শিরোনাম
অগ্রণী ব্যাংকের অডিট

মুন গ্রুপের ঋণের অনিয়মে জড়িত ২৪ কর্মকর্তা

প্রিন্ট সংস্করণ॥আসিফ শওকত কল্লোল  |  ০৫:৪৯, আগস্ট ১৫, ২০১৯

অগ্রণী ব্যাংকের ফাংশনাল অডিট রিপোর্টে মুন গ্রুপের ৩০০ কোটি টাকার ঋণের অনিয়মের মধ্যে ব্যাংকের সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালকসহ ২৪ জন কর্মকর্তার সংশ্লিষ্টতা পাওয়া গেছে। উক্ত কর্মকর্তাদের মধ্যে পাঁচজনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে।

ব্যাংকের ফাংশনাল অডিটে বিষয়গুলো উঠে আসে। আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগে আদেশের প্রেক্ষিতে গত ৮ আগস্ট অগ্রণী ব্যাংকের মহাব্যবস্থাপক ও হেড অব আইসিসি মো. মনোয়ার হোসেন এফসিএ চার্টার্ড অ্যাকাউন্টেন্টস ফার্ম এস এফ আহমেদ এন্ড কোং এবং এমএবিএস এন্ড জে পার্টনার্স দিয়ে ফাংশনাল অডিটের কপি আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের উপ-সচিব মৃত্যুঞ্জয় সাহার কাছে পাঠানো হয়েছে।

দুটি রিপোর্টের সংযুক্ত চিঠিতে বলা হয়েছে, সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক সৈয়দ আবদুল হামিদ ও সাবেক উপ-ব্যবস্থাপনা পরিচালক মিজানুর রহমান খানের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নিতে পারবে না।

কারণ হিসেবে অগ্রণী ব্যাংক কর্তৃপক্ষ বলছে, অগ্রণী ব্যাংকের মুন গ্রুপের অনিয়মের দায়ে ব্যাংকের চুক্তিভিত্তিক নিয়োগপ্রাপ্ত তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক এবং সিইও হামিদকে বাংলাদেশ ব্যাংক অপসারণ করেছিল।

এছাড়া দুর্নীতি দমন কমিশনও (দুদক) তার বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলা দায়ের করে যা চলমান রয়েছে বিধায় ব্যাংকের পক্ষে তার বিরুদ্ধে প্রশাসনিক বা বিভাগীয় শৃঙ্খলামূলক ব্যবস্থা গ্রহণের কোনো সুযোগ নেই।

অন্যদিকে, মুন গ্রুপের ঋণ অনিয়মের দায়ে ব্যাংকের তৎকালীন উপ-ব্যবস্থাপনা পরিচালক মিজানুর রহমান খানকে দুদক গ্রেপ্তার করে। পরবর্তীতে তাকে অর্থ মন্ত্রণালয়ের অধীনে আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের বিশেষ ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওএসডি) হিসেবে সংযুক্ত করা হয়।

বিশেষ ওএসডি হিসেবে থাকা অবস্থায় মার্চ মাসের ১৪ তারিখে পিআরএলে চলে যান। অবসরে চলে যাওয়ার কারণে অগ্রণী ব্যাংকের পক্ষে তার বিরুদ্ধে প্রশাসনিক অথবা বিভাগীয় শৃঙ্খলামূলক ব্যবস্থা গ্রহণের কোনো সুযোগ নেই। তার বিরুদ্ধে দুদক যে ফৌজদারি মামলা দায়ের করে যা চলমান রয়েছে বিধায় প্রশাসনিক বা বিভাগীয় শৃঙ্খলামূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়নি।

এছাড়া অগ্রণী ব্যাংকের ১৯ জন কর্মকর্তা অভিযুক্ত কর্মকর্তাদের দুর্নীতির ব্যাখ্যা তলবের জবাব ও সার্বিক বিষয়াদি পর্যালোচনা করে আপত্তি সংশ্লিষ্ট বিষয়ে ভবিষ্যতে জটিলতা সৃষ্টি হলে দায়-দায়িত্ব নিজেদের ওপর বর্তাবে মর্মে ৩০০ টাকার নন-জুডিসিয়াল স্ট্যাম্পে অঙ্গীকারনামা সম্পাদন সাপেক্ষে সেই ১৯ জন কর্মকর্তার ২৩ জুলাই তারিখে ব্যাখ্যা তলবের দায় হতে অব্যাহতি প্রদান করা হয়েছে।

সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অর্থ উপদেষ্টা ড. এ বি মির্জা আজিজুল ইসলাম আমার সংবাদকে বলেন, অডিটে ২৪ জনের বিরুদ্ধে অগ্রণী ব্যাংকের মুন গ্রুপের ঋণের অনিয়মের সংশ্লিষ্টতা পেয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা নিতে হবে।

তিনি বলেন, সেই ব্যবস্থা যদি দুদক কোর্ট থেকে নেয়, তাহলে সেটা আইনগতভাবে ভালোই হবে। ব্যাংকের বিভাগীয় বা প্রশাসনিক ব্যবস্থার ওপর সাধারণ মানুষের আস্থা কতটা আছে তা নিয়েও প্রশ্ন রয়ে যায়।

গত ২০১৬ সালের ২৯ জুন কেন্দ্রীয় ব্যাংক এমডি সৈয়দ আবদুল হামিদকে অপসারণের পর সেই ডিএমডি মিজানকে ভারপ্রাপ্ত এমডির দায়িত্ব দেয়া হয়েছিল। বিকালেই তাকে গ্রেপ্তার করে দুর্নীতি দমন কমিশন। ৭৯২ কোটি টাকা ঋণ বিতরণে অনিয়ম পাওয়ায় এমডি হামিদকে অপসারণের নির্দেশনা পাঠায় কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নর ফজলে কবির।

এই অনিয়মের মধ্যে মুন গ্রুপ অব ইন্ডাস্ট্রিজকে দেয়া প্রায় ৩০০ কোটি টাকা ঋণ রয়েছে, যার অনুসন্ধান চালাচ্ছিল দুদক। ওই ঋণ তুলে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে মতিঝিল থানায় একটি মামলা করে দুদক। ওই মামলায়ই মতিঝিল থেকে মিজানকে গ্রেপ্তার করা হয়।

মুন গ্রুপের ঋণ কেলেঙ্কারি নিয়ে ২০১৬ সালের জানুয়ারিতে মিজানের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে অগ্রণী ব্যাংককে চিঠি দিয়েছিল বাংলাদেশ ব্যাংক। তখন তাকে ব্যাংকের নিয়মিত কাজের দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেয়াও হয়েছিল।

সেই দিন বিকালে মতিঝিল থেকে মিজানের সঙ্গে ব্যাংকটির ডিজিএম মো. আখতারুল আলম এবং এজিএম মো. শফিউল্লাহকেও গ্রেপ্তার করা হয়।

দুদক বলেছিল ক্ষমতার অপব্যবহারের মাধ্যমে কল্যাণপুর বাসস্ট্যান্ড সংলগ্ন এলাকার একটি জমিতে ভবন নির্মাণের নামে আয়-ব্যয়ের ভুয়া হিসাব দেখিয়ে ব্যাংক থেকে ১০৮ কোটি টাকা উত্তোলন করে আত্মসাতের অভিযোগে এই তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

মুন গ্রুপ অব ইন্ডাস্ট্রিজের চেয়ারম্যান মিজানুর রহমান ওই জমিটির (মিজান টাওয়ার) মালিকানা দাবি করে ব্যাংক থেকে ঋণ নিলেও তার মালিকানা স্বত্বের বৈধতা নিয়ে আদালতে মামলা চলছে।

দুদক আরও বলেছে, এ রকম অবস্থায় আসামিরা পরস্পর যোগসাজশে নিজেরা লাভবান হয়ে এবং অন্যদের লাভবান করে প্রতারণা, ক্ষমতার অপব্যবহার ও অপরাধজনক বিশ্বাসভঙ্গের মাধ্যমে ওই জমির গ্রাহক মিজানুর রহমানকে ১০৮ কোটি টাকা ঋণ মঞ্জুর করে পর্যায়ক্রমে ৯৪.৮ কোটি টাকা উত্তোলন ও গ্রহণ করে ব্যাংকের তথা রাষ্ট্রের সম্পদের ক্ষতিসাধন ও আত্মসাৎ করেছেন।

উল্লেখ্য, ২০১৬ সালের আগস্টে মুন গ্রুপ অফ ইন্ডাস্টির চেয়ারম্যান মিজানুর রহমানকে অগ্রণী ব্যাংকের ঋণ অনিয়মের জন্য দুদক গ্রেপ্তার করেছিল।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ
সর্বশেষ
সর্বাধিক পঠিত