শিরোনাম

সুন্দরীর যৌবনে ছিনালি বাজেট

প্রিন্ট সংস্করণ  |  ১২:২৮, জুন ২০, ২০১৯

হারামজাদী ছিনাল, বজ্জাত মাগী, খানকি বেইশ্যা শব্দগুলো শহিদুল্লাহ কায়সারের আলোচিত স্বীকৃত বই সংশপ্তকের ১৫ নাম্বার পৃষ্ঠাতে রয়েছে। যৌবনের ঢেউ নষ্ট করে, বার্ধক্যে সূর নিয়ে গার্লফ্রেন্ডের কাছে সন্ধ্যাবেলায় সংসদ ভবনের সামনে আসার পর এভাবেই হয়তো কথা গুলো উল্টোরথে প্রিয়কে শুনতে হতো.. হয়তো এ-ও বলতো; সোনার (স্বর্ণের) বাজেট আনছো!

আমার কী? এ প্লাস, গোল্ডেন, ডায়মন্ড কিছুই আনোনি। গুলিস্তানের সুন্দরী পরীর কোনো অঙ্গ থেকে একটু ইমিটেশন এইতো... হয়তো ভাবছেন, প্রিয়তমা কেন এগুলো বলছে...আরে বলারই কথা, তাদের এবার পরিকল্পনা ছিলো, আর রাস্তার পাশে, সংসদ ভবনের সামনে নয়, এবার না হয় পর্দার ভেতরে পবিত্র জীবনের যাত্রা শুরু করবে। কিন্তু তাদের যৌবন জ্বালায় বৃষ্টির বদলে অগ্নি! ঘর ও মন শীতলের সব কিছুতেই বেড়ে গেল দাম!

প্রিয়তার প্রিয় আইসক্রিম, তরল দুধ, গুঁড়া দুধ,চিনি, গ্লুকোজ, মধু, বডি স্প্রে, অলিভ অয়েল, এসি, গ্লাস, রান্নার ওভেন, প্লেট ও চুলার সব কিছুতে নিস্তেজীয় প্রস্তাব। এখন আর কিছুই দাঁড়াতে চাচ্ছে না তাদের। ভবিষ্যৎ ছিদ্রপথে খোলা আকাশকেই রূপরসের সঙ্গী হিসেবে নিতে হচ্ছে। প্রাপ্ত যৌবনের আকাল স্বপ্নগুলো তুলে ধরছেন আবদুর রহিম

রক্ত ঠোঁটের শক্ত শ্লোগান : এবার চিন্তাটা ছিলো এমন; ঘরের গিন্নি হবে নরম। চরম গরম, ব্যগ ভর্তি দুঃখ-কষ্ট-জ্বালা সব মিটিয়ে নেক্সট ডেট থেকে একটু হলেও হবে শরম। আমাদের হাত, হাতের আঙ্গুলে আসবে জয়ধ্বনি। আমাদের হাতের খরচ, পায়ের খরচ একটু সীমিত রেখে ফ্রিতে পাবো মনের খরচ।
এমন শক্তি নিয়ে উত্তপ্ত রাজপথে আমাদের ছিলো ঠোঁট-ঠোঁটে শ্লোগান। দিনমাস আগে শত মিছিলে জীবন গিয়েছে বিসর্জনে। সর্বহারা হয়ে শোকে মরছি ধুঁকে ধুঁকে। স্বপ্নকে বনবাস দিয়ে রক্ত ঠোঁটের শক্ত শ্লোগান আজ আমাদের হিমশীতলে।

তোমার রূপে বজ্জাত দৃষ্টি : শোন প্রিয়তমা! তুমি আর সন্ধ্যা হলে সংসদ ভবনের সামনে দাঁড়াবে না। অন্তত এক বছর! আমার মনে হয় বজ্জাত বাজেট তোমার সুন্দর স্থানে দৃষ্টি পড়েছে। তোমার রূপস্বাদের খবর ওই পাড়ায় পৌঁছে গেছে। গভীর রাতের কালো গ্লাসে তুমি আর উঠবে না। তোমার স্বাদ তারা যদি একবার পায় তাহলে আগামী বছর ফের তোমার স্বপ্নতে আঘাত আসবে। অন্ধকার গলি থেকে আমরা আর আলোর ঘরে ফিরতে পারবো না। জানো, আমার মনে হয়, তাদের টার্গেট ছিলো এভাবে জিনিসপত্র দাম বাড়িয়ে দিলে তুমি নিয়মিতই এই সংসদের ভবনের সামনে সময় দেবে! তাই হয়তো খদ্দর গণ্ডগোল তাদের ভুরিপেটে আঘাত হেনেছে।

আমি ছাড়লাম বিড়ি, তুমি সন্ধ্যা : জানো, প্রিয়তমা! শুধু তোমার সুখময় স্থানে তাদের দৃষ্টি পড়েনি আমার সুখটানেও তাঁরা ছোবল হেনেছে। দিনশেষে আমি তোমার কাছে ফিরি। সুখটানে তোমার তেঁতো শরীরের যত্ন নিই। এটাও তাদের পছন্দ হয়নি। আমার বিড়িতেও তাদের কি ভয়াল আক্রোমণ। তবে শুনে রাখো, বিডি পরিবর্তন হলেও তোমার পছন্দের প্যাকেট পরিবর্তন হবে না। কষ্টে যন্ত্রণায় আমি সুখের পথ করলেও তুমি দৃষ্টি তৃপ্তি পরিবর্তন করো না... পুরনো প্যাকেটে নতুন কিছু ভেবো...।

শুদ্ধ যৌবন সময় : দিনশেষে ঘরে ফিরবো! তুমি হয়তো থাকবে ঘরে। আমারই অপেক্ষায়। কখন, তোমার জন্য একটা আইসক্রিম নিয়ে ঘরে ফিরবো। কিংবা তোমার সংসার চাহিদার তরল দুধ, গুঁড়া দুধ,চিনি, গ্লুকোজ, মধু নিয়ে ফিরবো। আমাদের আলোক ঘরের সুঘ্রাণের জন্য একটু বডি স্প্রেও আশা করতে পারো। প্রয়োজনে অলিভ অয়েল, দেহ শীতলে এসিটা তোমার কাম্য হতেই পারে। নিজ রুপকে দেখতে ঘরসাজে “গ্লাস” থাকবে এটাতো তোমার পুরনো কথা। “চ্যট” ঠিক রাখার আগাম শর্ত হলো, পেট ঠিক রাখা। তার জন্য প্লেট ও চুলা অপরিহার্যও বটে। কিন্তু তোমার আমার স্বপ্নরসে এ কি আঘাত হানলেন বাজেট ছিনাল!

যৌবনের মরুভূমি : দাম বেড়েছে দুধ, চিনি,মধুতে। তাই আমার আর নাটাই হাতে রঙের ঘুড়ি উড়ানো হচ্ছে না। আমার ধূ-ধূ মরুভূমিতে অন্যর শৈশব খেলার ঝুড়ি বসবে। ওই পাড়ে দাঁড়িয়ে তুমি হয়তো যৌবন খেলার উঁকি দেবে। ততক্ষণে আড়ালে হয়তো উঁকি দেবে বাধর্ক্যর আলিঙ্গণ। তবুও স্বপ্ন দেখি একদিন তুমি তরী হবে আর আমি হবো মাঝি। আমাদের ভ্রমণ হবে যৌবনের ভ্রমণ। মরুভূমিতে হবে মাছ -ভাতের বিরতি

তেঁতো হয়ে উঁকি : তুমি এতটা কঠিন! এত নিষ্ঠুর! নির্দয়! তোমার অপেক্ষায় একটা বছর। তুমি আমার আমার রঙ্গ ঘরে আলো হয়ে আসবে। তাই, তাকিয়ে ছিলাম একটা বছর। এলেও! কিন্তু এভাবে আসবে ভাবতেও পারিনি। বিশ্বাস ছিলো তুমি হয়তো একটা বছর দামী যায়গায় রসচুম্বন নিয়েছো, এবার হয়তো আমাকেও একটু স্বাদ নেয়ার সুযোগ দেবে। কিন্তু এটা কি হলো। সব বোঝা নিয়ে এবাবে তেঁতো উঁকি দিলে। ভাবতেও কষ্ট হচ্ছে। সব সময়তো বলেছিলে তুমি আমাদের! তাই আমরাও তোমার পক্ষেই শ্লোগান তুলেছিলাম। আর শেষ সময়ে তুমি আমার প্রিয়কেও হূদয়ভরে পাওয়ার সুযোগ দিলে না।

ভবিষ্যৎ সঞ্চয় শুরু করি : এবারের বাজেটে তোমার আমার প্রিয় জিনিস ১৫০ টাকার উপরে ওই দামী পাউরুটি, বিস্কুট, কেকের দাম কমেছে। খুব খুশির খবর না! এখন থেকে আমাদের আর ওগুলো খেতে হবে না। আমরা তার পরিবর্তে বেশি বেশি পাউরুটি, বিস্কুট, কেক খেয়ে টাকা সঞ্চয় করবো। ওই খাবারে পেছনে আমরা আর টাকা অপচয় করবো না। এতে করে আমাদের দেহে শক্তিও বাড়বে। ভবিষ্যৎ কর্মসূচি দীর্ঘ হবে। রাজ্যে অনেক ফুল ফল আসবে। সুশোভিত হবে আশপাশ ...

চমক বিরতি : আমাদের কোনো বিরতি ছিলো না। আমরা প্রতিদিনই আসি এই খোলা আকাশে। দেখাতে, দেখতে! কিন্তু কোনো যত্ম ছিলো না। তৃপ্তি ছিলো অতৃপ্তিতে! তবে হ্যা! স্বাদ এবং সাধ্যের মধ্যে কিছু আঘাত আমাদের আরো মজবুত করতে পারে। আমরা-আমাদের জন্য বিরতি নেয়া প্রয়োজন। এ বছর আমাদের বিরতি প্রশিক্ষণ বাড়াতে পারে তোমার -আমার আগামীর আলোকঘ্রাণ। তুমি তোমাতে-আমি আমাতে। আমাদের বিধ্বস্ত মাঠের সেবা করবো। এরপর আমরা সুখের মাঠে কমল শিশুর মতো দৌঁড়াবো...

সুশীলদের বনলতা : তুমি আমার মালিক হবে। আমি আর হবো না মাংসে স্বাদে সুশীলদের বনলতা। রাস্তার ধারে লাইটপোস্টের নিচে, নিষিদ্ধ নগরীর অন্ধকার গলিতে হবে না আমাদের দেখা। খাবলে খাওয়া দেহটায় জমবে না কোন ভাইরাস ললাট। এমনটাইতো কোনো এক সন্ধ্যায় এই সংসদ ভবনের সামনে তুমি আমি বলেছিলাম। কিন্তু মনের স্বাদ দামে উঠলে, বছর অপেক্ষা এটাতো কথা ছিলো না। একটা বাজেট মাতোয়ারায় আমি হয়তো এখনো সুশীলদের বনলতা!

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ
সর্বশেষ
সর্বাধিক পঠিত