বিধবা সেজে পুলিশ কর্তাকে বিয়ে, অতঃপর...

প্রিন্ট সংস্করণ॥নুর মোহাম্মদ মিঠু  |  ০৫:০৭, জুন ১৯, ২০১৯

পুলিশের সাব-ইন্সপেক্টর (এসআই) দেলোয়ার হোসেন অবিবাহিত থাকা অবস্থায় পরিচয় হয় রেহেনা আক্তার নামের এক নারীর সঙ্গে। যিনি পরিচয়কালে নিজেকে বিধবা বলে উল্লেখ করেন।

বিধবা হওয়ায় ওই নারীর অসহায়ত্বের কথা চিন্তা করে পুলিশের এ কর্মকর্তা তার পরিবারের সম্মতি নিয়ে কাবিন রেজিস্ট্রির মাধ্যমে বিগত ২০০৭ সালে রেহেনা বেগমকে বিয়ে করে দাম্পত্য জীবন শুরু করেন।

দীর্ঘদিন দাম্পত্য জীবন ভালোভাবে অতিবাহিত করার পর দেলোয়ার হোসেন জানতে পারেন তার বিবাহিত স্ত্রী বিধবা নয় বরং পূর্বের স্বামীর সঙ্গে ছেলে-মেয়েসহ বর্তমানেও দাম্পত্য জীবন অতিবাহিত করছেন।

অথচ সম্পূর্ণ বিষয়টি গোপন রেখেছেন রেহেনা বেগম। এ সংক্রান্তে দেলোয়ার হোসেন বাদি হয়ে চিফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত কুমিল্লায় একটি মামলা দায়ের করেন। যার নম্বর সিআর- ২৯৪/১৯ (কোতোয়ালি)।

মামলায় তিনি উল্লেখ করেন- রেহেনা বেগম তার পূর্বের স্বামী নাছির উদ্দিন বাদলের সঙ্গে দাম্পত্য জীবনের কথা গোপন রেখে অর্থ আদায়ের উদ্দেশ্যে তার সঙ্গে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন।

মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে, রেহেনা বেগম বিভিন্ন অজুহাতে দেলোয়ার হোসেনের কাছ থেকে প্রচুর অর্থ আদায় করে প্রতিমাসেই বাবার বাড়ি যাওয়ার কথা বলে নাছির উদ্দিন বাদলের সঙ্গে দাম্পত্য জীবন অতিবাহিত করে ৮-১০ দিন পর পুনরায় দেলোয়ার হোসেনের বাড়িতে ফিরে আসেন।

এমতাবস্থায় দেলোয়ার হোসেন তার কুমিল্লার বাসায় রেহেনা বেগমের কাছে এ বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি স্বীকারও করেন দেলোয়ার হোসেনের সঙ্গে বিবাহের সময় বিধবা ছিলেন না।

তবে তার পূর্বের স্বামী নাছির উদ্দিন বাদলকে তিনি তালাক দিয়েছেন এবং সে তালাকের একটি কপিও বাবার বাড়ি থেকে এনে দেখাবেন জানিয়ে বাবার বাড়ি চলে যান।

বিগত ২০১৮ সালের ২০ ডিসেম্বর রাত আনুমানিক ১০টার দিকে দেলোয়ার হোসেনের বাড়িতে এসে সে তালাকনামা উপস্থাপনও করেন।

দেলোয়ার হোসেন উক্ত তালাকনামাটি নিয়ে সংশ্লিষ্ট কাজী অফিসে যোগাযোগ করলে রেজিস্ট্রি বইয়ে উক্ত তালাকনামার কোনো অস্তিত্ব নেই জানিয়ে তালাকনামাটি জাল-জালিয়াতির মাধ্যমে করা হয়েছে উল্লেখ করে প্রত্যয়নপত্রও দেন সংশ্লিষ্ট কাজী।

প্রত্যয়নপত্রটি রেহেনা বেগমকে দেখিয়ে জাল জালিয়াতির মাধ্যমে করা হয়েছে জানালে তিনি দেলোয়ার হোসেনকে হুমকি-ধমকি দিয়ে বাড়ি থেকে চলে যান।

এরপরই দেলোয়ার হোসেন এ বিষয়ে তার পরিবারের সঙ্গে পরামর্শ করে রেহেনা বেগমের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন।

এ বিষয়ে জানতে চেয়ে রেহেনা বেগমের সঙ্গে দেখা করতে চাইলে তিনি দুইবার দেখা করার কথা বলেও ব্যস্ততার কারণে দেখা করতে পারেননি বলে জানান এবং দেলোয়ার হোসেনের বিরুদ্ধে তার অভিযোগের ডকুমেন্টসও দেখাতে পারেননি বলে জানান।

তবে তিনি দাবি করেন দেলোয়ার হোসেনের বিরুদ্ধে তার করা সব অভিযোগের ডকুমেন্টস রয়েছে।

গতকাল মুঠোফোনে তিনি দেলোয়ার হোসেনের বিরুদ্ধে পাল্টা অভিযোগ করে জানান, দেলোয়ার হোসেনের নিকট তিনি ৫৪ লাখ টাকা পাবেন। তার মধ্যে র্যাং লাগানোর কথা বলে দুবার, বাড়ি নির্মাণের কথা বলে এবং আরও বেশকটি কারণ দেখিয়ে মোট ৫৪ লাখ টাকা নিয়েছেন তার কাছ থেকে।

নারায়ণগঞ্জের প্রপার্টি ব্যাংকে ৩২ ভরি স্বর্ণ বন্দক রেখেও টাকা নিয়েছেন বলে উল্লেখ করেন তিনি।

আপনার পূর্বের স্বামী নাছির উদ্দিন বাদল সাংবাদিকদের বলেছেন, দেলোয়ার হোসেনের সঙ্গে আপনার বিয়ের বিষয়ে এবং তার (নাছির উদ্দিন বাদল) সঙ্গে আপনার তালাকের বিষয়ে তিনি কিছুই জানেন না।

বরং এসআই দেলোয়ার হোসেন ও আপনার মধ্যে ভাই-বোনের সম্পর্ক রয়েছে বলেই জানেন তিনি— এ বিষয়ে আপনার বক্তব্য কী- জানতে চাইলে তিনি বলেন, উনি কি বলেছেন আমি জানি না।

তবে লোকলজ্জার ভয়ে হয়তো তিনি কিছুই বলছেন না বলে দাবি করেন রেহেনা বেগম।

তিনি বলেন, আমিও দেলোয়ার হোসেনের বিরুদ্ধে চারটি মামলা করেছি।

আপনার পূর্বের স্বামীকে (নাছির উদ্দিন বাদল) তালাক দিয়েছেন মর্মে যে তালাকনামাটি এসআই দেলোয়ার হোসেনকে দেখিয়েছেন সেটি জাল-জালিয়াতির মাধ্যমে করা বলে সংশ্লিষ্ট কাজী অফিস থেকে দাবি করা হয়েছে জানালে, তিনি পাল্টা দাবি করে বলেন, তারা এটি কোথায় পেয়েছে আমি জানি না।

তবে আমি জানি ওই কাজী ঘটনার ৫-৭ মাস আগেই মারা গেছেন। সবশেষে তিনি পুনরায় উল্লেখ করেন, আমার কাছে এসবের ডকুমেন্টস রয়েছে। চাইলেই তিনি সরবরাহ করতে পারবেন।

এসআই দেলোয়ার হোসেনের করা মামলার পরবর্তী শুনানির তারিখ আগামী ২ আগস্ট ধার্য করেছেন আদালত এমনটা জানিয়ে রেহেনা বেগম বলেন, দেখেন আগামী তারিখে কি হয়!

তবে এসআই দেলোয়ার হোসেনের দাবি রেহেনা বেগম তার সঙ্গে প্রতারণা করেছেন।

রেহেনা বেগম তার পূর্বের বিয়ে ও চলমান দাম্পত্য জীবনের তথ্য গোপন করে বিধবা সেজে বিয়ের ফাঁদ পেতেছেন।

তিনি আরও বলেন, নাছির উদ্দিন বাদল ছাড়াও এরপূর্বে তার আরও একটি সংসার রয়েছে, সে সংসারেও তার ছেলে-মেয়ে রয়েছে।