শিরোনাম

বন্যার্তদের পাশে নেই ১৪ দল

প্রিন্ট সংস্করণ॥রফিকুল ইসলাম  |  ০১:১৪, জুলাই ১৯, ২০১৯

সারা দেশে বন্যাকবলিত মানুষের মাঝে খাবার, ওষুধ ও ত্রাণসহ বিভিন্ন সহযোগিতা দিতে মাঠে নেমেছে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা।

এজন্য দলটির কেন্দ্রীয় নেতারা বর্তমানে বন্যাকবলিত বিভিন্ন জেলায় অবস্থান করছেন।

এদিকে আওয়ামী লীগ বন্যার্তদের পাশে দাঁড়ালেও এখনো কোনো উদ্যোগ গ্রহণ করেনি আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন ১৪ দলীয় জোটের শরিক দলগুলোর নেতারা। মূলত জোটের নেতাদের মধ্যে রাজনীতি নিয়ে আগ্রহ কম দেখা যাচ্ছে। না পাওয়ার মনোকষ্টে জোটের রাজনীতি এড়িয়ে চলছে।

তথ্য মতে, সারা দেশে বন্যার্তদের পাশে থাকতে দলীয় নেতাকর্মীদের দিকনির্দেশনা দিয়েছেন আওয়ামী লীগের সভানেত্রী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

তিনি বন্যাকবলিত সব মানুষের জানমাল রক্ষায় সার্বিক সহযোগিতা এবং ত্রাণ বিতরণ ও পুনর্বাসন কার্যক্রম পরিচালনার জন্য কেন্দ্রীয় নেতাদের পাশাপাশি সব সহযোগী সংগঠনের নেতাদের নির্দেশ দেন। দলীয় সভানেত্রীর নির্দেশনা পেয়ে বন্যার্তদের মাঝে কাজ শুরু করেছেন তারা।

ইতোমধ্যে বন্যা পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে সাথে সাথে দেশের বিভিন্ন এলাকায় সফর শুরু করেছেন। দলীয় সূত্রে জানা যায়, গত শনিবার দলীয় সভানেত্রীর ধানমন্ডির রাজনৈতিক কার্যালয়ে আওয়ামী লীগের ত্রাণ ও সমাজকল্যাণ উপ-কমিটির এক সভা অনুষ্ঠিত হয়।

উপ-কমিটির চেয়ারম্যান ফখরুল ইসলাম মুন্সি সভায় সভাপতিত্ব করেন। ওই সভায় প্রফেসর ড. কামরুজ্জামানের নেতৃত্বে সাত সদস্যবিশিষ্ট একটি মনিটরিং সেল গঠন করা হয়।

সেই সেলের মাধ্যমে সারা দেশের বন্যা পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে এবং সমস্যা চিহ্নিত করে নেতাকর্মীদের প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেয়া হচ্ছে।

বৈঠক সূত্রে আরও জানা যায়, বন্যাকবলিত মানুষের খবর নেয়া, সহায়তা দেয়া এবং সহায়তার জন্য ফান্ড গঠনের বিষয়ে সিদ্ধান্ত হয়। সরকারিভাবে বন্যায় ক্ষতিগ্রস্তদের সহায়তা দেয়া শুরু হয়েছে।

এর পাশাপাশি দলীয়পর্যায়ে সহায়তার জন্য প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নির্দেশ দেন। এই কার্যক্রম শুরু করে ত্রাণ ও সমাজকল্যাণ উপ-কমিটি। সেই নির্দেশ মেনে প্রতিবারের মতো এবারো আত্মমানবতার সেবায় এগিয়ে এসেছে ত্রাণ ও সমাজকল্যাণ উপ-কমিটি।

১৪ দল সূত্র মতে, একাদশ সংসদ নির্বাচনে অভাবনীয় বিজয়ের পর আওয়ামী লীগ একলা চলো নীতি অনুসরণ করছে। শরিক দলগুলোর প্রতি আগের মতো দলটির আর আগ্রহ নেই। জোটের শরিকদের আগের মতো গুরুত্ব দিচ্ছে না দলটি। যার কারণে জোটের নেতারা অনেকটাই নিষ্ক্রিয়।

এমতাবস্থায় গত ১৩ জুলাই এক বৈঠক শেষে ১৪ দলের মুখপত্র মোহাম্মদ নাসিম সামাজিক অস্থিরতা নিয়ে জোটের পক্ষ থেকে এক কর্মসূচি ঘোষণা করেন। ওই কর্মসূচি পরে বাতিল করেন ১৪ দলীয় জোটের নেতারা।

যদিও জোটের শীর্ষ নেতাদের পক্ষ থেকে দাবি করা হচ্ছে— দেশের বন্যার কথা বিবেচনা করেই এই কর্মসূচি বাতিল করা হয়েছে। মূলত আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন ১৪ দলীয় শরিক দলগুলোর চাওয়া-পাওয়ার আক্ষেপ থেকেই ক্ষমতাসীন দলটির সাথে দূরত্ব বাড়ছে।

এই কারণে জোটের কোনো প্রোগ্রামে ততটা আগ্রহ নেই শরিক দলের নেতাদের। এ কারণেই দুদিনের কর্মসূচি বাতিল করেন তারা। এবং বন্যার্তদের পাশে দাঁড়াতে এখনো কোনো উদ্যোগ গ্রহণ করেননি আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন ১৪ দলীয় জোটের নেতারা।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে আমার সংবাদকে ১৪ দলের এক নেতা বলেন, ১৪ দলের সাথে জোট গঠন করার আগে মানুষের প্রতিটি সমস্যায় পাশে দাঁড়িয়েছি।

কিন্তু জোটভুক্ত হওয়ার পর থেকে আমরা সেভাবে কাজগুলো করতে পারছি না। তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ জোটশরিক হলেও সব কাজ তারা নিজেদের ইচ্ছেমতো করছে। এই সুযোগ আমাদের নেই।

বাসদের আহ্বায়ক রেজাউর রশীদ খান আমার সংবাদকে বলেন, দেশের বন্যা পরিস্থিতি ক্রমেই ভয়াবহ রূপ ধারণ করছে। অনেক এলাকায় মানুষের খাবারের অভাব দেখা দিয়েছি। এসব মানুষের পাশে দাঁড়ানো আমাদের দায়িত্ব।

কিন্তু এখনো পর্যন্ত আমাদের জোট থেকে কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়নি। এ বিষয়ে জোটের নেতাদের সাথে আলোচনাও হয়নি।

তিনি আরও বলেন, বন্যার্তদের মাঝে দাঁড়াতে এখনই আমাদের কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে। সাধারণ মানুষের পাশে দাঁড়াতে হবে।

১৪ দল বন্যার্তদের পাশে দাঁড়াবে কি না জানতে চাইলে ১৪ দলের মুখপত্র ও সাবেক মন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম আমার সংবাদকে বলেন, আওয়ামী লীগ সভানেত্রী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশনা পেয়ে নেতাকর্মীরা বন্যার্তদের পাশে দাঁড়িয়েছে। তারা কাজ করছে। এখানে ১৪ দলের দাঁড়ানোর কিছু নেই।

 

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ
সর্বশেষ
সর্বাধিক পঠিত