শিরোনাম

কেনাকাটায় বাড়ছে ডিজিটাল লেনদেন

প্রিন্ট সংস্করণ॥সঞ্জয় অধিকারী  |  ০৬:৩৪, আগস্ট ০৮, ২০১৯

বিভিন্ন ক্ষেত্রে কেনাকাটাসহ আর্থিক লেনদেনে ক্রমাগত বেড়েই চলেছে মোবাইল ব্যাংকিং সেবা। ঈদসহ বিভিন্ন উৎসবে মোবাইলে লেনদেনের হার উল্লেখযোগ্য পরিমাণে বাড়ে। এ ক্ষেত্রে মোবাইল লেনদেন সবচেয়ে বেশি হয় বিকাশে।

এছাড়া রকেট, নগদ, আইপে ইত্যাদি সেবাও রয়েছে বর্তমানে বাজারে। মোবাইল ব্যাংকিং বা ডিজিটাল লেনদেনের পরিমাণ বেড়ে যাওয়ায় বিভিন্ন ব্যাংকের শাখায় গ্রাহকদের ভিড় কিছুটা হলেও কমেছে বলে জানান সংশ্লিষ্টরা।

সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের পাশাপাশি সরকারও ডিজিটাল লেনদেনের প্রতি গুরুত্ব দিচ্ছে। এ জন্য মোবাইল ব্যাংকিংয়ে আগে লেনদেনের যে লিমিট ছিলো, গত মে মাসে তা আরও বাড়ানো হয়েছে। মোবাইলে ব্যাংকিং বা আর্থিক সেবার (এমএফএস) লেনদেনে এখন আগের চেয়ে দ্বিগুণ টাকা জমা বা ক্যাশ ইন করা যায়। আর উত্তোলন করা যায় আগের চেয়ে আড়াইগুণ। একইভাবে এক হিসাব থেকে অন্য হিসাবে অর্থ স্থানান্তর সুবিধাও আড়াইগুণ বাড়ানো হয়েছে।

বর্তমানে বিকাশের একজন গ্রাহক তার অ্যাকাউন্টে দিনে পাঁচবারে ৩০ হাজার টাকা ক্যাশ ইন বা জমা করতে পারেন। আর মাসে ২৫ বারে সর্বোচ্চ দুই লাখ টাকা ক্যাশ ইন করা যায়। একই সঙ্গে দিনে সর্বোচ্চ পাঁচবারে ২৫ হাজার টাকা ক্যাশ আউট করা যায়।

মাসে ২০ বারে এক লাখ ৫০ হাজার টাকা উত্তোলন করা যায়। এ ছাড়া, ডাক বিভাগের ডিজিটাল ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিস ‘নগদ’-এর মাধ্যমে দৈনিক ৫০ হাজার টাকা লেনদেন করা যায়। এর মাধ্যমে প্রতি মাসে পাঁচ লাখ টাকা লেনদেনের সুযোগ রয়েছে।

জানা গেছে, বিকাশে শুধু লেনদেন বা কেনাকাটার টাকা পরিশোধই নয়, ঈদ উপলক্ষে ক্যাশব্যাক বা টাকা ফেরত পাওয়ার সুবিধাও পাচ্ছেন গ্রাহকরা। ক্যাশআউট না করে সরাসরি বিকাশ ওয়ালেট থেকেই এখন আগের চেয়ে অনেক বেশি দোকান ও ই-কমার্স সাইটে পণ্যের দাম পরিশোধ করা যাচ্ছে। এতে গ্রাহকের পেমেন্ট করতেও খরচ লাগছে না, ক্যাশআউটের খরচও সাশ্রয় হচ্ছে। পাশাপাশি ক্যাশব্যাকের কারণে পণ্য বেশি বিক্রি হওয়ায় বিক্রেতারাও উপকৃত হচ্ছেন।

বিকাশ লিমিটেডের হেড অব কর্পোরেট কমিউনিকেশনস অ্যান্ড পিআর শামসুদ্দিন হায়দার ডালিম জানান, ঈদুল ফিতর উপলক্ষে প্রায় ছয় লাখ মানুষ বিকাশ পেমেন্ট ব্যবহার করেন। ওই সময় প্রায় ৬৫০টি ফ্যাশন ও লাইফস্টাইল ব্র্যান্ডের চার হাজার ৩০০টির বেশি দোকানে ২০ শতাংশ পর্যন্ত ক্যাশব্যাক সুবিধা দেয় বিকাশ।

তিনি জানান, পণ্য এবং সেবার পেমেন্ট, প্রিয়জনকে টাকা পাঠানো, মোবাইল ফোন রিচার্জ, প্রবাসীদের পাঠানো রেমিট্যান্স, ঈদযাত্রার পরিবহন টিকিটসহ আরও নানা প্রয়োজনে উৎসবের সময়ে বিকাশকে বেছে নিয়েছেন গ্রাহকরা। এবার ঈদে প্রায় সব ধরনের কেনাকাটায় গ্রাহকদের জন্য ২০ শতাংশ পর্যন্ত ক্যাশব্যাক অফার নিয়ে এসেছে বিকাশ।

লাইফস্টাইল অনুষঙ্গ, ই-কমার্স, সুপার স্টোর, ছোট ছোট মার্চেন্ট পয়েন্ট, রেস্টুরেন্ট ক্যাফেতেই শুধু নয়, ঈদযাত্রাকে আরো আনন্দময় করতে এবারই প্রথম বাস, ট্রেন, লঞ্চের টিকিটেও ক্যাশব্যাক দিচ্ছে বিকাশ। ১৮ জুলাই থেকে শুরু হওয়া এই অফারগুলো চলবে ১২ আগস্ট পর্যন্ত, রেস্টুরেন্ট ও ক্যাফের ক্ষেত্রে ১৮ আগস্ট পর্যন্ত। অ্যাপ এবং পেমেন্ট গেটওয়ের মাধ্যমে পেমেন্ট করেই ক্যাশব্যাক অফার নেয়া যাবে।

বিকাশ সূত্রে জানা গেছে, ঈদকে সামনে রেখে ৭০০টির বেশি ব্র্যান্ডের তিন হাজার ৮০০টির বেশি আউটলেটে ২০ শতাংশ পর্যন্ত এই ক্যাশব্যাক সুবিধা মিলছে। পোশাক, অন্যান্য অনুষঙ্গ, ইলেকট্রনিক্স পণ্যের আউটলেট রয়েছে এই তালিকায়। দারাজ, অথবা, রবিশপ, রকমারি, সেবা, বাগডুম, বইবাজার, ইভ্যালি, প্রিয়শপসহ জনপ্রিয় ইকমার্স সাইটগুলো রয়েছে এই ক্যাশব্যাক অফারের তালিকায়।

লাইফস্টাইল ক্যাটাগরিতে একজন ক্রেতা দিনে সর্বোচ্চ ৫০০ এবং ইকর্মাসের ক্ষেত্রে দিনে সর্বোচ্চ ৩০০ টাকা এবং অফার চলাকালীন দুই ক্যাটাগরি মিলিয়ে সর্বোচ্চ এক হাজার টাকা ক্যাশব্যাকের সুবিধা পেতে পারেন।

বড় দোকান ও ব্র্যান্ডের পাশাপাশি সারাদেশে ছয় হাজারের বেশি ছোট ছোট মার্চেন্ট পয়েন্টের জন্য ক্যাশব্যাক অফার দিচ্ছে বিকাশ। ২৭ জুলাই থেকে ১২ আগস্ট পর্যন্ত এসব মার্চেন্ট পয়েন্টে এক হাজার টাকা বিকাশ পেমেন্টে একদিনে মিলবে ৫০ টাকা ক্যাশব্যাক। অফার চলাকালীন একজন ক্রেতা সর্বোচ্চ ২০০ টাকা ক্যাশব্যাক নিতে পারবেন এই ক্যাটাগরিতে।

অভ্যন্তরীণ লেনদেনের পাশাপাশি এখন বিদেশ থেকে রেমিটেন্সও আসছে মোবাইল সার্ভিসের মাধ্যমে। ঝামেলাবিহীন ও কম সময়ে ব্যাংকিং চ্যানেলের মাধ্যমে বিকাশে রেমিট্যান্স পাঠানো সহজ হওয়ায় প্রবাসীরা এখন টাকা পাঠানোর জন্য বিকাশের মতো মোবাইল ফিনান্সিয়াল সার্ভিসগুলো ব্যবহার করছে।

বিকাশের হেড অব কর্পোরেট কমিউনিকেশন্স শামসুদ্দিন হায়দার ডালিম বলেন, বিকাশে পাঠানো রেমিট্যান্স গ্রাহক সহজেই তার সুবিধাজনক সময়ে নিকটবর্তী অ্যাজেন্ট পয়েন্ট থেকে ক্যাশআউট করতে পারে। সহজ, দ্রুত, নিরাপদ ও বৈধ ব্যাংকিং চ্যানেলের মাধ্যমে এই লেনদেন অবৈধ হুন্ডিকে নিরুৎসাহিত করছে এবং দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রির্জাভকে দিনদিন আরো শক্তিশালী করছে।

এ বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র সিরাজুল ইসলাম বলেন, এখন মোবাইল ব্যাংকিংয়ের লেনদেন অনেক বেড়েছে। আর নিরাপত্তার বিষয়টিও আগের চেয়ে এখন অনেক বেশি জোরদার করা হয়েছে।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ
সর্বশেষ
সর্বাধিক পঠিত