শিরোনাম
প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশ আমলে নিচ্ছে সব মন্ত্রণালয়

প্রকল্পের গতি বাড়াতে সরব প্রশাসন

প্রিন্ট সংস্করণ॥বেলাল হোসেন  |  ০০:৪৭, জুলাই ১১, ২০১৯

উন্নয়নের মহাসড়কে বাংলাদেশ। এরই ধারাবাহিকতায় সারা দেশে চলমান উন্নয়ন প্রকল্প নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে শেষ করতে বাড়তি নজরদারি করছে বিভিন্ন মন্ত্রণালয়।

বিশেষ করে পরিকল্পনা মন্ত্রণালয় এ বিষয়গুলোর বেশি তদারকি করে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়কে দিকনির্দেশনা দিচ্ছে।

প্রকল্প বাস্তবায়নে সমস্যা এবং অগ্রগতি কম থাকলে তার কারণ খুঁজে বের করতে ইতোমধ্যে বিভিন্ন মন্ত্রণালয় তাদের নিজ নিজ বিভাগগুলোকে বিশেষ নির্দেশনা দিয়েছে বলে সচিবালয় সূত্রে জানা গেছে।

বিশেষ করে আওয়ামী লীগের নির্বাচনি প্রচারে উন্নয়নকে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দেয়ায় ক্ষমতায় আসার পর তার তৎপরতা বেড়ে গেছে।

ফলে তৃতীয় মেয়াদে সরকার গঠন করায় উন্নয়নকে ত্বরান্বিত করতে বিশেষ উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।

নতুন সরকার গঠনের প্রায় ছয় মাস অতিবাহিত হয়েছে। এরই মধ্যে বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রীরা তাদের নিজ নিজ দপ্তরের উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নে বিশেষ তৎপরতা শুরু করেছে।

সম্প্রতি জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) বৈঠকে প্রকল্প বাস্তবায়নে গতি আনতে নজরদারি বাড়ানোর নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, যে প্রকল্পগুলো আমরা গ্রহণ করেছি, আমি চাই সেগুলোর দ্রুত বাস্তবায়ন করা।

প্রকল্পগুলো যথাযথভাবে বাস্তবায়িত করতে নজরদারিও বাড়াতে হবে। অনুমোদনের পর থেকে যেন প্রকল্পের মেয়াদ ধরা হয়।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তা আমার সংবাদকে বলেন, প্রকল্পের বড় সমস্যা হলো সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর মধ্যে সমন্বয়হীনতা।

এ সমস্যা নিরসনে আমাদের মিটিং হয়েছে। আশা করছি প্রকল্প বাস্তবায়নে খুব ভালো কাজ হবে।

সম্প্রতি শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি এক মিটিংয়ে কর্মকর্তাদের উদ্দেশে বলেছেন, প্রকল্প বাস্তবায়নে পারদর্শী ব্যক্তিকে প্রকল্প পরিচালক (পিডি) হিসেবে নিয়োগ দেয়াই সমীচীন হবে। যারা যে বিষয়ে দক্ষ তারাই শুধু নিয়োগ পাবেন।

‘ফাস্ট ট্র্যাক’ বা দ্রুত বাস্তবায়নের জন্য অগ্রাধিকার পাওয়া ১০টি বড় উন্নয়ন প্রকল্পে গতি বাড়াতে উদ্যোগ নিয়েছে সরকার।

প্রকল্পগুলো হলো— পদ্মা বহুমুখী সেতু, মেট্রোরেল, পদ্মা সেতু রেল সংযোগ প্রকল্প, চট্টগ্রামের দোহাজারী থেকে বান্দরবানের ঘুমধুম পর্যন্ত রেলপথ নির্মাণ, রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র, মাতারবাড়ী কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র, কক্সবাজারের মহশেখালীতে ভাসমান তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) টার্মিনাল, রামপাল থার্মাল পাওয়ার প্লান্ট, পায়রা গভীর সমুদ্রবন্দর ও সোনাদিয়া গভীর সমুদ্রবন্দর প্রকল্প।

সম্পূর্ণভাবে নিজেদের অর্থায়নে পদ্মা সেতু প্রকল্পের জন্য ইতোমধ্যে বিদেশে ব্যাপক প্রশংসিত হয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

এ পর্যন্ত পদ্মা সেতু প্রকল্পে মূল সেতুর ৮১ ভাগ নির্মাণকাজ শেষ হয়েছে। আর মাত্র ১৯ ভাগ কাজ বাকি। তবে পিছিয়ে রয়েছে নদী শাসনের কাজ। এ ক্ষেত্রে অগ্রগতি ৫৯ শতাংশ।

চলতি মাসে সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় কমিটিতে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের উপস্থাপিত এক প্রতিবেদন থেকে এই তথ্য পাওয়া গেছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এ বছরের জুন পর্যন্ত পদ্মা সেতুর ২৬২টি পাইলের মধ্যে ২৫৬টি এবং ৪২টি পিয়ার কলামের মধ্যে ২৯টির নির্মাণকাজ শেষ হয়েছে। ৩০ জুন ১৪তম স্প্যান বসানোর মধ্যদিয়ে ২ দশমিক ১ কিলোমিটার সেতু দৃশ্যমান হয়েছে।

উল্লেখ্য, সম্পূর্ণ রাষ্ট্রীয় অর্থায়নে ৯ দশমিক ৮৩ কিলোমিটার দৈর্ঘ্যের পদ্মা সেতু নির্মাণের প্রাক্কলিত ব্যয় ৩০ হাজার ১৯৩ কোটি ৩৮ লাখ টাকা।

আগামী ২০২০ সালের ডিসেম্বর বা ২০২১ সালের এপ্রিলে পদ্মা সেতু যান চলাচলের জন্য উন্মুক্ত করা সম্ভব বলে সংশ্লিষ্ট র্ককর্তারা আশা প্রকাশ করেছেন। ২০১৮-১৯ অর্থবছরে রেকর্ড এডিপি বাস্তবায়ন হয়েছে। গত পাঁচ বছরের মধ্যে যা সর্বোচ্চ।

২০১৮-১৯ অর্থবছরের জন্য প্রায় এক লাখ ৮১ হাজার কোটি টাকার এডিপি গ্রহণ করা হয়। এর মধ্যে সরকারি তহবিল থেকে এক লাখ ১৩ হাজার কোটি টাকা বা ৬২ শতাংশ, প্রকল্প সহায়তার খাত থেকে ৬০ হাজার কোটি টাকা বা ৩৩ শতাংশ এবং সংস্থার নিজস্ব তহবিল থেকে সাত হাজার ৮৬৯ কোটি টাকা বা ৪ শতাংশের কিছু বেশি অর্থ জোগান দেয়।

পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের বাস্তবায়ন, পরিবীক্ষণ ও মূল্যায়ন বিভাগের (আইএমইডি) প্রতিবেদনে দেখা যায়, ২০১৮-১৯ অর্থবছরে সরকারের বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচিতে (এডিপি) সর্বোচ্চ বরাদ্দ পাওয়া ১০ মন্ত্রণালয় ও বিভাগের মধ্যে বরাদ্দের আনুপাতিক হারে সবচেয়ে বেশি ৫৯ শতাংশ বাস্তবায়ন করেছে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়।

দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ৫৩ শতাংশ বাস্তবায়ন করেছে বিদ্যুৎ বিভাগ। তৃতীয় সর্বোচ্চ প্রায় ৪৩ শতাংশ বাস্তবায়ন করেছে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়।

চতুর্থ সর্বোচ্চ ৪২ শতাংশ বাস্তবায়ন করেছে পানিসম্পদ মন্ত্রণালয় এবং পঞ্চম সর্বোচ্চ স্থানীয় সরকার বিভাগ ৩৯ শতাংশ বরাদ্দ ব্যয় করেছে। এ ছাড়াও মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগ প্রায় ৩১ শতাংশ, স্বাস্থ্যসেবা বিভাগ প্রায় ২৮ শতাংশ, সেতু বিভাগ ২৩ শতাংশ বরাদ্দ ব্যয় করতে পেরেছে।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ
সর্বশেষ
সর্বাধিক পঠিত