শিরোনাম

খালেদার সংবর্ধনায় বড় শোডাউন!

আফছার আহমদ রূপক॥প্রিন্ট সংস্করণ  |  ১১:২৯, আগস্ট ০৭, ২০১৭

বিএনপির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়াকে সংবর্ধনার জন্য তলে তলে ব্যাপক প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। খালেদা জিয়া ঈদের পর লন্ডন থেকে দেশে ফিরলে শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছার পর এই সংবর্ধনা দেওয়া হবে। তবে বিমানবন্দর থেকে খালেদাকে অভ্যর্থনা জানানোর সময় নজিরবিহীন শোডাউন করা হবে রাজধানীতে। এজন্য রাজধানীর প্রতিটি ওয়ার্ড থেকে নেতাকর্মীরা জড়ো হবে ঢাকার বিভিন্ন পয়েন্টে। খালেদা জিয়ার গুলশানের বাসা থেকে শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর পর্যন্ত রাস্তার দুইপাড়ে সারিবদ্ধ হয়ে ফুল দিয়ে খালেদা জিয়াকে বরণ করে নেওয়া হবে। দেশে ফিরতে খালেদা জিয়ার আরও একমাসের বেশি সময় বাকি থাকলেও অনেকটা নীরবে আগেভাগেই এমন প্রস্তুতি নিচ্ছে দলটি। এ লক্ষ্যে ওয়ার্ডে ওয়ার্ডে প্রস্তুতি সভাও করা হতে পারে। খালেদার সংবর্ধনার দিন বিএনপি ও অঙ্গ সংগঠনগুলো ঢাকাকে মিছিলের নগরীতে পরিণত করতে চায়। পাশাপাশি বিমানবন্দরেও দলীয় নেতাকর্মীর ব্যাপক সমাগম ঘটাবে। বিএনপির একটি নির্ভরযোগ্য সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

সূত্রটি বলছে খালেদা জিয়া আর দেশে ফিরবেন না-আওয়ামী লীগ নেতাদের এমন মন্তব্যের কড়া জবাব দিতে এবং দলীয় নেতাকর্মীকে উজ্জীবিত করতেই মূলত ব্যাপক শোডাউনের আয়োজন করা হচ্ছে। এছাড়াও এ আয়োজনে নেতাকর্মীদের বিপুল উপস্থিতি দেখে জনগণও বিএনপির সামর্থ্য সম্পর্কে অবাক হবে বলে মনে করছেন বিএনপি নেতারা। তবে এতবড় শোডাউনের আয়োজন করা হবে অনেকটা নীরবেই। শোডাউনের আগে বেশি হৈচৈ করতে চায় না দলটি। নেতারা বলছেন এতে হিতে বিপরীত হতে পারে। অর্থাৎ যানজট ও জনদুর্ভোগের অজুহাত দেখিয়ে সরকারের পক্ষ থেকে শোডাউনে বাগড়া বসানো হতে পারে বলে তারা শঙ্কা করছেন। বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান অধ্যাপক ডা. এজেএডএম জাহিদ হোসেন আমার সংবাদকে বলেন, খালেদা জিয়া দেশে ফিরবেন শিগগিরই। তবে নির্দিষ্ট তারিখ এখনো ঠিক হয়নি। খালেদা জিয়া আর দেশে ফিরবেন না-আওয়ামী লীগ নেতাদের এই বক্তব্যের জবাবে তিনি বলেন বিএনপির চেয়ারপারসনের এমন ইতিহাস নেই। কখনো এরকম হবে না। তিনি দেশে ফিরবেন এবং তা শিগগিরই। তিনি শাহজালাল বিমানবন্দরে খালেদা জিয়াকে সংবর্ধনা দেওয়ার কথাও জানান।

এদিকে খালেদা জিয়া চিকিৎসার জন্য লন্ডন যাওয়ার পর থেকে ভারপ্রাপ্ত চেয়ারপারসন ছাড়াই চলছে বিএনপি। আর যতদিন তিনি লন্ডনে থাকবেন ততদিন কোনো ভারপ্রাপ্তের কাছে দলের ভার অর্পণ করার সম্ভাবনাও নেই। খালেদা জিয়া লন্ডনে থাকলেও দল পরিচালনা করা হচ্ছে তার নির্দেশে ও নেতাদের সম্মিলিত চেষ্টায়। প্রয়োজনীয় সবকিছু সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে লন্ডনে অবস্থানরত খালেদার মতামত নেওয়া হচ্ছে। অনেকটা ভারপ্রাপ্ত চেয়ারপারসন ছাড়াই দলকে চাঙা রাখছে বিএনপি। বিশেষ করে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর সভা-সেমিনারে ও মানববন্ধনে আগের চেয়ে আরো বেশি জ্বালাময়ী বক্তব্য দিচ্ছেন সরকার ও আওয়ামী লীগ নেতাদের বিরুদ্ধে। ঢাকায় একটি অনুষ্ঠানে তিনি আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরের একটি বক্তব্যের কড়া সমালোচনা করেছেন। তিনি বলেছেন অতি আহম্মকও ওবায়দুল কাদেরর কথা বিশ্বাস করবে না। ফখরুল ওই অনুষ্ঠানে আরো একটি কড়া কথা বলেছেন। ওবায়দুল কাদের কয়েকদিন আগে একটি অনুষ্ঠানে বলেছিলেন মামলার ভয়ে লন্ডন পালিয়ে গেছেন খালেদা, আর দেশে ফিরবেন না।

এদিকে খালেদার অবর্তমানে বিএনপির নেতাকর্মীদের উজ্জীবিত করতে এবং দেশবাসীর সামনে দলীয় শক্তি জাহির করতে শুধু ফখরুল নন, আরও কেন্দ্রীয় নেতারাও নির্ভীকতার পরিচয় দিচ্ছেন। সরকারের কড়া সমালোচনা করছেন। যেমন জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে এক মানববন্ধনে বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান শামসুজ্জামান দুদু বলেন, খালেদা জিয়া লন্ডন থেকে ফিরলে এ সরকারের অগণতান্ত্রিক কাজের জবাব দেওয়া হবে। একইদিন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলামও ত্রাণ বিতরণ কালে সরকারের তীব্র সমালোচনা করেছেন। খালেদা জিয়া লন্ডন থাকাবস্থায় বিভিন্ন ইস্যুকে প্রাধান্য দিয়ে সরকারের বিরুদ্ধে বক্তব্য-বিবৃতি দিয়ে বিএনপির রাজনীতি সরগরম করে যাবেন নেতারা। এরমধ্যে সহায়ক সরকার, নির্বাচন কমিশনের বিরোধিতা এবং ঢাকার জলাবদ্ধতা, চিকুনগুনিয়া প্রাধান্য পাবে। পাশাপাশি দল গোছানোর কাজও শেষ করবে। এদিকে লন্ডনে ছেলে বিএনপির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমান ও তার স্ত্রী ডা. জোবাইদা রহমানকে সঙ্গে নিয়ে একটি শপিংমলে কেনাকাটা করতে দেখা গেছে খালেদা জিয়াকে। লন্ডন পৌঁছার ২০ দিন পর তাকে জনসম্মুখে দেখা গেছে। এই কয়দিন তিনি তার ছেলের পরামর্শে বাসায় পরিবারের সঙ্গে একান্তে সময় কাটিয়েছেন এবং বিশ্রাম নিয়েছেন।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ
সর্বশেষ
সর্বাধিক পঠিত