শিরোনাম
এস ও এস ইলেকট্রিক ল্যাম্প কোম্পানির প্রতারণা

মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংকে গ্রাহক হয়রানি

আব্দুল লতিফ রানা॥প্রিন্ট সংস্করণ  |  ১৬:৩৬, আগস্ট ১০, ২০১৭

মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংক লি. রাজধানীর শনির আখড়া দনিয়া শাখায় চেক উত্তোলন করতে গিয়ে ব্যাংকের কর্মকর্তাদের কর্তৃক চরম হয়রানির শিকার হয়েছে বলে গুরুতর অভিযোগ পাওয়া গেছে। অভিযোগে জানা গেছে, গতকাল বুধবার সকাল ১১ টায় মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংক লি.-এর মহিউদ্দীন আহমেদ নামের এক গ্রাহক ব্যাংকটির রাজধানীর শনির আখড়া দনিয়া শাখায় যান। তিনি ব্যাংকের ওই শাখা থেকে ৩০ হাজার টাকার একটি চেক উত্তোলন করতে যান। এস ও এস ইলেকট্রিক ল্যাম্প কোম্পানির নিকট ব্যক্তিগত পাওনা টাকার চেক নিয়ে ব্যাংক থেকে উক্ত টাকা উত্তোলন করেন। তিনি টাকা নিয়ে চলে আসার ঘণ্টাখানেক পর ব্যাংক থেকে জনৈক কর্মকর্তা ফোন করে জানান, একটু ত্রুটি হয়েছে। এজন্য অনুরোধ করে ওই ত্রুটি ঠিক করে দেওয়ার জন্য বলা হয়।

ওই কর্মকর্তার অনুরোধে আধা ঘণ্টা পর তিনি ওই ব্যাংকে যান। এসময় ব্যাংক কর্তৃপক্ষ তার উত্তোলনকৃত টাকা ফেরত দিতে বলেন। এরপর ওই চেকের একাউন্টধারী ব্যক্তির সঙ্গে ব্যাংক কর্তৃপক্ষ বা শাখার ম্যানেজারের কথা বলিয়ে দেন। কিন্তু তারা নাছোড়বান্দা, তাদের টাকা ফেরত দিতেই হবে। আর উক্ত টাকা ফেরত না দিলে তাকে ছাড়া হবে না বলে জানায়। কিন্তু এর আগেই উক্ত গ্রাহক টাকাগুলো অন্য এক জায়গায় জমা দেওয়ায় তিনি তাদের টাকা ফেরত দিতে পারেনি। এ বিষয়টিও তিনি ব্যাংক কর্তৃপক্ষকে জানান। কিন্তু তারপরও তার সঙ্গে খারাপ ব্যবহার ও ভয়-ভীতি প্রদর্শন করেন।

এরপর তার বাসা যাত্রাবাড়ি এলাকায় ব্যাংকের লোক পাঠাতে বলেন উক্ত গ্রাহক। একপর্যায়ে মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংক লি.-এর হাসনাবাদ শাখার ম্যানেজারের সঙ্গে ব্যাংক কর্তৃপক্ষের কথা বলানো হয়। পরে ব্যাংকের দুইজন প্রহরীকে তার সঙ্গে প্রেরণ করা হয়। এরপর বুধবার বিকাল ৩.১৭ মিনিটে ৩০ হাজার টাকা ফেরত প্রদান করার পর তাকে ব্যাংক কর্তৃপক্ষ ছেড়ে দেন। এ ঘটনার পর মহিউদ্দিন বাংলাদেশ ব্যাংক কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করলে তাকে তারা জানান, বেয়ারারের সাথে ব্যাংক জবরদস্তি করতে পারে না। যদি ওই একাউন্টধারী তাদের নিশ্চিত করেন যে, এই চেক তিনি প্রদান করেছেন। ভুক্তভোগী আরও জানান, তিনি বাংলাদেশ মুঠোফোন গ্রাহক অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি হিসেবে ব্যক্তিগত পরিচয় দেন। এতে ব্যাংকের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা আরও হাসাহাসি করেছেন। এ ব্যাপারে মহিউদ্দীন আহমেদ আজ বাংলাদেশ ব্যাংক কর্তৃপক্ষের কাছে লিখিত প্রতিকার চাইবেন বলে জানান তিনি।

তিনি আরও বলেন, আমাদের মতো ব্যক্তিদের সঙ্গে যদি ব্যাংক কর্তৃপক্ষ এরকম ব্যবহার করেন। তাহলে সাধারণ মানুষের কি অবস্থ হবে? বিকাল ৩.১৭ মিনিটে ৩০ হাজার টাকা ফেরত প্রদান করলে তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়। এ ব্যাপারে ভুক্তভোগী গ্রাহক সরকারের কাছে ন্যায়বিচার দাবি করেছেন। এ ব্যাপারে ট্রাস্ট ব্যাংক হাসনাবাদ শাখার সিনিয়র অফিসার মি. জামান জানান, বিষয়টি আমি শুনেছি। তবে ব্যাংকের যে শাখায় ঘটনাটি ঘটেছে সেখানে কথা বলেন, এরপর ট্রাস্ট ব্যাংকের শনির আখড়া শাখার হিসাব রক্ষক আশরাফ জানান, মহিউদ্দিন সাহেবের চেকটি তিনিই ক্যাশ করে দিয়েছিলেন। কিন্তু একাউন্ট হোল্ডার ইচ্ছা করে তার স্বাক্ষর ভুল দিয়েছিলেন। ফলে মহিউদ্দিন সাহেবকে ত্রুটির কথা বলে ডাকা হলে তিনি ব্যাংকে আসেন।

এরপর টাকাগুলো ফেরত চাইলে তিনি টাকা ফেরত দিয়েছেন। তিনি আরও জানান, চেকদাতা ব্যক্তি তার ভুল স্বাক্ষরিত চেকটি যাতে ক্যাশ করতে না পারেন, সেজন্যই ভুল করে স্বাক্ষর করেছেন। পরে ওই ব্যক্তি ফোনে আমাকে জানানোর পর তার কাছ থেকে টাকাগুলো ফেরত নেওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি। পরে ট্রাস্ট ব্যাংকের চেকদাতা মো. সাহিদুল আমার সংবাদকে জানান, আমার কয়েকটি একাউন্ট, তাই কোন স্বাক্ষর দিয়েছি সেটা আমার খেয়াল ছিল না। তাই আমি ব্যাংকের একাউন্সে একথাই বলেছি। মহিউদ্দিন ভাইয়ের সঙ্গে দীর্ঘ দিনের ব্যবসা আমার। আমি তার সঙ্গে প্রতারণা করবো কেন? শুধু তাই তিনি আমার কাছে ১ হাজার টাকা বিকাশে পাঠাতে বলেছেন, তার ফোন করে আমার লোক দিয়ে ওই টাকা পাঠিয়েছি। আর বলেছি, আমি ঢাকার বাইরে শুক্রবারে এসে বিষয়টি সমাধা করার কথা বলেছি।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ
সর্বশেষ
সর্বাধিক পঠিত