শিরোনাম

পদোন্নতি হলেও মেলে না পদ

প্রিন্ট সংস্করণ॥আসাদুজ্জামান  |  ১১:৩২, জুন ১৭, ২০১৯

প্রশাসনের বদলি ও পদোন্নতি নিয়মিত ঘটনা। তবে পদোন্নতি পেলেও হতাশা কাটছে না প্রশাসনে, আবার পদোন্নতি না পেয়েও হতাশায় ভুগছে কর্মকর্তারা। যা নিয়ে প্রশাসনের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া রয়েছে।

তৃতীয় মেয়াদে ক্ষমতায় আসা বর্তমান সরকারের সময়ে প্রশাসনে বড় ধরনের পদোন্নতি ঘটেছে গতকাল। জনপ্রশাসনের ১৩৬ কর্মকর্তাকে যুগ্ম সচিব পদে পদোন্নতি দেওয়া হয়েছে। এতে যারা পদোন্নতি পাননি তারা যেমন হতাশ, তেমনি যারা পদোন্নতি পেয়েছেন তারাও দুশ্চিতায়।

তথ্য মতে, একাদশ নির্বাচনের আগে গত ২৪ অক্টোবর সিনিয়র সহকারী সচিব ও সমমর্যাদার ২৫৬ কর্মকর্তাকে উপ-সচিব পদে পদোন্নতি দেয়া হয়। ২৯ আগস্ট ১৬৩ কর্মকর্তাকে অতিরিক্ত সচিব এবং ২০ সেপ্টেম্বর ১৫৪ কর্মকর্তাকে যুগ্ম সচিব পদে পদোন্নতি দেয়া হয়।

এছাড়াও ১৩ সেপ্টেম্বর বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও বিভাগের ৬৪ জন প্রশাসনিক কর্মকর্তা (এও) ও ব্যক্তিগত কর্মকর্তা (পিও) নন-ক্যাডার কোটায় সহকারী সচিব পদে পদোন্নতি পান।

জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৩৬ জনের পদোন্নতির পর যুগ্ম সচিবের মোট সংখ্যা ৯৯৯ জন। তবে যুগ্ম সচিবের নিয়মিত পদের সংখ্যা ৪১১টি। যে কারণে পদোন্নতিপ্রাপ্তদের বিশেষ ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওএসডি) করা হয়েছে।

পদোন্নতিপ্রাপ্ত যুগ্ম সচিবদের পদায়ন করা হয়নি। পদোন্নতিপ্রাপ্তদের মধ্যে ১২ জন জেলা প্রশাসক রয়েছেন যাদের গত ১১ জুন বদলি করা হয়েছিল।
স্থায়ী পদ না থাকায় এমনিতেই অনেক যুগ্ম সচিবকে নিচের পদে কাজ করতে হচ্ছে, এর ওপর নতুন করে পদোন্নতি দেয়া হলো।

পদোন্নতিপ্রাপ্ত বেশিরভাগ যুগ্ম সচিবকে বর্তমান কর্মস্থলে ইনসিটু (উপ-সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করা স্থানে) থাকতে হবে। বদলি হওয়া ডিসিরা নতুন কর্মস্থলে যোগ না দেয়ায় যুগ্ম সচিব হিসেবে পদোন্নতি পাওয়ার পর তাদের ১২ জনকে ইনসিটু (ডিসি হিসেবেই আগের পদে পদায়ন) করা হয়। এরপর বদলি করা আগের স্থানে যুগ্ম সচিব হিসেবে তাদের পদায়ন করা হয়।

অর্থাৎ পদোন্নতি পেলেও কাজ করতে হচ্ছে নিচের পদেই। এছাড়া অতিরিক্ত সচিবের ১২১টি পদের বিপরীতে বর্তমানে ৫১৬ জন কর্মকর্তা রয়েছেন। যাদের অনেকেই সমমর্যাদার নিচের পদে কর্মরত আছেন। যা নিয়ে ঐসব কর্মকর্তাদের ক্ষোভের শেষ নেই। সূত্র মতে, গত এক দশক ধরে সরকারের ধারাবাহিকতা বজায় থাকা সত্ত্বেও জনপ্রশাসনে শৃঙ্খলা, গতিশীলতা আসছে না।

প্রয়োজনীয়সংখ্যক পদ না থাকা সত্ত্ব্বেও প্রশাসনে চলছে গণপদোন্নতি। এমনি অবস্থায় প্রশাসনে স্বাভাবিক কার্যক্রম ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি কর্মকাণ্ডে গতি ব্যাহত হচ্ছে। এ ধরনের গণপদোন্নতি নিয়ে খোদ প্রশাসনেই বিরাজ করছে চরম ক্ষোভ আর অসন্তোষ।

পদোন্নতি হলেও পদ অনুযায়ী দপ্তর পাচ্ছেন না। আর যোগ্যতা থাকা সত্ত্বেও পদোন্নতি না পাওয়ায় কাজে আগ্রহ হারাচ্ছেন অনেক কর্মকর্তা। পদবঞ্চিতদের মধ্যেও এ রকম হতাশা ও ক্ষোভ বিরাজ করছে। সচিবালয়ের বিভিন্ন কর্মকর্তা-কর্মচারীর সাথে আলাপে এসব তথ্য জানা গেছে।

জনপ্রশাসন সূত্র জানায়, ১৯৮৪ সালের বিসিএস কর্মকর্তাদের কয়েকজন সচিব পদমর্যাদায় রয়েছেন। কিন্তু এ ব্যাচের অনেক কর্মকর্তা এখনো উপসচিব রয়ে গেছেন। তাদের প্রায় সবাই হয় রাজনৈতিক, না হয় ব্যাচমেটদের ষড়যন্ত্রের শিকার।

৮৫ ব্যাচের কর্মকর্তাদের মধ্যে বেশ কয়েকজন কর্মকর্তা সচিব হয়েছেন। কিন্তু এ ব্যাচের অনেক কর্মকর্তা এখনো উপসচিব রয়ে গেছেন। এর পর ১৭তম বিসিএস পর্যন্ত যুগ্ম সচিব হিসেবে পদোন্নতি দেওয়া হলেও প্রতিটি ব্যাচেই সংখ্যাগরিষ্ঠ কর্মকর্তাই পদোন্নতিবঞ্চিত হয়ে সিনিয়র সহকারী সচিব হিসেবে কর্মরত আছেন।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে নবম ব্যাচের একজন কর্মকর্তা জানান, প্রশাসনের নিয়োগ ও পদোন্নতির ক্ষেত্রে মানা হচ্ছে না বিদ্যমান বিধিমালা। গুটিকয়েক কর্মকর্তার হাতে বন্দি হয়ে পড়েছে পুরো প্রশাসন। এমন পদোন্নতি দেওয়ায় ব্যাচের অধিকতর জুনিয়র কর্মকর্তারা এখন নীতিনির্ধারক পর্যায়ে।

আমার ব্যাচের কর্মকর্তারা অতিরিক্ত সচিব হিসেবে পদোন্নতি পেলেও আমি এখনো সিনিয়র সহকারী সচিব হিসেবে কাজ করছি। আমি চাকরিতে যোগদান করার পর থেকে সব জায়গাতেই সততার সাথে দায়িত্ব পালন করেছি। কোনো বিভাগীয় মামলা বা অভিযোগ নেই। কিন্তু কোনো রাজনৈতিক লেজুড়বৃত্তি করিনি। এটাই আমার অপরাধ।

জানতে চাইলে জনপ্রশাসনের এক অতিরিক্ত সচিব বলেন, পদোন্নতি যথাযথ নিয়ম অনুযায়ী করা হয়েছে। কোথাও ব্যত্যয় হয়নি। আমি এ বিষয়ে কথা বলার জন্য উপযুক্ত নই। সচিব স্যারের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। গতকাল এ বিষয়ে জনপ্রশাসন সচিব ফয়েজ আহম্মদের সঙ্গে কথা বলার চেষ্টা করে পাওয়া যায়নি।

 

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ
সর্বশেষ
সর্বাধিক পঠিত