শিরোনাম

বিদেশি বিশ্ববিদ্যালয়ের শাখা চালুর উদ্যোগ

সন্তুষ্ট নন শিক্ষাবিদরা

প্রিন্ট সংস্করণ॥রাসেল মাহমুদ   |  ১১:৩৪, জুন ১৭, ২০১৯

বেশ কয়েকবছর বন্ধ থাকার পর সরকার আবারো দেশে বিদেশি বিশ্ববিদ্যালয়ের শাখা ক্যাম্পাস চালুর উদ্যোগ নিয়েছে। এ উপলক্ষে ইতোমধ্যে ৩ সদস্যের একটি কমিটিও গঠন করা হয়েছে। তবে সরকারের এই সিদ্ধান্তের কঠোর সমালোচনা করেছেন শিক্ষাবিদরা।

তারা বলছেন, দেশে বিদ্যমান বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর পড়ালেখার মান নিশ্চিত না করে বিদেশি বিশ্ববিদ্যালয়ের শাখা ক্যাম্পাস চালু দেশের শিক্ষাব্যবস্থার জন্য মঙ্গলজনক হবে না। এর মধ্য দিয়ে সনদ বাণিজ্যসহ নানা ধরনের সমস্যার সৃষ্টির আশঙ্কা করছেন তারা।

এছাড়াও বিদেশ থেকে বাংলাদেশে পড়ালেখা করতে আসা শিক্ষার্থীরাও আগ্রহ হারাবে বলে মনে করছেন শিক্ষাবিদরা। সরকারের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, বিদেশি বিশ্ববিদ্যালয়ের শাখা ক্যাম্পাস স্থাপনের বিষয়ে দীর্ঘদিন ধরেই আলোচনা-পর্যালোচনা চলছে। এবং অনেকেই বিদেশি বিশ্ববিদ্যালয়ের শাখা ক্যাম্পাস চালুর বিষয়ে আগ্রহ প্রকাশ করেছেন। তারই পরিপ্রেক্ষিতে সরকার যাচাই-বাছাই করছে।

জানা যায়, বাংলাদেশে বর্তমানে ৪২টি পাবলিক এবং ১০৪টি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় রয়েছে। ইউজিসির মূল্যায়ন অনুযায়ী, ২০ থেকে ২৫টি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিত করেছে। এর বাইরে অন্য বিশ্ববিদ্যালয়গুলো আইনের তোয়াক্কা না করে নিয়মিত শর্ত ভঙ্গ করে চলছে।

নানা কৌশলে অবৈধভাবে কিছু বিশ্ববিদ্যালয়েরও কার্যক্রমও চলছে। কয়েক বছর আগে ইউজিসি বাংলাদেশে চলা ৫৬টি বিদেশি উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানকে কালো তালিকাভুক্ত করে পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তিও দিয়েছিল। এ অবস্থায় ফের বিদেশি বিশ্ববিদ্যালয়ের শাখা খোলার কঠোর সমালোচনা করেছেন শিক্ষাবিদরা।

শিক্ষাবিদ অধ্যাপক ড. সৈয়দ আনোয়ার হোসেন বলেন, বিদেশি বিশ্ববিদ্যালয়ের শাখা ক্যাম্পাস নিয়ে উচ্চকিত হওয়ার কিছু নেই। কারণ বিদেশের নাম করা মানসম্মত কোনো বিশ্ববিদ্যালয় দেশের বাইরে শাখা ক্যাম্পাস করে বলে আমাদের জানা নেই। যারা ব্যবসা করতে চায় তারাই শুধু শাখা খুলবে।

তিনি আরও বলেন, কোনো প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ই মানসম্মত বলে গ্রহণ করতে আমি রাজি নই। কারণ আমার অভিজ্ঞতা আছে। কাজেই বিদেশি বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাস অনুমোদন দেওয়ার পূর্বে সরকারের উচিত হবে মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিত করা।

ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির উপাচার্য অধ্যাপক ড. ইউসুফ মাহবুবুল ইসলাম বলেন, আমাদের নিজেদের প্রেক্ষাপটটা স্টাডি করা দরকার। আমাদের যে গ্রাজুয়েটরা স্কুল-কলেজ থেকে বের হয় তাদের মান যাচাই করা উচিত।

এদের মধ্যে অনেকেই ইংরেজি লিখতে পারে না, বাংলাও ঠিক মতো পড়তে পারে না। বিদেশি ইউনিভার্সিটি যদি আসে তাহলে তাদের অনেকেই ওইদিকে ভিড়বে। তখন ওই কোয়ালিটি ঢাকা পড়ে যাবে।

তিনি আরও বলেন, এখন উল্লেখযোগ্যসংখ্যক বিদেশি শিক্ষার্থী আমাদের দেশে পড়তে আসে। সরকারের এই সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন হলে বিদেশি শিক্ষার্থীর সংখ্যাও কমবে।

শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও ইউজিসি সূত্রে জানা যায়, শিক্ষা মন্ত্রণালয় ২০১৪ সালের মে মাসে ‘বিদেশি বিশ্ববিদ্যালয় বা প্রতিষ্ঠানের শাখা ক্যাম্পাস বা স্টাডি সেন্টার পরিচালনা বিধিমালা-ছক’ জারি করেছিলো।

ওই সময় ২০টির বেশি বিদেশি বিশ্ববিদ্যালয় বাংলাদেশে শাখা ক্যাম্পাস বা স্টাডি সেন্টার চালুর আবেদন করে। এরমধ্যে তিনটি বিশ্ববিদ্যালয়ের বিষয়ে ইতিবাচক সম্মতি দেয় ইউজিসি।

কিন্তু তখন ওই বিধিমালার বেশকিছু বিধান এমনভাবে ছিল যার সুযোগে যেনতেন বিশ্ববিদ্যালয়ও শাখা খোলার সুযোগ পেত। আবার বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের উদ্যোক্তাদের পক্ষ থেকেও বিদেশি বিশ্ববিদ্যালয়ের শাখা ক্যাম্পাস চালু না করতে নানামুখী চাপ ছিল। এ রকম পরিস্থিতিতে তখন বিদেশি বিশ্ববিদ্যালয়ের শাখা চালুর অনুমোদন দেওয়া বন্ধ করে দেয় শিক্ষা মন্ত্রণালয়।

এদিকে বিদেশি বিশ্ববিদ্যালয়ের শাখা ক্যাম্পাস চালুর উদ্যোগের অংশ হিসেবে পাঁচ বছর আগে করা এ সংক্রান্ত বিধিমালাটি সংশোধনের কাজ শুরু করছে শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (ইউজিসি)।

এ জন্য ৩ সদস্যের একটি কমিটিও করা হয়েছে। ইউজিসির সদস্য অধ্যাপক আখতার হোসেনের নেতৃত্বাধীন কমিটির অপর দুই সদস্য হলেন— শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব আব্দুল্লাহ আল হাসান চৌধুরী ও ইউজিসির সচিব মো. খালেদ। সূত্র জানিয়েছে ইতোমধ্যে তারা সভাও করেছে।

বিধিমালা পর্যালোচনা কমিটির প্রধান অধ্যাপক আখতার হোসেন গণমাধ্যমকে বলেন, শিক্ষার গুণগত মান বিবেচনা করে জাতির বৃহৎ স্বার্থের কথা বিবেচনা করেই বিধিমালার দুর্বলতা দূর করতে কাজ করছেন তারা।

 

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ



সর্বশেষ
সর্বাধিক পঠিত