শিরোনাম

নীরব রাজনীতির মাঠে কড়া নজরদারি আ.লীগের

প্রিন্ট সংস্করণ॥আসাদুজ্জামান আজম  |  ০৭:৪২, আগস্ট ১০, ২০১৯

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পরবর্তী সময় থেকে নীরব সময় পার করছে দেশের রাজনৈতিক মাঠ। সরকারবিরোধী শিবিরগুলো নানা সময়ে আন্দোলনের ঘোষণা দিলেও মাঠে নামতে পারেনি। যার কারণে মাঠের রাজনীতিতে খোশ মেজাজে রয়েছে সরকারি দল আওয়ামী লীগ।

তবে নীরব মাঠকে নিজেদের জন্য স্বস্তির দেখছে না দলটির হাইকমান্ড। স্থিতিশীল মাঠেও বিরোধী শিবিরের প্রতি কড়া নজরদারি রাখছে আওয়ামী লীগ। দলের সহযোগী সংগঠনসহ তৃণমূল পর্যায়ে নেতাকর্মীদের এ বিষয়ে সতর্ক থাকার নির্দেশনা দেয়া হয়েছে।

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর বিএনপিসহ সমমনা দলগুলো নিশ্চুপ থাকলেও ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ রাজনীতির মাঠ চাঙ্গা করে রাখছে। একের পর এক ইস্যুতে গোটা দেশ ক্ষমতাসীনদের দিকে রাখতে চেস্টা করছে দলটি।

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ জয়, প্রশংসনীয় সরকার গঠন, উপজেলা নির্বাচনের কাঙ্ক্ষিত ফসল ঘরে তুলেছে দলটি। এরই মধ্যে দলের জাতীয় সম্মেলন করার ঘোষণা উৎসবে নতুন উত্তাপ এনে দিয়েছে।

আওয়ামী লীগের তৃণমূল রাজনীতি থেকে কেন্দ্র পুরোটাই সরগরম হয়ে উঠছে। তথ্য মতে, মাঠপর্যায়ের নেতাকর্মীরা নানা ইস্যুতে চাঙ্গা থাকলেও কেন্দ্রের নজর সরকারবিরোধী দল জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট, বিএনপিসহ সমমনা দলগুলোর প্রতি।

কয়েকমাস আগেও গণফোরাম সভাপতি ড. কামাল হোসেনের নেতৃত্বাধীন জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট নানা ধরনের তৎপরতা দেখালেও সাম্প্রতিক সময়ে নীরব রয়েছে। জাতীয় ঐক্যফ্রন্টসহ বিএনপির নীরবতাকে ষড়যন্ত্রের অপকৌশল হিসেবে দেখছে আওয়ামী লীগ।

দলটির হাইকমান্ড মনে করছে— বহির্বিশ্বে কূটনৈতিক তৎপরতা এবং রাজপথে আন্দোলনে ব্যর্থ হয়ে কৌশল বদল করেছে। স্থিতিশীল অবস্থার মধ্যে তারা প্রাসাদ ষড়যন্ত্র করছে। সামাজিক নানা ইস্যুকে রাজনৈতিক রূপ দেয়ার অপচেষ্টা করেছে।

নিজেরা ব্যর্থ হয়ে সাম্প্রতিক সময়ে গুজবকে হাতিয়ার হিসেবে নিয়েছে। নানা ইস্যুতে গুজব রটিয়ে সরকারকে বেকায়দায় ফেলার চেষ্টা করছে একটি মহল, যার নেপথ্যে বিএনপি-জামায়াতের হাত রয়েছে বলে দাবি আওয়ামী লীগের নেতাদের।

আওয়ামী লীগ সূত্র আরও জানায়— সাম্প্রতিক সময়ে নির্মাণাধীন পদ্মা সেতুতে মানুষের মাথা লাগবে, এমন গুজবে দেশকে অস্থিতিশীল করার পাঁয়তারা করে একটি মহল। গুজব ছড়িয়ে কয়েকটি স্থানে সাধারণ মানুষকে পিটিয়ে হত্যার ঘটনাও ঘটে। কয়েকটি ঘটনায় বিএনপি নেতাদের যোগসূত্র পেয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।

এরপর চলমান ডেঙ্গু জ্বর ইস্যু নিয়েও সরকারকে বিব্রত করতে অপচেষ্টা চালাচ্ছে একটি মহল। এ ইস্যুতে জনগণকে সরকারের বিরুদ্ধে উস্কে দিতে নানা ধরনের বক্তব্য দিচ্ছেন বিএনপি নেতারা।

এমনকটি দলীয় নেতাদের মনোভাব ভেঙে দিতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে নিয়েও অপপ্রচার চালানো হচ্ছে, যার পেছনেও বিএনপির জড়িত থাকার ইন্ধন পাওয়া গেছে, তা আওয়ামী লীগের একাধিক নেতা নিশ্চিত করেছেন।

এ ছাড়া আগস্ট মাস এলেই আওয়ামী লীগবিরোধী নানা ষড়যন্ত্র মাথাচাড়া দিয়ে উঠে। বিভিন্ন সময়ে কলঙ্কিত আগস্ট মাসেই আওয়ামী লীগ প্রধান শেখ হাসিনাকে একাধিকবার হত্যার চেষ্টা হয়েছে।

গত বছর আগস্ট মাসে নিরাপদ সড়কের দাবিতে কোমলমতি শিক্ষার্থীদের অরাজনৈতিক আন্দোলনে সরকার পতনের গভীর ষড়যন্ত্র হয়েছিল। ওই সময় কোমলমতি শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে সরকারকে মারমুখী অবস্থানে আনতে আন্দোলনকে সহিংসতায় রূপ দেয়ার তৎপরতা দেখা গেছে।

আন্দোলন দীর্ঘায়িত এবং সহিংস করে সরকার পতনের অপচেষ্টা করার অভিযোগ উঠে বিএনপি-জামায়াতের বিরুদ্ধে। আন্দোলনে ছাত্রদল ও শিবিরকর্মীদের উপস্থিতি, প্রভাবশালী বিদেশি এক রাষ্ট্রের কূটনীতিকের ওপর হামলা, বিএনপি নেতা আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর ফোনালাপ ফাঁস, আওয়ামী লীগ অফিসে হামলা, ফেসবুকে মিথ্যা তথ্যের গুজব রটানো এটা স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। সরকারের সহনীয় মনোভাব এবং কড়া নজরদারির কারণে সে ষড়যন্ত্র সফল হয়নি।

আগস্ট মাসের ষড়যন্ত্র নিয়ে নেতাকর্মীদের সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের। তিনি বলেন, আগস্ট মাস এসেছে, আগস্টের বাতাসে ষড়যন্ত্রের গন্ধ। আগস্টের কর্মসূচিতে সকলকে স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশগ্রহণ করতে হবে।

এর আগে ৩ আগস্ট এক কর্মসূচিতে ওবায়দুল কাদের বলেন, দেড় বছরেও খালেদা জিয়ার জন্য দেড় মিনিট যারা আন্দোলন করতে পারেনি, এখন বিএনপি ডেঙ্গু নিয়ে রাজনীতি করছে। ডেঙ্গু নিয়ে জনমনে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করে গুজব ছড়াচ্ছে।

আওয়ামী লীগের প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক এবং তথ্যমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ বলেছেন, আওয়ামী লীগকে রাজনৈতিকভাবে মোকাবিলা করতে ব্যর্থ হয়ে গুজবের আশ্রয় নিয়েছে বিএনপি।

তারা প্রথমে পদ্মা সেতু নিয়ে গুজব ছড়িয়েছে, ছেলেধরা নিয়ে গুজব ছড়িয়েছে, তারপর হারপিক আর ব্লিচিং পাউডার নিয়ে গুজব ছড়িয়েছে। এরপর এখন প্রধানমন্ত্রীকে নিয়ে গুজব ছড়ানোর চেষ্টা করছে। এরা রাজনৈতিকভাবে পরাজিত হয়ে, হিতাহিত জ্ঞান হারিয়ে গুজবের আশ্রয় নিয়েছে।

আওয়ামী লীগ নেতারা জানান, নীরব বিএনপিকে বেশি ভয়ঙ্কও মনে হচ্ছে। রাজপথ রেখে তারা এখন ভিন্নপথ খুঁজছেন, আর সেটা হলো ষড়যন্ত্র। ষড়যন্ত্রেও হাতিয়ার হিসেবে জনগণতে ঢাল বানাতে চায়, যার প্রমাণ মিলেছে সাম্প্রতিক অরাজনৈতিক ইস্যুর নেপথ্য বিশ্লেষণে।

তাই চলতি আগস্ট মাস, ঈদুল আজহাসহ আগামী দিনে নীরবতার ভেতরে বিএনপি যাতে ষড়যন্ত্র করতে না পারে, সে বিষয়ে সতর্কতা অবলম্বন করা হচ্ছে। আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আহমদ হোসেন বলেন, বিএনপি নীরব নয়।

বিএনপি রাজপথে ব্যর্থ হয়ে এখন অরাজনৈতিক ইস্যুতে সরকারকে বেকায়দায় ফেলার অপচেষ্টা করছে। কিন্তু সফল হবে না। তাদের সব ধরনের ষড়যন্ত্র মোকাবিলায় আওয়ামী লীগ প্রস্তুত।

আরেক সাংগঠনিক সম্পাদক বি এম মোজাম্মেল হক বলেন, বিএনপি কৌশল পরিবর্তন করেছে। বিভিন্ন অরাজনৈতিক ইস্যুতে স্বার্থ হাসিলের পাঁয়তারা করছে, এ বিষয়ে নেতাকর্মীদের সতর্ক করা হয়েছে।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ
সর্বশেষ
সর্বাধিক পঠিত