শিরোনাম
আমার সংবাদকে পানিসম্পদ উপমন্ত্রী

আগাম প্রস্তুতিতে নদীভাঙন রোধ সম্ভব হচ্ছে : শামীম

প্রিন্ট সংস্করণ॥রফিকুল ইসলাম  |  ০১:৩১, আগস্ট ০৯, ২০১৯

পানিসম্পদ উপমন্ত্রী একেএম এনামুল হক শামীম বলেছেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশে নদীভাঙন এলাকার সাধারণ মানুষকে রক্ষা করার জন্য সরকারের পক্ষ থেকে আগাম প্রস্তুতি গ্রহণ করা হয়েছিলো। ফলে নদীভাঙন রোধ করা সম্ভব হচ্ছে।

তিনি বলেন, নদীভাঙনে আগাম প্রস্তুতির কারণে স্কুল-কলেজ, হাসপাতাল ও গ্রাম নদীগর্ভে বিলীন হয়নি। নদীভাঙন থেকে দেশের মানুষকে রক্ষা করা সরকারের দায়িত্ব। গত বুধবার সচিবালয়ে আমার সংবাদের সাথে একান্ত আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন।

তিনি বলেন, নদীভাঙন রোধে আমাকে বা আমাদের (মন্ত্রণালয়ের) কোনো পদক্ষেপ নিতে হয়নি। বর্তমান মেয়াদ ছাড়াও গত দুই মেয়াদে সরকারের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন বঙ্গবন্ধুকন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। প্রতিটি মন্ত্রণালয়ের জন্য তিনি গাইড লাইন তৈরি করে দিয়েছেন।

প্রধানমন্ত্রীর গাইড লাইন আমরা ফলো করেছি। আমি এই মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পাওয়ার পর থেকেই বিশেষ করে ফেব্রুয়ারি থেকে আমরা নদীভাঙন কবলিত এলাকা চিহ্নিত করি। এর মধ্যে ৬৫০টি এলাকা চিহ্নিত করা হয়েছিল।

৬৫টি এলাকা সবচেয়ে বেশি ভাঙনকবলিত এলাকা হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছিল। এসব জায়গায় ভাঙন রোধে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করি। নদীভাঙন কবলিত এলাকার পানি উন্নয়ন বোর্ডসহ সংশ্লিষ্ট সবার ছুটি বাতিল করা হয়। আমাদের একটাই পদক্ষেপ ছিল নদীভাঙন থেকে মানুষকে রক্ষা করতে হবে।

আমি ছাড়াও প্রতিমন্ত্রী জাহিদ ফারুক, সচিব কবির বিন আনোয়ার ও পানি উন্নয়ন বোর্ডের মহাপরিচালক মাহফুজুর রহমান, মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাসহ বিভিন্ন এলাকা সরেজমিন পরিদর্শন করে নদীভাঙন রোধে যা যা করণীয় সেসব পদক্ষেপ গ্রহণ করি।

আমরা টিম ওয়ার্ক করে কাজ করছি। আমাদের টিম লিডার জননেত্রী শেখ হাসিনা। কাজেই তার নির্দেশ বাস্তবায়নে আমরা সমন্বয় করে দিনরাত কাজ করে যাচ্ছি। যে কারণে নদীভাঙন কমিয়ে আনতে সক্ষম হয়েছি। আমাদের পূর্বপ্রস্তুতি ছিল বলেই নদীভাঙন রোধ সম্ভব হয়েছে।

শামীম বলেন, আগাম প্রস্তুতি হিসেবে ভাঙনকবলিত এলাকায় কমপক্ষে ১০ হাজার জিও ব্যাগ (কিছু কিছু জায়গার ১৫ হাজার) রাখা হয়েছিল। ভাঙন দেখা দেয়ার সাথে সাথে তা ফেলে ভাঙন রোধ করা সম্ভব হয়েছে। গত কয়েকদিন আগেই চাঁদপুর, মানিকগঞ্জ, টাঙ্গাইলসহ বিভিন্ন এলাকায় ভাঙন দেখা দেয়ার সাথে সাথে জিও ব্যাগ ফেলে ভাঙন রোধ করা সম্ভব হয়েছে।

ফলে বিভিন্ন ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান রক্ষা পেয়েছে। না হলে পানিতে বিলীন হয়ে যেত। শামীম বলেন, আমরা বাঁধ সংস্কার বা নির্মাণ কোনো কাজেই গাফিলতি সহ্য করবো না। এটা সংশ্লিষ্টদের জানিয়ে দেয়া হয়েছে।

পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পাওয়ার পর কতটি নদীভাঙন কবলিত এলাকা পরিদর্শন করছেন জানতে চাইলে শামীম বলেন, এ পর্যন্ত কমপক্ষে ৩৫টি স্থান পরিদর্শন করেছি। এর মধ্যে কোথাও কোথাও একাধিকবার যাওয়া হয়েছে।

এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হচ্ছে, চট্টগ্রামের আনোয়ারা, মীরেরসরাই, সিতাকুণ্ড, নোয়াখালীর হাতিয়া, রাজবাড়ী, মানিকগঞ্জ, সিরাজগঞ্জ, টাঙ্গাইলের সদর, নাগরপুর, দেলদুয়ার, ভুয়াপুর, শরীয়তপুর, মাদারীপুর, মুন্সিগঞ্জ, ফেনী, চাঁদপুর সদর ও মতলব, গাইবান্ধা, সাতক্ষীরা, বগুড়া, সুনামগঞ্জ, সিলেট, মৌলভীবাজার, হাবিগঞ্জ, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, নারায়ণগঞ্জ, খুলনা, মিরপুর বেড়িবাঁধ। এসব জায়গায় পরিদর্শনের পর ভাঙন রোধে আগাম প্রস্তুতি ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করেছি।

আপনি সম্প্রতি কয়েকটি জেলা সফর করেছেন সেখানে প্লাকার্ডে লেখা ছিল- ‘ত্রাণ চাই না, বাঁধ নির্মাণ করুন’ এ প্রসঙ্গে কিছু বলবেন কি? এনামুল হক শামীম বলেন, দেখুন, আগে মানুষ ত্রাণের জন্য দীর্ঘ লাইন দিয়ে বসে থাকতো। মানুষ অভাবী ছিল।

এখন আর অভাবী মানুষ নেই। এটাই প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সফলতা। কারণ দেশের মানুষের উন্নয়ন হয়েছে বলেই আজকে মানুষ ত্রাণ চায় না। তারা বাঁধ নির্মাণের দাবি জানায়। তিনি বলেন, আমরা সিরাজগঞ্জ, গাইবান্ধা, বগুড়ায় গিয়ে এমন চিত্র দেখেছি।

এসব এলাকায় আমি ও ত্রাণ প্রতিমন্ত্রী ডা. এনামুর রহমান সরেজমিন পরিদর্শন করে বন্যায় ক্ষতিগ্রস্তদের মাঝে ত্রাণ বিতরণ করেছি। যেসব জায়গায় বাঁধে ভাঙন দেখা দিয়েছে তাৎক্ষণিক জিও ব্যাগ ফেলার নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

 

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ
সর্বশেষ
সর্বাধিক পঠিত