শিরোনাম

বেসরকারি প্রাথমিক শিক্ষকদের অপেক্ষা শেষ হচ্ছে না

প্রিন্ট সংস্করণ॥রাসেল মাহমুদ  |  ১৩:৩৯, জুন ২৫, ২০১৯

জাতীয়করণের এক দফা দাবিতে রোদ-বৃষ্টি উপেক্ষা করে গত এক সপ্তাহ ধরে অবস্থান কর্মসূচি পালন করছেন বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা। কিন্তু দাবি আর আদায় হচ্ছে না। দিনকে দিন বেড়েই চলেছে অপেক্ষার প্রহর।

ফলে হতাশা, ক্ষোভ আর অনিশ্চয়তায় দিন কাটছে তাদের। শিক্ষকরা বলছেন, স্বতন্ত্র ইবতেদায়ি মাদ্রাসার শিক্ষকদেরও আর্থিক সুবিধার আওতায় নিয়ে আসার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার।

কিন্তু জাতীয়করণ থেকে বঞ্চিত বিদ্যালয়গুলো নিয়ে সরকারের কোনো চিন্তা নেই। এমনকি সপ্তাহব্যাপী অবস্থান কর্মসূচি করলেও সংশ্লিষ্টরা খোঁজ নিচ্ছে না।

এদিকে শিক্ষকদের একটি প্রতিনিধি দল প্রধানমন্ত্রীর পিএস-১ এবং এপিএসের সাথে দেখা করার জন্য গতকাল প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে যান।

তারা পিএস-১ ও এপিএসের সাথে দেখা করার সময় পেয়েছেন। শিক্ষকদের আন্দোলনের আয়োজক সংগঠন বাংলাদেশ বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির সভাপতি মো. মামুনুর রশিদ খোকন বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

তিনি বলেন, আমাদের দাবি-দাওয়ার বিষয়ে সরকারের সংশ্লিষ্ট দপ্তরের কোনো মাথাব্যথা নেই। এ অবস্থায় প্রধানমন্ত্রীই আমাদের শেষ ভরসা। তিনি দয়া করে বঞ্চিত বিদ্যালয়গুলোকে জাতীয়করণ করলে আমরা খেয়ে-পড়ে বেঁচে থাকতে পারবো।

এ জন্য তার দপ্তরে যাচ্ছি। আগামীকাল (আজ) প্রধানমন্ত্রীর পিএস-১ এবং এপিএসের সাথে আমাদের ৫ সদস্যের একটি প্রতিনিধি দল দেখা করবো। জানা যায়, ২০১৩ সালের ৯ জানুয়ারি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ২৬ হাজার ১৯৩টি বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় জাতীয়করণের ঘোষণা দেন।

শিক্ষকদের দাবি, জাতীয়করণ করা বিদ্যালয়গুলোর যথাযথ পরিসংখ্যান না হওয়ায় জাতীয়করণ যোগ্য আরও ৪ হাজার ১৫৯টি বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় জাতীয়করণ হতে বঞ্চিত হয়।

জাতীয়করণকালীন পাঠদানের অনুমতি ও রেজিস্ট্রেশন কার্যক্রম স্থগিত করায় এসব প্রতিষ্ঠানের শিক্ষকরা বেতন ভাতা সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। শুধু তাই নয়, ছাত্র-ছাত্রীরাও উপবৃত্তি টিফিন থেকেও বঞ্চিত হচ্ছে। এ জন্য জাতীয়করণের এক দফা দাবিতে বারবার মাঠে নেমেছেন তারা।

চলমান কর্মসূচি চলাকালীন সংগঠনের এক বিবৃতিতে বলা হয়, প্রধানমন্ত্রী ২৬ হাজার ১৯৩টি বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় জাতীয়করণের ঘোষণা দিয়ে জাতির পিতার মতো আরও একটি ইতিহাস রচনা করেছেন। কিন্তু পরিতাপের বিষয়, জাতীয়করণের সমস্ত যোগ্যতা থাকার পরও কিছু সংখ্যক বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও কর্মরত শিক্ষকগণ জাতীয়করণ হতে বঞ্চিত হয়।

তৃতীয়ত ধাপের বিদ্যালয় সমূহের ক্ষেত্রে ২০১২ সালের ২ মের পূর্বে স্থাপিত ও পাঠদানের অনুমতির জন্য আবেদনকৃত বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় জাতীয়করণ করা হবে।

প্রধানমন্ত্রীর ঘোষণায় উল্লিখিত তৃতীয় ধাপের বিদ্যালয়গুলোর সমপর্যায়ে যোগ্যতা থাকা সত্ত্বেও তৎকালীন কিছু কর্মকর্তা কর্মস্থলে না থাকায়, সকল শর্ত পূরণ করার পরও বিদ্যালয়গুলো জাতীয়করণের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হয়নি।

নেতারা বলেন, জাতীয়করণকালীন পাঠদানের অনুমতি ও রেজিস্ট্রেশন কার্যক্রম স্থগিত করায় আমরা বেতন-ভাতা সুবিধা ও ছাত্র-ছাত্রী উপবৃত্তি, টিফিন থেকেও বঞ্চিত হচ্ছি। আমাদের দাবিকৃত বিদ্যালয়সমূহ ধারাবাহিকভাবে ২০০৯-২০১৮ সাল পর্যন্ত প্রাথমিক শিক্ষা সমাপনী পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করে আসছে।

এছাড়া ২৬ হাজার ১৯৩টি বিদ্যালয়ের তালিকার বাইরে পার্বত্য অঞ্চলের ইউএনডিপি পরিচালিত ২১০টি বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় প্রধানমন্ত্রী বিশেষ বিবেচনায় জাতীয়করণ করেন। তারা বলেন, আমাদের আন্দোলন শান্তিপূর্ণ আন্দোলন।

কোনো প্রকার সহিংসতা বা কারো প্ররোচনায় নয়। আমরা দীর্ঘ বছরের পর বছর বিনা বেতনে বিদ্যালয়সমূহে কর্মরত থেকে এদেশের শিশুদের পাঠদান করিয়ে আসছি। আমাদের অনেক শিক্ষক ইতোমধ্যে চাকরির বয়সমীমা হারিয়েছে।

বিদ্যালয়সমূহে কর্মরত অধিকাংশ শিক্ষকের অন্যত্র চাকরির আবেদনের বয়স সীমা নেই। এতে আমরা সংসার জীবনে চরম সংকটের মুখে পড়ছি।

তারা আরও বলেন, এ অবস্থা থেকে কেবল আমরা মানবতার জননী, উন্নত রাষ্টের স্বপ্নদ্রষ্টা, যিনি ২৬,১৯৩টি বিদ্যালয়ের ১,০৪,৭৭২ জন শিক্ষকের মুখে অন্য তুলে দেন, যিনি ৭ লক্ষ্য রোহিঙ্গাকে বুকে টেনে নিয়ে মায়ের মমতায় আশ্রয় দেন, যিনি নিজ অর্থায়নে পদ্মা সেতুর মতো বড় প্রকল্প বাস্তবায়নের স্বপ্নকে বাস্তবে রূপ দেন, তার মাধ্যমেই উত্তরণ পেতে পারি।

শিক্ষকরা জানান, গত ১৬ জুন থেকে জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে চলমান অবস্থান কর্মসূচি থেকে গত সোমবার পর্যন্ত অসুস্থ হয়েছেন ৪১ জন শিক্ষক। আবুল হাসান নামের একজন শিক্ষক বলেন, দীর্ঘদিন বেতন ছাড়া শিক্ষকতা করে আসছি। জাতীয়করণের দাবিতে বারবার আন্দোলনে নেমেছি। কিন্তু অপেক্ষা শুধু দীর্ঘই হয়েছে। এখন সন্তান-সংসার নিয়ে মানবেতর জীবনযাপন করতে হচ্ছে।

আরিফুল ইসলাম নামের একজন শিক্ষক বলেন, বারবার এই প্রেস ক্লাবের সামনে এসে আন্দোলন করেছি। সরকারের নীতিনির্ধারকরা প্রায় প্রতিবারই আশ্বাস দিয়েছেন। কিন্তু দাবি আদায়ের এখন পর্যন্ত তেমন কোনো অগ্রগতি নেই। এভাবে চলতে থাকলে আমাদের না খেয়ে মরতে হবে।

বাংলাদেশ বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির সভাপতি মো. মামুনুর রশিদ খোকন বলেন, আমরা দাবি আদায়ের জন্য কর্মসূচি চালিয়েই যাবো। দীর্ঘদিন ধরে অপেক্ষায় রয়েছি। এখন আর পিছনে ফিরে যাওয়ার কোনো সুযোগ নেই। এবার দাবি আদায় করে তবেই ঘরে ফিরবো।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ
সর্বশেষ
সর্বাধিক পঠিত