শিরোনাম

ঈদকে কেন্দ্র করে নগরে যানজটের ভয়াবহতা

প্রিন্ট সংস্করণ॥বেলাল হোসেন  |  ০৬:৩৭, আগস্ট ০৮, ২০১৯


ঈদের দিন যত ঘনিয়ে আসছে, রাজধানীতে যানজটের প্রকোপ ততই দেখা দিচ্ছে। উন্নয়নের খোঁড়াখুঁড়ির কারণে রাস্তার প্রশস্ততা কমে দেখা দিয়েছে ভয়বহতা। অপরদিকে, কুরবানির পশুর ট্রাক চলছে অবাধে। দিনের বেলা সামান্য শিথিলতা দেখালেও ঢাকা সিটির সড়কগুলোতে অহরহ চলছে গরুর ট্রাক।

এতে করে গন্তব্য স্থলে পৌঁছাতে ঘণ্টার পর ঘণ্টা জ্যামে বসে থাকতে হচ্ছে সাধারণ জনগণ। বিশেষ করে ঈদের আগে ঢাকার গুরুত্বপূর্ণ মোড়গুলোর ফুটপাত হকারদের দখলে থাকায় যানজটের ভয়াবহতা কয়েকগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে। গতকাল সরেজমিন বনানী, মহাখালী, ফার্মগেট, শাহবাগ, পল্টন, গুলিস্তান ও মতিঝিলে যানজট দেখা যায়।

অনেকেই অভিযোগ করে বলেন, বিশেষ করে অ্যাপভিত্তিক মোটরসাইকেল ঢাকা সিটিতে যেভাবে দাপিয়ে বেড়াচ্ছে, এতে করে গণপরিবহনের গতি কমে যাচ্ছে। তারা যেভাবে পাল্লা দিয়ে এক অপরের সাথে চাপাচাপি করে চলতে থাকে, তাতে অনেক সময় দুর্ঘটনা ঘটে। এ থেকেও যানজটের সৃষ্টি হচ্ছে বলে জানান সাধারণ যাত্রীরা।

পল্টন এলাকায় যানজটে অতিষ্ঠ হয়ে আনোয়ার হোসেন নামে এক পথচারী দাঁড়িয়ে থেকে ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, যে মোড়েই যাই দাঁড়ানোর জায়গা নেই। মোড়ে মোড়ে পাঠাও, উবারের মোটরসাইকেলের পাশাপাশি ফুটপাতে দোকান থাকায় হাঁটার জায়গা নেই।

আনোয়ার হোসেন আরো বলেন, এত যানবাহনের নিবন্ধন নিয়ন্ত্রণ করা উচিত, পাশাপাশি ড্রাইভিং লাইসেন্স সুষ্ঠু তদারকি করলে সড়কে শৃঙ্খলা ফিরবে।

এ বিষয়ে স্থপতি ও নগর বিশেষজ্ঞ ইকবাল হাবীব আমার সংবাদকে বলেন, যানজটকে দীর্ঘমেয়াদে কমানোর জন্য পদক্ষেপ নেয়ার ব্যাপারে আমরা এখানো উদাসীন, স্থবির। যার ফলে যানজট এখন দিন দিন প্রকট আকার ধারণ করেছে। স্থপতি বলেন, আমরা সমাধানের কথা তো সবসময় বলি।

বিশেষ করে ঢাকা সিটির যে সাইজ তাতে ঢাকা সিটিকে পদচারীবান্ধব ও গণপরিবহনভিত্তিক একটি নগরীতে পরিণত করাই সকল সমাধানের কেন্দ্রবিন্দু। পায়ে হাঁটার অগ্রাধিকার দিয়ে পুরো ঢাকা সিটিকে গুলশান, বনানীর মতো সাজাতে হবে।

ইকবাল হাবীব আরো বলেন, বাস, রেল ও নদীপথকে প্রধান গণপরিবহনের নেটওয়ার্ক হিসেবে চিহ্নিত করে পরস্পরের আন্তঃসম্পর্কের ভিত্তিতে যেটাকে মাল্টিমোডাল বলে তার ওপর ভিত্তি করে গণপরিবহন নেটওর্য়াক গড়ে তুলতে হবে। এটি করার ফলে প্রাইভেটকার, রিকশা, হালকা যানবাহনকে নিয়ন্ত্রণ করতে হবে। এতে করে দীর্ঘমেয়াদি যানজট কমানো সম্ভব বলে মনে করেন স্থপতি ইকবাল হাবীব।

 

 

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ
সর্বশেষ
সর্বাধিক পঠিত