শিরোনাম

নিবিড় নজরদারিতে জঙ্গিরা

প্রিন্ট সংস্করণ॥আব্দুল লতিফ রানা  |  ১৭:২৬, জুন ২৬, ২০১৯

নিষিদ্ধ ঘোষিত জঙ্গি সংগঠন জামাআ’তুল মুজাহিদিন বাংলাদেশ (জেএমবি), নিউ জেএমবি ও হিযবুত তাহরিরের জঙ্গি সদস্যরা ফের তৎপরতা শুরু করেছে।

অপরদিকে জঙ্গিবাদ নির্মূলে সরকারের জিরো টলারেন্স নীতির আলোকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী কাজ করছে।

আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পক্ষ থেকে জঙ্গি হামলা প্রতিরোধে কার্যকরী ব্যবস্থা গ্রহণের পাশাপাশি জামিনে মুক্তিপ্রাপ্ত, সাজাপ্রাপ্ত ও আটক জঙ্গিদের নিবিড় নজরদারির ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।

তাছাড়া জঙ্গি দমনে বাংলাদেশ পুলিশের স্পেশালাইজড ফোর্স গঠনের পাশাপাশি উপযুক্ত প্রশিক্ষণ, অপারেশনাল ও লজিস্টিকস সক্ষমতা বৃদ্ধি করা হয়েছে।

এছাড়াও গোয়েন্দা নজরদারি এবং আধুনিক তথ্য-প্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে স্বল্প সময়ের মধ্যে জঙ্গি আস্তানা, জঙ্গিদের অবস্থান শনাক্তপূর্বক গ্রেপ্তার কার্যক্রম চলমান রয়েছে।

আবার জঙ্গি কার্যক্রমে জড়িতদের সনাক্তকরণের সুবিধার্থে এলাকাভিত্তিক ভাড়াটিয়াদের তথ্য সংগ্রহ ও সংরক্ষণসহ বিভিন্ন পরিকল্পনা কার্যকর করা হচ্ছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।

দেশের আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সাঁড়াশি অভিযানের ফলে জঙ্গি সন্ত্রাসীরা দেশের বাইরে প্রতিবেশী দেশে গিয়ে আত্মগোপন করে। আবার মাঝে মধ্যেই সুযোগ বুঝে এসব জঙ্গিরা সরকারকে চ্যালেঞ্জ করে জঙ্গি মিছিল, পোস্টারিংসহ নানা তৎপরতা চালিয়ে আসছে।

তবে র‍্যাব, পুলিশসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনী মাঝে মধ্যেই অভিযান চালিয়ে এসব জঙ্গি সন্ত্রাসীদের গ্রেপ্তার করছে।

তারই অংশ হিসেবে গত সোমবার রাজধানীর শাহবাগ ও তেজগাঁও এলাকায় পুলিশ অভিযান চালিয়ে নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠন হিযবুত তাহরিরের চার সদস্যকে গ্রেপ্তার করে। তাদের কাছ থেকে সরকারবিরোধী লেখা পোস্টারসহ কম্পিউটার ও বিভিন্ন আলামত উদ্ধার করা হয়েছে।

শুধু বাংলাদেশেই নয়, নিষিদ্ধ ঘোষিত জঙ্গিরা প্রতিবেশী দেশ ভারতে পালিয়ে থেকেও নাশকতাসহ জঙ্গি তৎপরতা চালিয়ে আসছে।

আর এসব অভিযোগে ভারতের পশ্চিমবঙ্গের কলকাতায় ইসলামী স্টেট (আইএস) অনুপ্রাণিত বাংলাদেশের নিষিদ্ধ জঙ্গি সংগঠন নব্য জামাআ’তুল মুজাহিদিন বাংলাদেশের (জেএমবি) চার সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে সেদেশের আইন প্রয়োগকারী সংস্থা।

অপরদিকে এসব নিষিদ্ধ ঘোষিত জঙ্গি সন্ত্রাসীরা বাংলাদেশের বিভিন্ন এলাকায় এখনো তৎপরতা চালিয়ে আসছে। মাঝে মধ্যে দেশের কোনো না কোনো এলাকায় জঙ্গি তৎপরতা চালানোর সময় পুলিশ-র্যাবসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযানে গ্রেপ্তারও হচ্ছে।

গত সোমবার ভোরে রাজধানীর শাহবাগ এলাকায় পুলিশ অভিযান চালিয়ে হিযবুত তাহরিরের তিন সদস্যকে গ্রেপ্তার করে। এ সময় তাদের কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ সরকারবিরোধী লেখা পোস্টার-লিফলেট উদ্ধার করা হয়েছে। গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন, রাফসানুর রহমান ওরফে রিশান (২২), ফরিদ উদ্দিন সিদ্দিক (১৮) ও সাকিল আহমেদ (২০)।

জানা গেছে, গত সোমবার ভোরে রাজধানীর শাহবাগ থানাধীন যাদুঘরের পাশে পূবালী ব্যাংকের সামনে কয়েকজন যুবক পোস্টার লাগানোর সময় টহল পুলিশের একটি দল সেখানে অভিযান চালিয়ে তিনজনকে আটক করে।

প্রত্যক্ষদর্শী এক ব্যক্তি জানান, গত সোমবার ফজরের নামাজের পর রাজধানীর শাহবাগের পূবালী ব্যাংকের সামনে থেকে চারটি পোস্টারসহ হিযবুত তাহরিরের সদস্য রাফসানুর, ফরিদ, সাকিল ও মাহমুদ হাসানকে গ্রেপ্তার করে। পরে পুলিশ তাদের থানায় নিয়ে ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদ করে।

এরপর তাদের দেয়া তথ্যের ভিত্তিতে তেজগাঁও এলাকায় পুলিশ অভিযান চালিয়ে মো. মাহমুদ হাসানকে গ্রেপ্তার করে। এ সময় তাদের কাছ থেকে একটি হার্ডডিস্ক, দুটি পেনড্রাইভ, একটি সিপিইউ উদ্ধার করা হয়। আর তাদের ব্যবহূত পাঁচটি মোবাইলও জব্দ করা হয়েছে।

এ ঘটনায় শাহবাগ ও তেজগাঁও থানায় পৃথক মামলা দায়ের করা হয়েছে। ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ, (ডিএমপি) মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেশন্স বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার মো. মাসুদুর রহমান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেন।

অপরদিকে বাংলাদেশি তিন জঙ্গি ভারতে গ্রেপ্তারের বিষয়ে সেদেশের প্রভাবশালী নিউজ পোর্টাল আনন্দবাজার এই সংবাদ ফলাও করে প্রচার করে। ওই খবরে বলা হয়েছে, কলকাতা পুলিশের স্পেশাল টাস্কফোর্স (এসটিএফ) গতকাল মঙ্গলবার এই চার জঙ্গি সন্ত্রাসীকে গ্রেপ্তার করে।

ভারতে গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন- মোহম্মদ জিয়াউর রহমান ওরফে মহসিন, মামুনুর রশিদ, মোহম্মদ শাহিন আলম ওরফে আলামিন এবং রবিউল ইসলাম। এই চারজনের মধ্যে মহসিন, মামুনুর ও আলামিন বাংলাদেশের নাগরিক। আর গ্রেপ্তারকৃত রবিউল ভারতের পশ্চিমবঙ্গের বীরভূম জেলার নয়াগ্রামের বাসিন্দা বলে জানা গেছে।

জানা গেছে, গতকাল সকালে ভারতের শিয়ালদহ স্টেশনের পার্কিং এলাকায় পুলিশ অভিযান চালিয়ে মহসিন ও মামুনুরকে গ্রেপ্তার করে। এ সময় পুলিশ তাদেরকে ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদ করলে তাদের অপর দুই সহযোগীর সন্ধান বলে দেয়। হাওড়া স্টেশন এলাকায় অভিযান চালিয়ে আলামিন ও রবিউল ইসলামকে গ্রেপ্তার করে।

এদের কাছ থেকে ভিডিওসহ আইএস মতাদর্শের বেশকিছু আলামত জব্দ করেছে পুলিশ। গ্রেপ্তারকৃতরা ভারতের পশ্চিমবঙ্গসহ বিভিন্ন এলাকা থেকে টাকা সংগ্রহ করে তা জঙ্গি কার্যকলাপে ব্যবহার করতো। শুধু তাই নয়, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমকে ব্যবহার করে জঙ্গি নিয়োগ ও সন্ত্রাসী কার্যকলাপ চালিয়ে আসছিল।

এ বিষয়ে ডিজিটাল নথিও উদ্ধার করেছে পুলিশ। গ্রেপ্তারকৃতরা দীর্ঘদিন ধরে জেএমবির সঙ্গে জড়িত। বাংলাদেশে এই মুহূর্তে ব্যাপক ধরপাকড় চলছে। তাই গ্রেপ্তার এড়াতে তারা ভারতে পালিয়ে গিয়েছিল। আর পুনরায় বাংলাদেশে জঙ্গি কর্মকাণ্ড চালাতে ছক কষছিল।

ভারতের পুলিশের দাবি গ্রেপ্তারকৃতরা বর্ধমানের খাগড়াগড় চাঞ্চল্যকর বোমা বিস্ফোরণের সঙ্গে জড়িত ছিল। তারা নব্য জেএমবির শীর্ষ নেতৃত্বের একাংশ। আর তখন নব্য জেএমবি হয়নি। জামাআ’তুল মোজাহিদিন অবিভক্ত ছিল।

অবিভক্ত জেএমবির শুরা কমিটির সদস্য হাতকাটা নাসিরউল্লাহ। খাগড়াগড় মতিউলের অন্যতম সদস্য ছিল।পরবর্তীকালে আদর্শগত মতপার্থক্যের কারণে নাসিরউল্লাহ এবং জেএমবির বেশকিছু সদস্য আইএস মতাদর্শী হয়ে নব্য জেএমবি গঠন করে। নাসিরউল্লাহ বাংলাদেশ পুলিশের হাতে ধরা পড়েছে বলে জানা গেছে।

সম্প্রতি ভারতের এক বোমা বিস্ফোরণের ঘটনায় জেএমবির সংশ্লিষ্টতা পায় সেদেশের সরকার। উগ্র-ইসলামপন্থি দল জামাআ’তুল মুজাহিদিন বাংলাদেশ বা জেএমবিকে একটি নিষিদ্ধ সন্ত্রাসী দল হিসেবে ঘোষণা করেছে ভারতের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।

এই দলটি বাংলাদেশে অনেক আগেই নিষিদ্ধ করা হয়েছিল এবং সন্ত্রাসী কার্যক্রমের দায়ে শায়খ আবদুর রহমান ও সিদ্দিকুল ইসলাম ওরফে বাংলা ভাইসহ এর একাধিক নেতার মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হয়েছে।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল বলেছেন, জঙ্গিবাদ নির্মূলে সরকারের জিরো টলারেন্স নীতির আলোকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী কাজ করছে।

জঙ্গি হামলা প্রতিরোধে কার্যকরী ব্যবস্থা গ্রহণের পাশাপাশি জামিনে মুক্তিপ্রাপ্ত, সাজাপ্রাপ্ত ও আটক জঙ্গিদের নিবিড় নজরদারির ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। জাতীয় সংসদে প্রশ্নোত্তর পর্বে এ তথ্য জানিয়েছেন তিনি।

 

 

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ
সর্বশেষ
সর্বাধিক পঠিত