শিরোনাম

একই সময়ে দুই নিয়োগ পরীক্ষা

বিপাকে চাকরি প্রত্যাশীরা
প্রিন্ট সংস্করণ॥রাসেল মাহমুদ  |  ০৫:৪০, জুন ২৭, ২০১৯

‘সোনার হরিণ’ সরকারি একটি চাকরির প্রত্যাশায় বিভোর লাখো শিক্ষিত বেকার। তাই সরকারি চাকরির বিজ্ঞপ্তি সামনে এলে পূর্বাপর না ভেবেই আবেদন করেন তারা।

কিন্তু অনেক ক্ষেত্রে কাঙ্ক্ষিত সেই চাকরির পরীক্ষা নিয়ে দেখা দেয় বিপত্তি। এই বিপত্তির মধ্যে শীর্ষে রয়েছে একই দিনে, একই সময়ে একাধিক পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। ফলে আবেদন করেও পরীক্ষা দেয়া হয় না চাকরি প্রত্যাশীদের। দীর্ঘদিন ধরেই এ সমস্যা চলে আসছে।

তারই ধারাবাহিকতায় এবার সাধারণ বীমা কর্পোরেশনের সহকারী ব্যবস্থাপক ও কন্ট্রোলার জেনারেল ডিফেন্স ফাইন্যান্সের অডিট পদে আবেদন করা চাকরি প্রত্যাশীরা পড়েছেন বিপাকে। আগামী ১২ জুলাই (শুক্রবার) একই সময়ে পরীক্ষা দুটি অনুষ্ঠিত হবে।

চাকরি প্রত্যাশীরা বলছেন, প্রতিটি নিয়োগ পরীক্ষার আবেদন ফরম পূরণ করতে আবেদনকারীকে টাকা দিতে হয়। কিন্তু পরীক্ষার সময় হলে তারা পরীক্ষা দিতে পারেন না। যা চাকরি প্রত্যাশীদের সঙ্গে এক ধরনের প্রতারণা-প্রহসন। এই প্রহসন দীর্ঘদিন ধরেই চলে আসছে। এ অবস্থা থেকে উত্তরণ চান তারা।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, সাধারণ বীমা কর্পোরেশনের সহকারী ব্যবস্থাপক পদের এমসিকিউ ও লিখিত পরীক্ষা আগামী ১২ জুলাই সকাল ১০টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত অনুষ্ঠিত হবে। একই দিন সকাল সাড়ে ১০টা থেকে বেলা সাড়ে ১১টা পর্যন্ত অনুষ্ঠিত হবে কন্ট্রোলার জেনারেল ডিফেন্স ফাইন্যান্সের অডিট পদের পরীক্ষা।

দুটি পরীক্ষাতেই আবেদন করেছেন কয়েক হাজার পরীক্ষার্থী। এ ছাড়া সাধারণ বীমা কর্পোরেশনের জুনিয়র অফিসার পদের এমসিকিউ ও লিখিত পরীক্ষা ১২ জুলাই বিকেল ৩টা থেকে ৫টা পর্যন্ত অনুষ্ঠিত হবে। এ প্রতিষ্ঠানের উচ্চমান সহকারী পদের এমসিকিউ ও লিখিত পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে ১৯ জুলাই সকাল ১০টা থেকে ১২টা পর্যন্ত।

এদিকে সময়মতো পরীক্ষা অনুষ্ঠানের লক্ষ্যে আবেদনকৃত প্রার্থীদের কাছে থাকা ইউজার আইডি এবং পাসওয়ার্ড ব্যবহার করে প্রতিষ্ঠান দুটির নির্ধারিত ওয়েবসাইট থেকে প্রবেশপত্র ডাউনলোড করতে বলা হয়েছে।

প্রবেশপত্রে পরীক্ষার রোল নম্বরসহ পরীক্ষার কেন্দ্র উল্লেখ থাকছে। সাধারণ বীমা কর্পোরেশনের জুনিয়র অফিসার পদে পরীক্ষার জন্য ২৪ হাজার ২২৭ জনের তালিকা প্রকাশ করা হয়েছে। রাজধানীর ছয়টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে এই পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে। তবে কন্ট্রোলার জেনারেল ডিফেন্স ফাইন্যান্সের অডিট পদের জন্য কতজন আবেদন করেছেন তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি সূত্রে জানা যায়, সাধারণ বীমা কর্পোরেশনের সহকারী ব্যবস্থাপক পদে আবেদনের জন্য ৫০০ টাকা ফি নেয়া হয়। এ ছাড়া জুনিয়র অফিসার পদে ৪০০ টাকা এবং উচ্চমান সহকারী পদে আবেদন করতে ৩০০ টাকা ফি দিতে হয়েছে।

আর কন্ট্রোলার জেনারেল ডিফেন্স ফাইন্যান্সের ২১৬টি অডিট পদের জন্য আবেদন ফি নেয়া হয়েছে ১০০টাকা। এদিকে একই দিনে গুরুত্বপূর্ণ দুটি চাকরির পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হওয়া নিয়ে আপত্তি জানিয়েছেন চাকরি প্রত্যাশীরা।

অন্তত ৬জন ভুক্তভোগীর সাথে কথা হয় আমার সংবাদের। তারা বলেন, এই নষ্ট সিস্টেম দীর্ঘদিন ধরে চলতে পারে না। এবার বিষয়টি বন্ধ হওয়া উচিত। তা না হয়ে, বেকার যুবসমাজ একই সাথে আর্থিক সঙ্কট এবং হতাশ হয়ে পড়বেন।

দুটি পদেই আবেদন করেছেন এমন একজন চাকরিপ্রত্যাশী এহসান শরিফ আমার সংবাদকে বলেন, শুধু এবারই নয়, একই দিনে একই সময়ে একাধিক প্রতিষ্ঠানের নিয়োগ পরীক্ষার সময় ঘোষণার বিষয়টি পুরোনো। বারবার আমরা প্রতিবাদও করেছি। কিন্তু তেমন কোনো লাভ হয়নি। আর্থিক সঙ্কটে থাকা বেকাররা যদি আবেদন করেও পরীক্ষা দিতে না পারে তাহলে এর থেকে কষ্টের আর কিছু থাকে না।

বাংলাদেশ সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদের আহ্বায়ক হাসান আল মামুন আমার সংবাদকে বলেন, চাকরি প্রত্যাশী বেকারদের সাথে এই প্রহসন বন্ধ হওয়া দরকার। সাধারণ বীমা কর্পোরেশনের সহকারী ব্যবস্থাপক এবং কন্ট্রোলার জেনারেল ডিফেন্স ফাইন্যান্সের অডিট পদের পরীক্ষা আগামী ১২ জুলাই শুক্রবার একই সময়ে অনুষ্ঠিত হবে।

আলাদা প্রতিষ্ঠানের পরীক্ষা দুটি একই সময়ে অনুষ্ঠিত হওয়ার কারণে আবেদন করার পরেও অনেক চাকরি প্রত্যাশী পরীক্ষা দিতে পারবেন না। তাই যেকোনো একটি প্রতিষ্ঠানকে পরীক্ষা পেছানোর দাবি জানান তারা।

তবে পরীক্ষা পেছানোর কোনো সুযোগ নেই বলে জানিয়েছেন সাধারণ বীমা কর্পোরেশনের ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার (প্রশাসন) খসরু দস্তগীর আলম। তিনি আমার সংবাদকে বলেন, পরীক্ষা নির্ধারিত সময়েই অনুষ্ঠিত হবে।

সময় পরিবর্তনের কোনো সুযোগ নেই। দেশে শতাধিক সরকারি প্রতিষ্ঠান রয়েছে। প্রতিটি প্রতিষ্ঠান নিজস্ব সিদ্ধান্তে নিয়োগ পরীক্ষা নিয়ে থাকে। এত সংখ্যক প্রতিষ্ঠানের সাথে আলোচনা করে তারিখ নির্ধারণ করা প্রায় অসম্ভব।

তাই এমন হচ্ছে। তিনি আরো বলেন, যেহেতু একই সময়ে একাধিক পরীক্ষার তারিখ নির্ধারণ করা হয়ে গেছে, তাই চাকরি প্রত্যাশীরা যেটার জন্য নিজেকে যোগ্য এবং সুবিধার মনে করবে সেই পরীক্ষাটা দেয়া উচিত হবে।

নিয়োগ পরীক্ষার তারিখ পরিবর্তন করা হবে কি না, সে বিষয়ে জানতে কন্ট্রোলার জেনারেল ডিফেন্স ফাইন্যান্সে ওয়েবসাইটে দেয়া টেলিফোন নাম্বারে কল দেয়া হলে প্রতিষ্ঠানটির অডিটর পরিচয়ে রফিক নামের এক কর্মকর্তা বলেন, বিষয়টি নিয়ে কথা বলে তেমন কোনো সুরাহা হবে বলে মনে হয় না।

এরপরও আপনি চাইলে আমাদের এডমিন অফিসারের সাথে কথা বলতে পারেন। এরপর তিনি এডমিন অফিসার মনোয়ার আলী মোল্লার ফোন নাম্বার দেন। কিন্তু একাধিকবার ফোন করা হলেও ফোন ধরেননি তিনি।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ
সর্বশেষ
সর্বাধিক পঠিত