া আদায় হচ্ছে দীর্ঘদিন ধরে। এ সার্ভিস চালুর শুরু থেকেই যাত্রীদের বিস্তর অভিযোগ। এনিয়ে পানি কম ঘোলা হয়নি। বাস মালিক ও শ্রমিকদের কাছে নতি স্বীকার করে কমিটি পর্যন্তই আটকে আছে এ সার্ভিসের না থাকাবিষয়ক সিদ্ধান্ত। এ বিষয়ে এখনও পর্যন্ত কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি, আবার নতুন কোনো নীতিমালাও তৈরি হয়নি। ফলে আগের মতই বাস মালিক ও শ্রমিকের ইচ্ছা মতই ভাড়া আদায় করছে পরিবহনগুলো।

সিটিং সার্ভিস থাকবে কি না এ নিয়ে গত ২ মে বিআরটিএর পরিচালক (রোড সেফটি) শেখ মোহাম্মাদ মাহবুব-ই রব্বানীকে আহবায়ক করে ৮ সদস্যের তিন মাসমেয়াদি একটি নতুন কমিটি গঠন করে বিআরটিএ। কমিটি করেই দায়িত্ব শেষ করেছে বিআরটিএ। তিন মাসে এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত জানানোর কথা থাকলেও এ মেয়াদ শেষ হয়ে আরও অতিরিক্ত দু মাস পেরিয়ে গেলেও কোনো খোঁজ নেই কমিটির। গত আগস্টের ২ তারিখের মধ্যে কমিটির সিদ্ধান্ত জানানোর কথা থাকলেও এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত কোনো সিদ্ধান্ত জানাতে পারেনি কমিটি। সিটিং সার্ভিস রাখতে সিদ্ধান্ত নিতে বিআরটিএর এ কমিটি গড়িমসি করছে বলে জানা গেছে। এ সুযোগে সিটিং সার্ভিস নামে নৈরাজ্য চালাচ্ছে বাস মালিক ও শ্রমিকরা।

অন্যদিকে, অভিযোগের পর মালিক সমিতি এ সার্ভিস বন্ধে উদ্যোগও নেয়। কিন্তু বাস মালিকদের কেউ কেউ এবং শ্রমিক ও চালক মিলে এ সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করে কৃত্রিম বাস সংকট তৈরি করে। এতে চরম ভোগান্তিতে পড়ে যাত্রীরা। এমনকী যাত্রীদের সঙ্গে ভাড়া নিয়ে বাগ-বিতণ্ডার একপর্যায়ে মারধর করতেও পিছপা হয়নি বাসশ্রমিকরা। বিষয়টি নিয়ে তোলপাড় শুরু হয়। সরকার ব্যাকফুটে গিয়ে একটি কমিটি গঠন করে এবং ১৫ দিন সির্টিং সার্ভিস চলবে বলে ঘোষণা দেয়। তবে এ সময়ে অতিরিক্ত ভাড়া আদায় যাতে না হয় সে ব্যাপারে একটি নির্দেশনাও ছিল।

কিন্তু ১৫ দিন পর আর নতুন সিদ্ধান্ত হয়নি। ১৫ দিনের সময় ৩ মাস বাড়িয়ে একটি কমিটি গঠন করে বিআরটিএ। বাসে অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের হয়রানি এখনও থামেনি। প্রতিদিনই চলছে বেশি ভাড়া আদায় এবং এ নিয়ে যাত্রীদের সঙ্গে ঝগড়া। অথচ সিটিং সার্ভিসের সরকারি অনুমোদন ছিল না কখনও। অনুমোদনহীন এসব বাসে সরকার-নির্ধারিত ভাড়ার নিয়ম মানা হচ্ছে না বলে অভিযোগ ছিল। অভিযোগের ভিত্তিতে এ বছরের ১৬ এপ্রিল অতিরিক্ত ভাড়ার অবৈধ সিটিং সার্ভিস বন্ধে অভিযানে নামে বিআরটিএ। পরিবহন মালিকদের সিদ্ধান্তে এ অভিযান পরিচালিত হলেও মালিকরা বাসের কৃত্রিম সংকট তৈরি করলে রাজধানীতে বাস সংকটে ব্যাপক দুর্ভোগ সৃষ্টি হয়। বিশেষ করে নারী যাত্রীরা সবচেয়ে বেশি ভোগান্তির শিকার হন।

পরে ব্যাপক সমালোচনার মুখে ১৯ এপ্রিল ১৫ দিনের জন্য বিআরটিএ সিটিং সার্ভিসবিরোধী অভিযান বন্ধের ঘোষণা দেয়। রাজধানীতে অনুমতি সাপেক্ষে সিটিং সার্ভিস থাকলেও লোকাল বাসকে সিটিং সার্ভিসে রূপান্তিত করা যাবে না। এবং নির্ধারিত হারের অতিরিক্ত ভাড়া আদায় করা যাবে না এমন সিদ্ধান্তের ভিত্তিতে, পরবর্তী সিদ্ধান্ত না আসা পর্যন্ত থাকবে সিটিং সার্ভিস।কিন্তু এমন সিদ্ধান্ত মানছেন না বাস চালক ও হেলপাররা। মিনিবাসে সর্বনিম্ন ৫ টাকা ও বাসে ৭ টাকা আদায়ের নিয়ম থাকলেও তা মানছে না এ নিয়ম।

সরেজমিন দেখা গেছে, বাসগুলোতে সরকার নির্ধারিত ভাড়ার চার্ট এখনও নেই। বাস ও মিনিবাসে সর্বনিম্ন ভাড়া আদায় করছে ১০ টাকা। কিলোমিটার ব্যবধানে যেখানে ভাড়া ১ টাকা ৭০ পয়সা, সেখানে যাত্রীদের থেকে আদায় করা হচ্ছে ১০ টাকা।

রফিক আহমেদ একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে চাকরি করেন। থাকেন বাড্ডায়, অফিস মতিঝিলে। তিনিও এই ভোগান্তির শিকার। তিনি আমার সংবাদকে বলেন, প্রতিদিনই অফিসে যাতায়াতের সময় অনেক কষ্ট করে বাসে উঠতে হয়। নির্ধারিত ভাড়া থেকে ডাবল ভাড়া নিচ্ছে, তারপরও সঠিক সময়ে বাস ওঠা সম্ভব হচ্ছে না। আগে যেসব বাস হাত তুললে দাঁড়াত, এখন সিটিংয়ের কারণে সেগুলোও আর দাঁড়ায় না। বিকালে বাসায় ফেরার সময়ও ব্যাপক ভোগান্তিতে পড়তে হয়।

এ বিষয়ে বাংলাদেশ রোড ট্রান্সপোর্ট অথরিটি (বিআরটিএ)-এর পরিচালক (রোড সেফটি) ও কমিটির আহবায়ক শেখ মোহাম্মাদ মাহবুব-ই রব্বানী আমার সংবাদকে বলেন, শিগগিরই এ বিষয়ের সিদ্ধান্ত জানানো হবে। আলোচনা চলছে, আলোচনা শেষ করে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানানো হবে। সময় পেরিয়ে গেলেও সিদ্ধান্ত জানাতে পারেনি কেন?

এ বিষয়ে তিনি বলেন, আলোচনা করে সিদ্ধান্ত জানাতে একটু সময় প্রয়োজন। বেধে দেয়া সময়ে আর সব সমস্যা সমাধান করা সম্ভব নয়। সমস্যা অনেক বড়। আশা করছি খুব অল্প সময়েই আমরা সিদ্ধান্ত জানাতে পারব।

যাত্রীদের কাছ থেকে এখনও বেশি ভাড়া আদায় করা হচ্ছে এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, নির্ধারিত ভাড়ার বেশি আদায় যেন করতে না পারে সে জন্য প্রতিদিন মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করা হচ্ছে।

তিনি আরও বলেন, যদি কোনো যাত্রী অভিযোগ করে তাহলে তার ভিত্তিতে আমরা ব্যবস্থা নিতে পারি। তবে কেউ আমাদের কাছে এ বিষয়ে এখনও কোনো অভিযোগ করছে না বলে আমরা তেমন ব্যবস্থা নিতে পারছি না। অতিরিক্ত ভাড়া আদায় করলে যাত্রীরা পুলিশের কাছে অথবা বিআরটিএর কাছে অভিযোগ করতে পারে। কারো বিরুদ্ধে আইনের ব্যতয় ঘটলে ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে তিনি জানান।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ
সর্বশেষ
সর্বাধিক পঠিত