শিরোনাম

নতুন প্রজন্ম ধ্বংস হচ্ছে স্মার্টফোন-ফেসবুকে!

প্রিন্ট সংস্করণ॥ফারুক আলম  |  ০০:৩৮, জুলাই ১০, ২০১৯

স্মার্টফোনে ফেসবুক, গেমস, ইউটিউব ও গুগলে আপত্তিকর ভিডিওতে আসক্ত হয়ে লাখ লাখ শিশু-কিশোরের উজ্জ্বল ভবিষ্যত নষ্ট হচ্ছে।

বিনা প্রয়োজনে সময় নষ্ট ও আপত্তিকর ভিডিও দেখতে বয়স বাড়িয়ে ফেসবুক, গুগল খুলে ব্যবহার করছে কোমলমতি এই শিক্ষার্থীরা।

এতে লেখাপড়ার মারাত্মক ক্ষতির সঙ্গে সামাজিক মূল্যবোধেরও অবক্ষয় ঘটছে। সৌখিনতা পূরণ করতে নিজের অজান্তেই অভিভাবকরা সন্তানের হাতে তুলে দিচ্ছেন স্মার্টফোন।

বাবা-মাকে ধোঁকা দিয়ে সন্তানরা ডুবে থাকছে ফেসবুকে। স্কুল, মাদ্রাসা ফাঁকি দিয়ে চায়ের দোকানে ও পার্কের ধারে বসে স্মার্টফোনে গেমস, ফেসবুক ও গুগল চালাচ্ছে। এতে পারিবারিক কলহের সৃষ্টি হচ্ছে।

সরকারের তথ্য যোগাযোগপ্রযুক্তি বিভাগের হিসাবে, দেশে ৯ কোটির বেশি ইন্টারনেট সংযোগ আছে। ফেসবুক ব্যবহার করছে প্রায় তিন কোটি মানুষ।

ফেসবুক ব্যবহারকারীদের শতকরা ৯৩ ভাগের বয়স ১৮ থেকে ৩৪ বছরের মধ্যে। বিশাল এই জনগোষ্ঠী ফেসবুকের সাথে সম্পৃক্ত। এই বিশাল তরুণ সমাজ কেনো ফেসবুকের প্রতি এত আকৃষ্ট।

এ ব্যাপারে আমাদের দেশে তেমন কোনো গবেষণা প্রতিষ্ঠান নেই বলে জানান এই আইসিটি বিশেষজ্ঞরা।

ফয়জুল আরেফিন (ছদ্মনাম) নামে একজন অভিভাবক জানান, আমি অশিক্ষিত মানুষ। মোবাইল ফোন চালাতে পারি না। গ্রামের ছোট ছোট ছেলেমেয়ে মোবাইল ফোন চালায়।

একদিন আমার ছেলেও (১২ বছর) মোবাইল ফোন কিনে চায়। আমি সখের বসে কিনে দেই।

এরপর থেকেই ছেলের গতিমতি চেঞ্জ। হাতে মোবাইল পেয়ে আগের মতো বাসায় থাকে না। লেখাপড়ায় মনযোগ দেয় না। যখনই দেখি তখনই হাতে ফোন। পড়ার টেবিলে, ঘুমের ঘরে এমনকি খেতে বসেও ফোন চালাতে দেখি।

আগে লেখাপড়া শেষ করে রাত ১০টায় ঘুমিয়ে পড়ত। এখন রাত ১২টার আগে ঘুমাতে যায় না। ঘুমানোর ঘরে বালিশের নিচেই রাখে ফোন। সারাক্ষণ ফোন আর ফোন।

কিছু বললেই ছেলে বলত— ফোনে লেখাপড়া করছে। এভাবে কয়েকদিন বলার পড় মোবাইল ফোন নিয়ে আর কিছু বলিনি।

কিন্তু একদিন রাত ৯টায় বাসায় এসে শুনতে পারি, ছেলে এখনো বাইরে থেকে বাসায় ফেরেনি। আমি বাসায় পৌঁছার কিছুক্ষণ পরই পুলিশ আছে বাসায়।

আমাকে ও ছেলের মাকে নিয়ে যায় থানা। থানায় নিয়ে পুলিশ আমার ছেলের কথা জানতে চায়। তখন পুলিশকে বলি— বাসায় ফেরেনি ছেলে।

এরপরই পুলিশ আমাকে ও ছেলের মা দুজনকেই থাপ্পড় দেয়। তখনই শুনতে পারি, এলাকার প্রভাবশালীর এক ব্যক্তির মেয়েকে নিয়ে পালিয়েছে ছেলে।

ছেলের সখের ফোন কিনে দিয়ে বিপদে পড়ি আমরা। মোবাইল ফোনেই ছেলের ভবিষ্যত শেষ।

এলাকায় নিজের সম্মান শেষ। আগের মতো সমাজের সবার সঙ্গে চলাচল করতে পারি না। মনটা খুব ছোট লাগে।

একমাত্র ছেলের কারণে সবার সঙ্গে হাসিমুখে কথা বলতে পারছি না। লজ্জায় নিজে এবং আমার স্ত্রী আত্মীয়-স্বজনের বাসায় যাই না।

উপরের ঘটনাটি শুধু একটি পরিবারের নয়, আমাদের বেশির ভাগ পরিবারেরই বর্তমান চিত্র।

গ্রাম থেকে শুরু করে শহরের জীবনযাত্রায় ছেলেমেয়েদের হাতে সখের মোবাইল ফোন কিনে দিয়ে অজান্তে ভবিষ্যত নষ্ট করছেন বাবা-মা।

স্মার্টের নামে অল্প বয়সের ছেলেমেয়ে মোবাইল ফোন হাতে পেয়ে আসক্ত হয়ে পড়ছে।

অনৈতিক অবক্ষয় থেকে মানসিক ভারসাম্য হারিয়ে ফেলছে। মোবাইলে আসক্ত হয়ে বয়ঃসন্ধিকালে পৌঁছার আগেই ছেলেমেয়ে নোংরা কাজে জড়িয়ে পড়ছে।

এছাড়া ফেসবুকের মাধ্যমে বন্ধুত্বের সূত্র ধরে তরুণ ও তরুণীর মধ্যে প্রেম হয়।

পরবর্তীতে তারা পারিবারিক অসম্মতিতে পালিয়ে বিয়ে করে। বিয়ের পর তাদের মধ্যে পারিবারিক অশান্তির জের ধরে কথা কাটাকাটি হয় এবং একসময় তরুণটি তার স্ত্রীকে খুন করে।

ফেসবুকসহ অন্যান্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের ব্যবহার দ্রুত বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে আসক্তির আশঙ্কাও বাড়ছে।

হাসান শান্তনু নামে এক গণমাধ্যমকর্মী তার ফেসবুকে লিখেন, একজন বিয়ে করে ১০ মিনিট আগে তিনি বাসরঘরের ছবি (সেলফি) দিয়েছেন নিজের ফেসবুকে।

শুয়ে আছেন, পাশে তার সদ্য বিবাহিত স্ত্রী। তাদের জন্য বিশুদ্ধ শুভকামনা। ফেসবুকে এমন ছবি দেখে কিছু প্রশ্ন এড়ানোর সুযোগ নেই।

আমরা কি ফেসবুকের কাছে ব্যক্তিগত সম্ভ্যাষণবোধও বিকিয়ে দিয়েছি? একটা ফেসবুক আইডি থাকলে কি জীবনের নিজস্বতা বোধ বলতে কোনো কিছু থাকতে নেই?

বাসরঘরের ছবি খুব ব্যক্তিগত পর্যায়ে আটকে রাখতে হয়। এ সামান্য চিন্তার ক্ষমতাও কেড়ে নিয়েছে ফেসবুক।

জানা যায়, ফেসবুক কর্তৃপক্ষ বলছে, ১৩ বছরের নিচে ফেসবুক আইডি খুলতে পারবে না।

কিন্তু ছেলেমেয়েরা বাবা-মা ও আত্মীয়-স্বজনদের ভোটার আইডি দিয়ে মোবাইল সিম ক্রয় করে নিজের বয়স বাড়িয়ে ফেসবুক খুলছে।

১৮ বছর বয়সের নিচে ৬৫ ভাগ ছেলেমেয়ে ফেসবুক ব্যবহার করছে।

এ ব্যাপারে বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশনের (বিটিআরসি) চেয়ারম্যান মো. জহুরুল হক আমার সংবাদকে বলেন, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুক বন্ধ করার সক্ষমতা নেই বিটিআরসির।

তবে বিটিআরসি ফেসবুককে অনুরোধ করতে পারে। ফেসবুক ব্যবসা করতে এ দেশে এসেছে।

তারা (ফেসবুক) মনে করে, ১৮ বছরের নিচের ছেলেমেয়ে তাদের গ্রাহক ৬৫ বছরের মানুষও একই গ্রাহক। ফেসবুক কিন্তু সব অভিযোগ বিবেচনায় নিতে বাধ্য নয়।

যুক্তরাষ্ট্রের মিশিগান বিশ্ববিদ্যালয়ের নেতৃত্বে একদল গবেষক জার্মানির একট বড় বিশ্ববিদ্যালয়ের ৭১ জন শিক্ষার্থীর ফেসবুক ব্যবহারের ওপর গবেষণা করেছেন। তারা সবাই ফেসবুকে প্রচুর সময় কাটান।

গবেষকদের সিদ্ধান্ত, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অতিমাত্রায় বিচরণ মাদকাসক্তির মতোই খারাপ।

এ জন্য বিশ্বে কিংবদন্তি মাইক্রোসফটের সহ-প্রতিষ্ঠাতা বিল গেটস এবং অ্যাপলের সহ-প্রতিষ্ঠাতা স্টিভ জবস।

সারা বিশ্বের মানুষের মাঝে বিভিন্ন প্রযুক্তিপণ্য ছড়িয়ে দিলেও নিজের পরিবারের ক্ষেত্রে তাদের ভূমিকা ছিলো একেবারেই উল্টো।

উঠতি বয়সে তাদের সন্তানরা যেন খুব বেশি প্রযুক্তির সংস্পর্শে আসতে না পারে, সে বিষয়টি নিশ্চিত করেছিলেন প্রযুক্তি বিশ্বের দুই দিকপাল।

২০১১ সালে নিউ ইয়র্ক টাইমসকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে স্টিভ জবস বলেন, তার সন্তানদের জন্য আইপ্যাড ব্যবহার নিষিদ্ধ ছিলো।

শুধু তাই নয়, অন্যান্য প্রযুক্তিপণ্যের ব্যবহারও ছিলো অনেক সীমিত। এর পরিবর্তে তিনি তাদের নিয়মিত সময় দিতেন।

একসাথে রাতের খাবার খেতেন এবং প্রযুক্তির বাইরের বিভিন্ন বিষয় নিয়ে তাদের সাথে আলোচনা করতেন।

এ বিষয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্রিমিনোলজি বিভাগের অধ্যাপক ড. জিয়া রহমান আমার সংবাদকে বলেন, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে শিশু-কিশোর ঝুঁকিয়ে পড়ায় অপরাধের প্রবণাতা বাড়ছে।

একই সঙ্গে পারিবারিক বন্ধন শিথিল হয়ে যাচ্ছে। বাবা-মা ছাড়াও গুরুজনদের সম্মান করছে না তারা।

এর পেছনে শুধু প্রযুক্তি দায়ী নয়, যারা নতুন নতুন প্রযুক্তি নিয়ে আসছেন; তারাও দায়ী।

কারণ ফেসবুক, টুইটার, ইউটিউব-সহ বিভিন্ন ধরনের প্রযুক্তি আসার আগে সেটি সম্পর্কে ইতিবাচক ধারণা দেয়া হচ্ছে না তরুণদের।

ফলে প্রযুক্তিতে ভালোর চেয়ে খারাপের দিকে ঝুঁকে পড়ছে তারা।

সমাজকল্যাণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের (অবসর) অধ্যাপক আব্দুল হাকিম আমার সংবাদকে বলেন, ডিজিটাল যুগের ছেলেমেয়েদের ইচ্ছা করলেও প্রযুক্তি থেকে সরিয়ে রাখতে পারব না।

কিন্তু নতুন প্রযুক্তিকে কিভাবে বরণ করবেন সেটি ভাবার সুযোগ আমাদের নেই। এখন মায়েরাও সময় পান না, বাবারাও সময় পান না, সন্তানরা বাবা-মাকে ছাড়াই বড় হচ্ছে।

স্কুল-কলেজের শিক্ষকদের আচার-আচরণ দেখে এখন আর মনে হয় না, তারা শিক্ষার্থীদের দ্বিতীয় বাবা-মা। শিক্ষকদের মাঝে আগের মতো সেই চিন্তাটা খুব একটা কাজ করে না।

তিনি আরো বলেন, আমরা ভাবনা হচ্ছে, যেটা দরকার ছিলো, সেটি আমাদের সমাজে এখনো অনুপস্থিত।

সেটা হচ্ছে— সমাজকে সংগঠিত করা। অর্থাৎ সমাজ সংগঠিত হলে কোনো না কোনো বিষয় নিয়ে আলাপ-আলোচনা করত।

স্কুল-কলেজে কিংবা কোনো অনুষ্ঠানে সমাজ পরিবর্তনের বিষয়টি নিয়ে আলাপ-আলোচনা হতো।

একটা স্মার্টফোন কেউ যদি একবার হাতের লাগালে পেয়ে যায়, তাহলে সেই সুযোগ থেকে তাকে বের করা কষ্টকর হয়ে যাবে।

এ জন্য গোড়া থেকেই মহাপরিকল্পনা করা দরকার। আমাদের সমাজে সেই মহাপরিকল্পনা নেই। এ জন্যই সমাজের সর্বত্রে বিশৃঙ্খলা চলছে বলে মনে করছেন এই সমাজবিজ্ঞানী।

রেইজ আইটি সলিউশন লিমিটেডের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা কে এ এম রাশেদুল মাজিদ আমার সংবাদকে বলেন, ফেসবুক কর্তৃপক্ষ বলছে, ১৩ বছরের নিচে কেউ ফেসবুক ব্যবহার করতে পারবেন না।

কিন্তু দেখা যায়, বাবা-মা ও আত্মীয়-স্বজনের ফোন নাম্বার নিয়ে ৮-১০ বছরের ছেলেমেয়েরা বয়স বাড়িয়ে ফেসবুক আইডি খুলছে। এখানে সরকারের পক্ষ থেকে ফেসবুক নিয়ন্ত্রণ করার কোনো সুযোগ নেই। ফেসবুক একটি স্বাধীন প্ল্যাটফর্ম।

তারা (ফেসবুক) নিজেদের ব্যবসা বুঝবে, সেখানে শিশু-কিশোরদের কোনো ক্ষতি হচ্ছে কি না সেটি বুঝবে না।

তবে গভীর রাত পর্যন্ত কোমলমতি শিক্ষার্থীরা ফেসবুক চালানোর ব্যাপারটি বাবা-মাকেই নিয়ন্ত্রণ করতে হবে। কিন্তু আমাদের দেশে অনেক বাবা-মা জানেন না ফেসবুক কি জিনিস।

এ জন্য সরকারের পক্ষ থেকে জেলা-উপজেলা পর্যায় অভিভাবকদের সচেতন করতে হবে।

রাশেদুল মাজিদ বলেন, বাবা-মা ঠিকমতো সন্তানদের সময় দিতে না পারায় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বুঁদ হয়ে থাকছে। এতে সামাজিক অবক্ষয় ঘটছে।

এ জন্য বাবা-মাকে জানতে হবে সন্তানরা কোন ধরনের সফটওয়ার ব্যবহার করছে। সন্তানরা স্কুল-কলেজে যাচ্ছে ঠিকই, কিন্তু সামাজিক মাধ্যমে প্রচুর সময় নষ্ট করছে।

তিনি বলেন, বিটিআরসি ইচ্ছা করলে ফেসবুক ডোমেইনের উপর বয়স ভেরিফিকেশন সিস্টেম করতে পারে। ফেসবুক আইডি খুলতে ন্যাশনাল আইডি কিংবা জন্ম নিবন্ধন চাইতে পারে। কারণ ইন্টারনেটের সম্পন্ন ক্ষমতা বিটিআরসির।

কিন্তু সমন্বয়ের অভাবে বিটিআরসি সিস্টেম চালু করতে পারছে না। তারা (বিটিআরসি) শুধু আইডি ব্লগ করে দেয়ার চিন্তাভাবনা করে।

চীনের উদাহরণ দিয়ে তিনি বলেন, চীন কোনোভাবেই চায় না, তাদের সরকার সম্পর্কে কেউ খারাপ বলুক। এ জন্য ফেসবুক, গুগল কাউকে রাখেনি।

নিজেরাই সফটওয়ার তৈরি করে ভালোভাবেই আছে। ওখানে সামাজিক অবক্ষয় নেই। বাংলাদেশ সরকারও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা করে চীনের মতো করতে পারে।

সবার আগে দেশটাকে বড় করে দেখা উচিত। সামাজিক অবক্ষয় যদি আমরা প্রতিরোধ করতে না পারি, আমাদের ভবিষ্যত ভালো হবে না।

আমেরিকা কিংবা ইংল্যান্ডে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ব্যবহার করে খারাপ কিছু শিখবে সেটি একেবারেই কম।

কিন্তু আমাদের দেশে ফেসবুক, গুগল ও টিকটক থেকে তরুণ প্রজন্ম ভালোর চেয়ে খারাপ দিকে বেশি ঝুঁকে পড়েছে।

এ জন্যই আমাদের সমাজ ও কালচার রক্ষা করতে হলে ফেসবুক, গুগল, টিকটক ও ইউটিউব নিয়ন্ত্রণ করা জরুরি।

ফেসবুকের মতো নিজেদের ব্রাউজার তৈরি করা দরকার। বিটিআরসি ইচ্ছা করলে ফেসবুকের ওপর বয়স ভেরিফিকেশন করতে পারে।

সামাজিক অবক্ষয় যদি আমরা প্রতিরোধ করতে না পারি, আমাদের ভবিষ্যত ভালো হবে না।

বাংলাদেশ সরকারও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা করে চীনের মতো ব্রাউজার তৈরি করে নিয়ন্ত্রণ করতে পারে বলে মনে করছেন আইসিটি বিশেষজ্ঞরা।

রাইদা আইটির এমডি রাজিব আহমেদ আমার সংবাদকে বলেন, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে লাখ লাখ ছেলেমেয়ে কর্মসংস্থান পেয়েছেন।

দেশে থেকেও বিদেশের কাজ করে আয় করছেন। এই ইতিবাচক বার্তা তরুণ-তরুণীদের মাঝে পৌঁছে দেয়ার পরিকল্পনার প্রয়োজন থাকলেও, হচ্ছে না।

এছাড়া শিশু-কিশোরদের হাতে স্মার্টফোন না দিয়ে ফুটবল, ক্রিকেট সহ নানা ধরনের খেলাধুলায় ব্যস্ত রাখতে হবে।

জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালের সহযোগী অধ্যাপক মেখলা সরকার আমার সংবাদকে বলেন, একটি পরিবারে বাবা-মা চাকরিজীবী হয়, তখন সন্তানদের যথেষ্ট সময় দিতে পারেন না। এ জন্য সন্তানরা সময় নষ্ট করতে স্মার্টফোনের দিকে ঝুঁকে পড়ছে।

এ জন্য অভিভাবকদের সচেতন থাকতে হবে শিশু-কিশোরদের হাতে অভিভাবকরা স্মার্টফোন না দিয়ে নজর রাখতে হবে।

এই মানসিক রোগ বিশেষজ্ঞ বলেন, অল্প বয়সীরা যদি বাস্তবজীবনে বন্ধুদের সঙ্গে সময় কাটানোর বা খেলাধুলার নির্মল পরিবেশ পায়, তাহলে মুঠোফোন ও ল্যাপটপের আসক্তি তাদের হবে না। সেই পরিবেশ তাদের জন্য নিশ্চিত করতে হবে।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ
সর্বশেষ
সর্বাধিক পঠিত